Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শনি, এপ্রিল 25, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » গোপন আস্তানা থেকে যেভাবে বার্তা পাঠাচ্ছেন মোজতবা খামেনি
    আন্তর্জাতিক

    গোপন আস্তানা থেকে যেভাবে বার্তা পাঠাচ্ছেন মোজতবা খামেনি

    হাসিব উজ জামানএপ্রিল 25, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ইরানের রাজনীতিতে সর্বোচ্চ নেতা সাধারণত শুধু একজন ব্যক্তি নন; তিনি রাষ্ট্রের আদর্শিক, সামরিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ঘিরে এখন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক অস্বাভাবিক বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে।

    গত মার্চ মাসে দেশটির জ্যেষ্ঠ আলেমদের পরিষদ তাকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেয়। কিন্তু এরপর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার কোনো সরাসরি ভাষণ নেই, কোনো ভিডিও বার্তা নেই, এমনকি কোনো অডিও বক্তব্যও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে—ইরান কি আসলেই একজন সক্রিয় সর্বোচ্চ নেতার অধীনে চলছে, নাকি ক্ষমতার কেন্দ্র ধীরে ধীরে সামরিক কমান্ডারদের হাতে সরে যাচ্ছে?

    এই প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার পর। ওই হামলায় তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কম্পাউন্ড ধ্বংস হয়। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, হামলায় মোজতবা খামেনির বাবা, স্ত্রী ও সন্তান নিহত হন। গুরুতর আহত হলেও মোজতবা বেঁচে যান। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

    গুরুতর আহত, কিন্তু মানসিকভাবে সচেতন—দাবি কর্মকর্তাদের

    মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে ইরানের ভেতরে স্বচ্ছ তথ্য খুব কম। তবে তার চিকিৎসা ও অবস্থা সম্পর্কে জানেন—এমন চারজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, তিনি গুরুতর আহত হলেও মানসিকভাবে সক্রিয় আছেন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোজতবা এখন চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দলের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ রেজা জাফরগান্দী তার চিকিৎসার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। পেজেশকিয়ান নিজেও একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ—এ তথ্যটি পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝায়।

    তার আঘাত শুধু সামান্য নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক পায়ে তিনবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তিনি একটি কৃত্রিম পা ব্যবহারের অপেক্ষায় আছেন। একটি হাতেও অস্ত্রোপচার হয়েছে, যা ধীরে ধীরে সেরে উঠছে। সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো, ২৮ ফেব্রুয়ারির বিমান হামলায় তার মুখমণ্ডল ও ঠোঁট মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। এ কারণে তার প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে এবং কথা বলতেও সমস্যা হচ্ছে।

    এই শারীরিক বাস্তবতা তার রাজনৈতিক উপস্থিতিকেও প্রভাবিত করছে। একজন সর্বোচ্চ নেতা সাধারণত সংকটকালে জাতির সামনে এসে ভাষণ দেন, শাসকগোষ্ঠীকে দিকনির্দেশনা দেন এবং জনগণকে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু মোজতবার ক্ষেত্রে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে—তিনি আছেন, কিন্তু দৃশ্যমান নন; সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন বলা হচ্ছে, কিন্তু সরাসরি শোনা যাচ্ছে না।

    কেন তাকে জনসমক্ষে আনা হচ্ছে না?

    মোজতবা খামেনিকে আড়ালে রাখার পেছনে দুটি বড় কারণ সামনে আসছে। প্রথমত, তার শারীরিক অবস্থা। দ্বিতীয়ত, নিরাপত্তা।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি কর্তৃপক্ষ চাইছে না বিশ্ব তাকে দুর্বল অবস্থায় দেখুক। কোনো অডিও বা ভিডিও বার্তা প্রকাশ না করার পেছনে এই কারণটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ সর্বোচ্চ নেতার ভাবমূর্তি ইরানের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ক্ষমতার একটি বড় অংশ। দুর্বল শরীর, অস্পষ্ট কণ্ঠ বা দৃশ্যমান আঘাত শুধু মানবিক সহানুভূতির বিষয় নয়; তা রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতীকী দুর্বলতা হিসেবেও দেখা হতে পারে।

    দ্বিতীয় কারণটি আরও জটিল। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে তার কাছে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন। সীমিত কয়েকজন মানুষই প্রয়োজন ছাড়া তার কাছে যেতে পারেন। এমনকি ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসির ঊর্ধ্বতন কমান্ডার এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারাও সরাসরি তার সঙ্গে দেখা করতে যান না।

    কারণ হিসেবে সামনে এসেছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সম্ভাব্য নজরদারি ও হামলার আশঙ্কা। ধারণা করা হচ্ছে, খামেনির অবস্থান জানা গেলে তাকে আবার হত্যার চেষ্টা হতে পারে। তার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া কোনো কর্মকর্তা বা বার্তাবাহকের গতিবিধি অনুসরণ করেই গোপন আস্তানার সন্ধান পাওয়া সম্ভব—এমন আশঙ্কা থেকেই নিরাপত্তা বলয় কঠোর রাখা হয়েছে।

    ডিজিটাল যুগে হাতে লেখা চিঠি: নিরাপত্তার পুরোনো কৌশল

    সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো মোজতবা খামেনির যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রযুক্তির যুগে যেখানে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত মুহূর্তে এনক্রিপ্টেড চ্যানেল, স্যাটেলাইট যোগাযোগ বা নিরাপদ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা যায়, সেখানে তার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে হাতে লেখা চিঠি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার কাছে বার্তা পৌঁছানো এবং তার কাছ থেকে নির্দেশনা নেওয়ার প্রধান মাধ্যম এখন হাতে লেখা চিঠি। এই চিঠি আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যন্ত বিশ্বস্ত বার্তাবাহকদের একটি মানবশৃঙ্খল।

    বার্তাবাহকরা কখনো গাড়িতে, কখনো মোটরসাইকেলে, আবার কখনো পায়ে হেঁটে বিভিন্ন অলিগলি ঘুরে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছান। উদ্দেশ্য একটাই—ডিজিটাল নজরদারি এড়ানো। ফোনকল, ইন্টারনেট, রেডিও বা স্যাটেলাইট যোগাযোগে যে ধরনের সিগন্যাল ট্র্যাকিংয়ের ঝুঁকি থাকে, হাতে লেখা চিঠিতে তা কম।

    এই পদ্ধতি আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অস্বাভাবিক হলেও যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা বিবেচনায় তা অপ্রাসঙ্গিক নয়। বরং এটি দেখায়, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন এমন এক পর্যায়ে আছে, যেখানে দ্রুততার চেয়ে গোপনীয়তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    তার নির্দেশিত লিখিত বার্তাগুলোই অনলাইনে প্রকাশ করা হচ্ছে অথবা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠ করা হচ্ছে। কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে যায়—এই বার্তাগুলো কতটা তার নিজের সিদ্ধান্ত, আর কতটা তার চারপাশে থাকা ক্ষমতাকেন্দ্রের তৈরি করা অবস্থান?

    ক্ষমতার ফাঁকা জায়গায় জেনারেলদের উত্থান

    মোজতবা খামেনির আত্মগোপন ও শারীরিক অক্ষমতা ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এই অবস্থায় আইআরজিসি জেনারেলদের প্রভাব বেড়েছে।

    মোজতবার সঙ্গে আইআরজিসির সম্পর্ক নতুন নয়। কিশোর বয়সে ইরান-ইরাক যুদ্ধে তিনি যেসব সামরিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলেছিলেন, পরবর্তী সময়ে তাদের অনেকেই ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর প্রভাবশালী মুখ হয়ে ওঠেন। বাবার কম্পাউন্ডে সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রম সমন্বয়ের কাজও মোজতবার সঙ্গে সামরিক ও গোয়েন্দা নেতৃত্বের সম্পর্ক দৃঢ় করে।

    কিন্তু সমস্যা হলো, সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মর্যাদা তার বাবার মতো নয়। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি কয়েক দশক ধরে ইরানের ক্ষমতার কাঠামো গড়ে তুলেছিলেন। তার হাতে ছিল ধর্মীয় বৈধতা, বিপ্লবী ঐতিহ্য, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের নেটওয়ার্ক। মোজতবা সেই জায়গায় নতুন। তার ওপর শারীরিক দুর্বলতা ও গোপন অবস্থান তাকে আরও নির্ভরশীল করে তুলেছে।

    এখানেই আইআরজিসির প্রভাব বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তারা শুধু সামরিক বাহিনী নয়; ইরানের অর্থনীতি, নিরাপত্তা, কূটনীতি এবং আঞ্চলিক কৌশল—সব ক্ষেত্রেই তাদের ভূমিকা রয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ নেতার সরাসরি উপস্থিতি দুর্বল হলে স্বাভাবিকভাবেই জেনারেলরা সিদ্ধান্তের কেন্দ্রের কাছে চলে আসেন।

    সর্বোচ্চ নেতা, নাকি বোর্ডের চেয়ারম্যান?

    ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের উপদেষ্টা আবদোলরেজা দাভারি পরিস্থিতিকে একটি কোম্পানির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার মতে, মোজতবা যেন বোর্ডের পরিচালক; আর মূল সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছেন বোর্ড সদস্যরা, অর্থাৎ আইআরজিসি জেনারেলরা।

    এই তুলনাটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ইরানের মতো ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতা সাধারণত চূড়ান্ত নির্দেশদাতা। কিন্তু যদি তিনি কেবল অনুমোদনদাতা হয়ে যান, তাহলে ক্ষমতার বাস্তব কেন্দ্র বদলে যায়। তখন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের দায় ও নিয়ন্ত্রণ এক ব্যক্তির হাতে না থেকে সামরিক-নিরাপত্তা গোষ্ঠীর হাতে ছড়িয়ে পড়ে।

    ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক আলি ভায়েজ বলেছেন, মোজতবা নামেমাত্র নেতা হলেও বাবার মতো সর্বময় ক্ষমতা তার নেই। ক্ষমতায় টিকে থাকতে তিনি এখন আইআরজিসির ওপর নির্ভরশীল।

    অন্যদিকে ব্রিটিশ থিঙ্ক ট্যাঙ্ক রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক সনম ভাকিলের পর্যবেক্ষণ আরও সরাসরি। তার মতে, মোজতবা এখনও নিজে থেকে কমান্ড বা নির্দেশনা দেওয়ার অবস্থায় নেই। জেনারেলরা সিদ্ধান্ত তৈরি করে তার সামনে উপস্থাপন করেন, আর তিনি তাতে অনুমোদন দেন।

    এই বিশ্লেষণগুলো সত্য হলে ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোতে একটি বড় পরিবর্তন ঘটছে। বাইরে থেকে সর্বোচ্চ নেতার পদ অক্ষত থাকলেও ভেতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র সামরিক নেতৃত্বের দিকে সরে যাচ্ছে।

    রাষ্ট্র চালাচ্ছে কে—এই প্রশ্ন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

    সিএনএনের প্রতিবেদনে একটি বড় অনিশ্চয়তার কথা বলা হয়েছে। মোজতবা খামেনি যদি গুরুতর আহত বা শারীরিকভাবে অক্ষম হন, তাহলে তার অধীনস্তরা আসলেই তার কাছ থেকে পরিষ্কার নির্দেশনা পাচ্ছেন কি না—তা নিশ্চিত নয়। তারা কি তার মতামত জানছেন, নাকি তার নামে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন? এই প্রশ্ন ইরানের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের বিশেষজ্ঞ হামিদরেজা আজিজির মতে, ইরানের প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা বদলে গেছে। আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করে সর্বোচ্চ নেতার কাছে নোট পাঠাত। কিন্তু এখন মোজতবার কাছে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হওয়ায় অন্য কর্মকর্তাদের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বেড়েছে।

    এতে দুটি ঝুঁকি তৈরি হয়। প্রথমত, নীতিনির্ধারণে সমন্বয় কমে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, কঠোরপন্থী সামরিক গোষ্ঠী বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই দুই ঝুঁকিই বড়।

    ইরানের ভেতরে বৈধতার সংকট তৈরি হতে পারে

    মোজতবা খামেনির নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু শারীরিক নয়; রাজনৈতিক বৈধতাও। তিনি যদি দীর্ঘদিন জনসমক্ষে না আসেন, জনগণের সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগাযোগ না করেন এবং কেবল লিখিত বার্তার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, তাহলে তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন বাড়বে।

    ইরানের জনগণ, শাসক এলিট, সামরিক বাহিনী এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান—সবাই দেখতে চাইবে, তিনি কতটা সক্ষম। শুধু নাম ঘোষণাই যথেষ্ট নয়। সর্বোচ্চ নেতার আসন ধরে রাখতে হলে তাকে রাজনৈতিক সংকট সামলাতে হবে, বিভিন্ন ক্ষমতাকেন্দ্রের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রাষ্ট্রের অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে।

    কিন্তু যদি তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল থাকেন এবং নিরাপত্তার কারণে গোপনে থাকতে বাধ্য হন, তাহলে তার ব্যক্তিগত কর্তৃত্ব তৈরি করা কঠিন হবে। তখন আইআরজিসির ওপর নির্ভরতা আরও বাড়বে। আর এই নির্ভরতা একসময় তাকে ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিতে পারে।

    সামনে কী হতে পারে?

    মোজতবা খামেনি ভবিষ্যতে প্রকাশ্যে এসে ক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেবেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তিনি সুস্থ হয়ে দৃশ্যমান নেতৃত্ব নিতে পারলে ইরানের ক্ষমতা কাঠামো কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন আড়ালে থাকলে তার অবস্থান দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

    অন্যদিকে জেনারেলরা যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে যান, তাহলে তারা সহজে সেই প্রভাব ছাড়বেন না। তখন মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতা থাকলেও বাস্তব ক্ষমতা সামরিক নেতৃত্বের হাতে থেকে যেতে পারে।

    এ কারণে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একজন আহত নেতার ব্যক্তিগত সংকট নয়; এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসেরও সংকেত। প্রশ্নটি তাই শুধু “মোজতবা খামেনি কোথায়”—এ নয়। আসল প্রশ্ন হলো, তার অনুপস্থিতিতে ইরানকে কে চালাচ্ছে?

    মোজতবা খামেনির রহস্যময় অবস্থান ইরানের রাজনীতিকে আরও অস্বচ্ছ করে তুলেছে। হাতে লেখা চিঠি, মানবশৃঙ্খলের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান, জনসমক্ষে অনুপস্থিতি এবং আইআরজিসি জেনারেলদের বাড়তি প্রভাব—সব মিলিয়ে ইরান এখন এক অদ্ভুত ক্ষমতা-পর্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

    তিনি হয়তো কাগজে-কলমে সর্বোচ্চ নেতা। কিন্তু বাস্তব রাজনীতিতে তার নেতৃত্ব কতটা কার্যকর, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আগামী দিনগুলোতে তিনি প্রকাশ্যে আসতে পারেন কি না, নিজের কণ্ঠে জাতিকে বার্তা দিতে পারেন কি না, এবং জেনারেলদের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারেন কি না—এসব প্রশ্নই ইরানের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার পথ নির্ধারণ করবে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    আমেরিকাহীন ইউরোপের নতুন বাস্তবতা

    এপ্রিল 25, 2026
    আন্তর্জাতিক

    খাদ্য সংকটের কেন্দ্রে বাংলাদেশসহ ১০ দেশ

    এপ্রিল 25, 2026
    আন্তর্জাতিক

    স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ

    এপ্রিল 25, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.