Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শনি, মে 2, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » কোন দেশে কত মার্কিন ঘাঁটি, এর পেছনের কারণ কী
    আন্তর্জাতিক

    কোন দেশে কত মার্কিন ঘাঁটি, এর পেছনের কারণ কী

    নিউজ ডেস্কUpdated:মে 2, 2026মে 2, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব শুধু অর্থনীতি, কূটনীতি বা প্রযুক্তির ওপর দাঁড়িয়ে নেই। এর পেছনে আছে বিশাল এক সামরিক কাঠামো, যা পৃথিবীর নানা অঞ্চলে ছড়িয়ে আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি বৈশ্বিক সামরিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যা আজ বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তৃত সামরিক উপস্থিতির একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।

    প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭৫০টির মতো সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। বিদেশে মোতায়েন মার্কিন সেনা ও বেসামরিক কর্মীর সংখ্যা ২ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি। এই সংখ্যা শুধু সামরিক শক্তির হিসাব নয়; বরং এটি দেখায়, যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বিভিন্ন মহাদেশে নিজের রাজনৈতিক, কৌশলগত ও নিরাপত্তা প্রভাব ধরে রাখতে চায়।

    যুক্তরাষ্ট্রের এসব ঘাঁটি কেবল যুদ্ধের জন্য তৈরি হয়নি। এগুলো ব্যবহার করা হয় দ্রুত সেনা মোতায়েন, গোয়েন্দা নজরদারি, আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তা, নৌ ও বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির ওপর চাপ বজায় রাখার জন্য। তাই মার্কিন সামরিক ঘাঁটির মানচিত্র আসলে বিশ্বক্ষমতার মানচিত্রের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।

    বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেটওয়ার্ক।

    ইউরোপ: ন্যাটো নিরাপত্তা কাঠামোর কেন্দ্র

    ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সবচেয়ে পুরোনো এবং সবচেয়ে সংগঠিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে মার্কিন অবস্থান শুরু হলেও শীতল যুদ্ধের সময় তা আরও শক্তিশালী হয়। বর্তমানে জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও স্পেন—এই দেশগুলো ইউরোপে মার্কিন সামরিক কাঠামোর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।

    জার্মানিতে বর্তমানে প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। ইউরোপে এটিই সবচেয়ে বড় মার্কিন সেনা উপস্থিতি। জার্মানির রামস্টেইন বিমানঘাঁটি, স্টুটগার্টে ইউরোপ ও আফ্রিকা কমান্ডের সদর দপ্তর এবং ল্যান্ডস্টুল সামরিক হাসপাতাল—এসব স্থাপনা শুধু ইউরোপের জন্য নয়, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

    ইতালিতে প্রায় ১৩ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। স্পেনে রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ সেনা। স্পেনের রোটা নৌঘাঁটি এবং মোরন বিমানঘাঁটি ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের চলাচল, নজরদারি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।

    যুক্তরাজ্যেও ১৫টিরও বেশি ঘাঁটিতে প্রায় ১২ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে। এসব ঘাঁটি নজরদারি, বিমান অভিযান প্রস্তুতি এবং পারমাণবিক সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

    সব মিলিয়ে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিকও। ন্যাটো জোটের নিরাপত্তা কাঠামোর বড় অংশ এই মার্কিন উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ায় এই উপস্থিতির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

    এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চল: চীন ও উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে কৌশল

    এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি মূলত চীন ও উত্তর কোরিয়াকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সমুদ্রপথে প্রভাব ধরে রাখা এবং চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিকে ভারসাম্যে রাখা।

    জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তথ্য অনুযায়ী, জাপানে প্রায় ১২০টি মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে এবং সেখানে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে। জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেখানে মার্কিন নৌ ও বিমানঘাঁটির বড় উপস্থিতি রয়েছে।

    দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক প্রতিরোধনীতির অংশ হিসেবে দেখা হয়। দেশটিতে অবস্থিত ক্যাম্প হামফ্রিজ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বিদেশি সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

    গুয়াম, ফিলিপাইন, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরেও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উপস্থিতি আছে। এসব অবস্থান প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ চীন সাগর এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত চলাচলকে সহজ করে।

    এই অঞ্চলকে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের কেন্দ্র বলা হয়। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পারছে, ভবিষ্যতের বড় ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সম্ভবত এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলে আরও তীব্র হবে। তাই এখানকার সামরিক ঘাঁটিগুলো শুধু বর্তমান নিরাপত্তার জন্য নয়, ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

    ছবি: আলজাজিরা

    মধ্যপ্রাচ্য: যুদ্ধ, জ্বালানি ও প্রভাবের রাজনীতি

    মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো একদিকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক প্রভাব রক্ষার বড় হাতিয়ার।

    কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি। সেখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। এটি সেন্টকমের অগ্রবর্তী সদর দপ্তর হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রম সমন্বয়ে এই ঘাঁটির গুরুত্ব অনেক।

    বাহরাইনে রয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর। পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা, নৌ চলাচল এবং জ্বালানি পরিবহন রুট পর্যবেক্ষণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, জর্ডান ও ইরাকেও যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এসব ঘাঁটি ব্যবহার করা হয় গোয়েন্দা কার্যক্রম, আঞ্চলিক নজরদারি, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং মিত্র রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা সহায়তায়।

    মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্ব শুধু সামরিক নয়; অর্থনৈতিকও। বিশ্বের জ্বালানি বাজারের বড় অংশ এই অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত। তাই এখানে মার্কিন উপস্থিতি সরাসরি তেল, গ্যাস, সমুদ্রপথ এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    আফ্রিকা: কম ঘাঁটি, কিন্তু বড় কৌশলগত গুরুত্ব

    আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ইউরোপ বা এশিয়ার তুলনায় সীমিত। তবে এর কৌশলগত গুরুত্ব কম নয়। আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠী, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির প্রভাব বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখানে নিজের উপস্থিতি ধরে রেখেছে।

    জিবুতির ক্যাম্প লেমনিয়ে আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি। সেখানে ৪ হাজারের বেশি সেনা রয়েছে। এই ঘাঁটি আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চল, লোহিত সাগর, আরব উপদ্বীপ এবং ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত সামরিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ।

    কেনিয়া, সোমালিয়া ও নাইজারের মতো দেশেও যুক্তরাষ্ট্রের ছোট ছোট সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এগুলো মূলত ড্রোন কার্যক্রম, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ব্যবহৃত হয়।

    আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি আরেকটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। চীন ও রাশিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকায় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ফলে আফ্রিকাও এখন বৈশ্বিক ক্ষমতার প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

    লাতিন আমেরিকা ও অন্যান্য অঞ্চল

    লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। কিউবার গুয়ানতানামো বে ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরোনো বিদেশি সামরিক স্থাপনাগুলোর একটি। সেখানে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার সেনা রয়েছে।

    এ ছাড়া গ্রিনল্যান্ড, কানাডা এবং বিভিন্ন দ্বীপাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ ব্যবস্থা রয়েছে। এসব স্থাপনা আর্কটিক অঞ্চল, উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা এবং দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    আর্কটিক অঞ্চলের গুরুত্বও দিন দিন বাড়ছে। বরফ গলতে থাকায় নতুন সমুদ্রপথ, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং সামরিক নজরদারির প্রশ্ন সামনে আসছে। তাই গ্রিনল্যান্ড ও উত্তরাঞ্চলীয় স্থাপনাগুলো ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    কেন এত বড় সামরিক নেটওয়ার্ক?

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির এই বিশাল নেটওয়ার্কের পেছনে কয়েকটি বড় কারণ আছে।

    প্রথমত, দ্রুত সামরিক প্রতিক্রিয়া। বিশ্বের কোনো অঞ্চলে যুদ্ধ, সংকট বা সংঘাত দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র দূর থেকে সেনা পাঠানোর বদলে কাছাকাছি ঘাঁটি ব্যবহার করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে।

    দ্বিতীয়ত, মিত্রদের নিরাপত্তা। ইউরোপে ন্যাটো, এশিয়ায় জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া, মধ্যপ্রাচ্যে উপসাগরীয় মিত্র—এসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সম্পর্ক সামরিক ঘাঁটির মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়।

    তৃতীয়ত, বাণিজ্য ও জ্বালানি রুটের নিয়ন্ত্রণ। পারস্য উপসাগর, দক্ষিণ চীন সাগর, ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগর—এসব অঞ্চল বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব জায়গায় সামরিক উপস্থিতি মানে শুধু নিরাপত্তা নয়, প্রভাবও।

    চতুর্থত, প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিকে ঠেকানো। চীন, রাশিয়া, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তির প্রভাব সীমিত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র তার ঘাঁটিগুলোকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে।

    পঞ্চমত, গোয়েন্দা ও নজরদারি সুবিধা। অনেক ঘাঁটি সরাসরি যুদ্ধের জন্য নয়, বরং তথ্য সংগ্রহ, যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ, আকাশপথ নজরদারি এবং ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত হয়।

    ঘাঁটি কমছে, নাকি নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে?

    সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার মতো ঘটনা প্রশ্ন তুলেছে—যুক্তরাষ্ট্র কি বিদেশে সামরিক উপস্থিতি কমাচ্ছে? বিষয়টি সরল নয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো ঘাঁটি কমিয়ে নতুন কৌশলগত অঞ্চলে গুরুত্ব বাড়াচ্ছে। অর্থাৎ সামরিক উপস্থিতি পুরোপুরি কমানো নয়, বরং পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।

    আগে যেখানে ইউরোপ ছিল প্রধান কেন্দ্র, এখন এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চল ক্রমেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। চীনের উত্থান, তাইওয়ান প্রশ্ন, দক্ষিণ চীন সাগর এবং উত্তর কোরিয়ার সামরিক কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রকে এ অঞ্চলে আরও সক্রিয় হতে বাধ্য করছে।

    একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বড় যুদ্ধের বদলে এখন ঘাঁটি, বিমান শক্তি, ড্রোন, গোয়েন্দা তথ্য এবং মিত্র বাহিনীর সহায়তার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে।

    ইরান যুদ্ধ ও নতুন প্রশ্ন

    সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে এত বড় সামরিক অবকাঠামো থাকার অর্থ হলো, কোনো বড় সংঘাত হলে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।

    তবে এর ঝুঁকিও আছে। বিদেশি ঘাঁটি শুধু শক্তির প্রতীক নয়, কখনো কখনো আক্রমণের লক্ষ্যও হতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ বা এশিয়ার ঘাঁটিগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে যেমন সুবিধা দেয়, তেমনি নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখেও ফেলে।

    আরেকটি বিষয় হলো মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক। অনেক দেশ মার্কিন নিরাপত্তা ছাতার ওপর নির্ভর করলেও, একই সঙ্গে নিজেদের ভূখণ্ডে বিদেশি সেনা উপস্থিতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়ে। জাপানের ওকিনাওয়া, জার্মানির কিছু এলাকা বা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে এই বিতর্ক বহুদিনের।

    সামরিক ঘাঁটি আসলে কী বোঝায়?

    যুক্তরাষ্ট্রের ৮০টিরও বেশি দেশে প্রায় ৭৫০টি সামরিক ঘাঁটি থাকার অর্থ শুধু এই নয় যে দেশটি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যবস্থার নানা গুরুত্বপূর্ণ বিন্দুতে নিজের উপস্থিতি স্থায়ী করেছে।

    এই উপস্থিতির মাধ্যমে ওয়াশিংটন একদিকে মিত্রদের আশ্বস্ত করে, অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বার্তা দেয় যে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে তার নজর আছে। তাই মার্কিন ঘাঁটি আসলে কূটনীতি, সামরিক শক্তি, অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির মিলিত রূপ।

    বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও সেনা মোতায়েন বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি বড় বাস্তবতা। ইউরোপে ন্যাটো নিরাপত্তা, এশিয়ায় চীন ও উত্তর কোরিয়া মোকাবিলা, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি ও আঞ্চলিক ভারসাম্য, আফ্রিকায় সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম—সব ক্ষেত্রেই মার্কিন ঘাঁটির ভূমিকা আছে।

    তবে প্রশ্ন হলো, এই বিশাল সামরিক কাঠামো ভবিষ্যতে কোন দিকে যাবে? যুক্তরাষ্ট্র কি আগের মতো বিশ্বজুড়ে সরাসরি সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখবে, নাকি নতুনভাবে অঞ্চলভিত্তিক কৌশল সাজাবে?

    একটি বিষয় স্পষ্ট—মার্কিন ঘাঁটি শুধু সামরিক স্থাপনা নয়। এগুলো বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব, ক্ষমতা, নিরাপত্তা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতীক। তাই যুক্তরাষ্ট্র কোথায় ঘাঁটি রাখছে, কোথা থেকে সেনা সরাচ্ছে, আর কোথায় নতুনভাবে শক্তি বাড়াচ্ছে—এসবই আগামী দিনের আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হয়ে থাকবে।

     

    সিভি/এইচএম

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    মধ্যপ্রাচ্যে ৮.৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

    মে 2, 2026
    আন্তর্জাতিক

    হরমুজ অবরোধে ইরানকে ‘বাঁচাল’ পাকিস্তান, খুলল নতুন স্থলপথ

    মে 2, 2026
    আন্তর্জাতিক

    মধ্যপ্রাচ্যে ৮ দেশে মার্কিন ১৬ ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

    মে 2, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.