ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জানজান প্রদেশে অবিস্ফোরিত বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন সদস্য ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর। আহত হয়েছেন আরও দুজন। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১ মার্চ), যখন দীর্ঘদিন ধরে চলা বিস্ফোরক অপসারণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশেষজ্ঞ দলটি মাঠে কাজ করছিল। এর আগে ওই অঞ্চলে শত্রুপক্ষের হামলার পর ছড়িয়ে থাকা বিপুল পরিমাণ ক্লাস্টার বোমা ও আকাশ থেকে নিক্ষিপ্ত মাইন কৃষিজমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমি এই বিস্ফোরক অবশিষ্টাংশে দূষিত হয়ে পড়ে। ওই এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে আসছিলেন এবং এখন পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করেছেন।
তবে সর্বশেষ অভিযানে হঠাৎ এক বিস্ফোরণে পুরো পরিস্থিতি বদলে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই প্রাণহানির এই ঘটনা ঘটে, যা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার পেছনে ক্লাস্টার বোমার ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। এসব অস্ত্র আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে অসংখ্য ছোট বোমা ছড়িয়ে দেয়, যার অনেকগুলো সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হয় না। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে এগুলো মাটিতে পড়ে থেকে সাধারণ মানুষের জন্যও বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ইরান অতীতে একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-এর বিরুদ্ধে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে। যদিও এসব অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভিন্নমত রয়েছে।
এদিকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০০৮ সালের ক্লাস্টার অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে এখনো যোগ দেয়নি ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এই অস্ত্র ব্যবহারের নীতিগত ও আইনি প্রশ্নও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সব মিলিয়ে, এই দুর্ঘটনা শুধু একটি সামরিক ঘটনা নয়—এটি যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং অবিস্ফোরিত অস্ত্রের ভয়াবহতা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

