Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শনি, মে 2, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৫ বিলিয়ন ডলার
    আন্তর্জাতিক

    ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৫ বিলিয়ন ডলার

    নিউজ ডেস্কUpdated:এপ্রিল 30, 2026এপ্রিল 30, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    ট্রাম্প
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শুধু সামরিক সংঘাত নয়, এখন এটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের কারণ হয়ে উঠছে। পেন্টাগনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গতকাল বুধবার জানিয়েছেন, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের খরচ দাঁড়িয়েছে ২৫ বিলিয়ন ডলারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতের সামরিক ব্যয় নিয়ে এটিই এখন পর্যন্ত প্রথম সরকারি হিসাব।

    এই সংখ্যাটি শুধু একটি সামরিক ব্যয়ের হিসাব নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম, কৃষিপণ্যের বাজার এবং সাধারণ ভোটারদের দৈনন্দিন জীবনের চাপ। ফলে ইরান যুদ্ধ এখন যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও ওয়াশিংটনের ক্ষমতার লড়াইয়ের কেন্দ্রে চলে এসেছে।

    ২০২৬ সালের ৫ মার্চ মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন নৌসেনারা। সেই দৃশ্য যেন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। পেন্টাগন এরই মধ্যে ওই অঞ্চলে ১০ হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে এবং বর্তমানে তিনটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রেখেছে।

    ব্যয়ের বড় অংশ গোলাবারুদে

    হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বর্তমানে কম্পট্রোলারের দায়িত্বে থাকা জুলস হার্স্ট জানান, ২৫ বিলিয়ন ডলারের এই ব্যয়ের বড় অংশই গেছে গোলাবারুদের পেছনে। তবে এই হিসাবের ভেতরে ঠিক কী কী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তা তিনি পরিষ্কার করে বলেননি।

    এখানেই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন। যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটিগুলো মেরামত ও পুনর্নির্মাণে সম্ভাব্য যে খরচ লাগতে পারে, সেটি এই হিসাবের মধ্যে আছে কি না, তা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে ২৫ বিলিয়ন ডলারই কি মোট ব্যয়ের কাছাকাছি, নাকি প্রকৃত ব্যয় আরও বেশি হতে পারে—এই সন্দেহ এখনো রয়ে গেছে।

    গত মাসে রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে একটি সূত্র জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল। সেই তথ্যের সঙ্গে নতুন সরকারি হিসাব মিলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, যুদ্ধের আর্থিক চাপ খুব দ্রুত বাড়ছে এবং এর প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে এখনো যথেষ্ট অস্বচ্ছতা আছে।

    নাসার বাজেটের সমান যুদ্ধব্যয়

    ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে—এই সংখ্যাটি কত বড়, তা বোঝার জন্য একটি তুলনাই যথেষ্ট। এই ব্যয় নাসার চলতি বছরের বাজেটের সমান। অর্থাৎ মহাকাশ গবেষণা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ উদ্ভাবনের জন্য যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকে, প্রায় একই পরিমাণ অর্থ ইতোমধ্যে একটি যুদ্ধের পেছনে ব্যয় হয়েছে।

    এই তুলনা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিতর্ককে আরও তীব্র করছে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন, সাধারণ মানুষ যখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচে চাপে আছে, তখন এত বিপুল সামরিক ব্যয় কতটা গ্রহণযোগ্য। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যয় প্রয়োজন।

    হেগসেথের যুক্তি: নিরাপত্তার মূল্য দিতে হবে

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তাঁর মতে, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যয়কে অযৌক্তিক বলা যায় না।

    তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, ইরানের হাতে যেন পারমাণবিক বোমা না যায়, তা নিশ্চিত করতে আইনপ্রণেতারা কত মূল্য দিতে প্রস্তুত? এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি মূলত যুদ্ধের ব্যয়কে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছেন।

    তবে তাঁর বক্তব্য কংগ্রেসে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ডেমোক্র্যাট সদস্যরা যখন ইরান যুদ্ধকে দীর্ঘমেয়াদি ফাঁদ বা চোরাবালি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছেন, তখন হেগসেথ সেই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বিরোধীদের কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য শত্রুদের হাতে প্রচারণার অস্ত্র তুলে দেয়।

    ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্যারামেন্ডির বক্তব্যের জবাবে হেগসেথ বলেন, তিনি যদি এটিকে চোরাবালি বলেন, তবে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের জন্য সুবিধাজনক প্রচারণা হয়ে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটদের বেপরোয়া, অকর্মণ্য এবং পরাজয়বাদী বলেও সমালোচনা করেন।

    ডেমোক্র্যাটদের হাতে নতুন রাজনৈতিক অস্ত্র

    যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে হাতে আছে মাত্র ছয় মাস। এই সময়টাতে রিপাবলিকানরা হাউসে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে চায়। কিন্তু জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে থাকায় রিপাবলিকান শিবিরে চাপ বাড়ছে।

    ডেমোক্র্যাটরা এখন ইরান যুদ্ধের বিপুল ব্যয়কে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে যুক্ত করে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তাদের বক্তব্য, যুদ্ধের খরচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়ছে। ফলে যুদ্ধ আর শুধু পররাষ্ট্রনীতি বা নিরাপত্তার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন রান্নাঘর, বাজার, পেট্রোল পাম্প ও ভোটকেন্দ্রের আলোচনায় ঢুকে পড়েছে।

    হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ জুলস হার্স্টের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তিনি খুশি যে অবশেষে প্রশ্নটির উত্তর পাওয়া গেছে। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে এই তথ্য জানতে চাওয়া হলেও এতদিন কেউ স্পষ্ট তথ্য দেয়নি।

    এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে কংগ্রেসে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ জমছিল। পেন্টাগনের আনুষ্ঠানিক হিসাব সেই অসন্তোষ কমানোর বদলে বরং নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

    যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতি

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করে। বর্তমানে উভয় পক্ষ একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যুদ্ধবিরতি থাকলেও উত্তেজনা কমেনি। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও রণতরী মোতায়েন তারই ইঙ্গিত দেয়।

    ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সৈন্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েকশ সেনা। এই মানবিক ক্ষয়ক্ষতি যুদ্ধবিরোধী মনোভাবকে আরও জোরালো করতে পারে। কারণ যুদ্ধের আর্থিক ব্যয় যেমন বড়, তেমনি সৈন্যদের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনাও সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়।

    যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই এই প্রশ্ন সামনে আসবে—যুক্তরাষ্ট্র কি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে সীমিত সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, নাকি ধীরে ধীরে এমন এক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে যেখান থেকে বের হওয়া কঠিন হবে?

    জ্বালানি বাজারে চাপ, সাধারণ মানুষের কষ্ট

    ইরান যুদ্ধের আরেক বড় প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বেড়েছে।

    আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম গত প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভোটারদের কাছে পেট্রোলের দাম অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। কারণ এটি সরাসরি দৈনন্দিন চলাচল, পণ্য পরিবহন, কৃষি উৎপাদন ও বাজারদরের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    শুধু জ্বালানি নয়, উচ্চ বাজারদরের তালিকায় সারসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যও যুক্ত হয়েছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত খাদ্যপণ্যের দামেও পড়তে পারে। ফলে যুদ্ধের ব্যয় শুধু পেন্টাগনের হিসাবপত্রে সীমাবদ্ধ থাকছে না; তা সাধারণ মানুষের পকেটেও চাপ তৈরি করছে।

    মূল্যস্ফীতি রিপাবলিকানদের জন্য বড় ঝুঁকি

    যুক্তরাষ্ট্রে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ভোটারদের কাছে বরাবরই বড় ইস্যু। বর্তমান ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি রিপাবলিকান শিবিরের ভেতর অস্থিরতা বাড়িয়েছে। নভেম্বরের নির্বাচনে হাউস ও সেনেটে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, মূল্যস্ফীতি তা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও কৃষিপণ্যের দাম বাড়লে বিরোধীরা সহজেই বলতে পারবে, প্রশাসনের যুদ্ধনীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। এই রাজনৈতিক বার্তা ভোটারদের কাছে শক্তিশালী হতে পারে, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মধ্যে।

    রিপাবলিকানদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দিয়ে যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেওয়া গেলেও বাজারের উচ্চ দামকে ব্যাখ্যা করা কঠিন। ভোটাররা নিরাপত্তা নিয়ে ভাবেন, কিন্তু তারা একই সঙ্গে নিজের গাড়িতে পেট্রোল ভরার খরচ, বাজারের বিল এবং পরিবারের মাসিক ব্যয়ও হিসাব করেন।

    ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৪ শতাংশ আমেরিকান ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। এপ্রিলের মাঝামাঝি এই সমর্থন ছিল ৩৬ শতাংশ। মার্চের মাঝামাঝি ছিল ৩৮ শতাংশ।

    এই ধারাবাহিক পতন দেখায়, যুদ্ধের পক্ষে জনসমর্থন ধীরে ধীরে কমছে। যুদ্ধের প্রথম দিকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কিছু মানুষ প্রশাসনের পাশে দাঁড়ালেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যয়, প্রাণহানি, মূল্যস্ফীতি এবং অনিশ্চয়তা জনমতকে বদলে দিচ্ছে।

    এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুতর সতর্কবার্তা। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক শক্তি প্রদর্শন এক বিষয়, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে জনসমর্থন ধরে রাখা আরেক বিষয়। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে যুদ্ধ যদি অর্থনৈতিক কষ্টের প্রতীকে পরিণত হয়, তবে তা রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

    সামরিক লক্ষ্য বনাম রাজনৈতিক বাস্তবতা

    ইরান যুদ্ধের মূল যুক্তি হিসেবে পেন্টাগন ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখা জরুরি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই লক্ষ্য অর্জনের পথ কত দীর্ঘ, কত ব্যয়বহুল এবং কত ঝুঁকিপূর্ণ?

    যদি যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হয়, তবে ২৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাব আরও বাড়তে পারে। যদি যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়, তবে অতিরিক্ত সেনা, রণতরী, গোলাবারুদ, ঘাঁটি মেরামত ও চিকিৎসা ব্যয় নতুন করে চাপ তৈরি করবে। আবার যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের ধৈর্য আরও কমতে পারে।

    এখানেই প্রশাসনের সবচেয়ে বড় সংকট। একদিকে তারা যুদ্ধকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। অন্যদিকে বিরোধীরা এটিকে ব্যয়বহুল, অনিশ্চিত এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে যুক্ত এক সংঘাত হিসেবে দেখাতে চাইছে।

    সামনে কী হতে পারে

    ইরান যুদ্ধ এখন এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক তিনটি চাপ একসঙ্গে কাজ করছে। পেন্টাগন ২৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাব দিলেও প্রকৃত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বেড়েছে। জ্বালানি বাজারে চাপ আছে। পেট্রোলের দাম প্রায় চার বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। জনসমর্থন কমছে। আর নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে।

    এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে কঠিন হিসাব। তারা কি যুদ্ধকে সীমিত রাখতে পারবে? ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে বিরত রাখার লক্ষ্য কি সামরিক ব্যয় ও রাজনৈতিক ক্ষতির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ভোটারদের বোঝানো যাবে? নাকি ডেমোক্র্যাটরা যুদ্ধের খরচকে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার সংকটের সঙ্গে জুড়ে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী দুর্বলতায় পরিণত করবে?

    উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—ইরান যুদ্ধের আসল মূল্য শুধু পেন্টাগনের হিসাবের ২৫ বিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ নয়। এর মূল্য মাপা হবে জনমত, বাজারদর, সৈন্যদের প্রাণহানি এবং আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলেও।

    সিভি/এইচএম

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    মধ্যপ্রাচ্যে ৮.৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

    মে 2, 2026
    আন্তর্জাতিক

    কোন দেশে কত মার্কিন ঘাঁটি, এর পেছনের কারণ কী

    মে 2, 2026
    আন্তর্জাতিক

    হরমুজ অবরোধে ইরানকে ‘বাঁচাল’ পাকিস্তান, খুলল নতুন স্থলপথ

    মে 2, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.