বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির চাপের মধ্যেই বড় এক স্বস্তির খবর দিয়েছে চীন। দেশটি জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে নিজেদের ভূখণ্ডে ২২৫টি নতুন তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে—যা তাদের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।
চীনের প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব নতুন ক্ষেত্রের মধ্যে ১৩টি তেলক্ষেত্রে ১০০ মিলিয়ন টনের বেশি মজুত রয়েছে। পাশাপাশি ২৬টি গ্যাসক্ষেত্রে ১০০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এই সম্পদের কতটা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারযোগ্য, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
সরকারি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই নতুন আবিষ্কার দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
গত এক দশকে নিজেদের জ্বালানি মজুত বাড়াতে চীন ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের মজুত প্রায় দ্বিগুণ করতে ৪৫০ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এই বিনিয়োগ এখন বাস্তব ফল দিতে শুরু করেছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই ঘোষণা এমন এক সময় এলো, যখন হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে সেখানে কোনো অস্থিরতা তৈরি হলে তা সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীন দীর্ঘদিন ধরেই বাইরের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাচ্ছে। তাদের আমদানি করা তেলের একটি অংশ আসে ইরান থেকে, তবে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই সরবরাহও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জ্বালানি খাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে সরবরাহ নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কৌশলগত প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই আবিষ্কার শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকে নয়, বরং ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জ্বালানিতে স্বনির্ভরতা বাড়াতে পারলে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় দেশটি আরও শক্ত অবস্থান নিতে পারবে।
সিভি/এইচএম

