ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জার্মানি থেকে প্রায় ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন, যা ন্যাটো জোটের ভেতরের সম্পর্ক নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
পেন্টাগনের এক মুখপাত্র জানান, স্থানীয় সময় শুক্রবার (১ মে) এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। তার ভাষায়, ইউরোপে সামরিক অবস্থান নিয়ে বিস্তৃত পর্যালোচনার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে বর্তমান বাস্তবতা ও নিরাপত্তা প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা যায়। আগামী ছয় থেকে বারো মাসের মধ্যেই এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল সামরিক হিসাব-নিকাশ নয়, বরং রাজনৈতিক টানাপোড়েনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে থেকেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা এবং ন্যাটো জোটে মতবিরোধের কারণে জার্মানিতে সেনা উপস্থিতি কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
বিশেষ করে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস-এর সঙ্গে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনা এই সিদ্ধান্তকে আরও ত্বরান্বিত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই দেশের নেতাদের মধ্যে বাক্যবিনিময়ের পর থেকেই বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়।
ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থানের পার্থক্যও এখানে বড় একটি কারণ। জার্মানি প্রকাশ্যে ইরানের ওপর কূটনৈতিক চাপের পক্ষে অবস্থান নিলেও, পদ্ধতি ও কৌশল নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের মতভেদ স্পষ্ট হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু একটি সামরিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি একটি কৌশলগত বার্তা। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইউরোপে নিজেদের উপস্থিতি পুনর্গঠন করছে, অন্যদিকে মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ তৈরি করছে যেন তারা নিরাপত্তা ইস্যুতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেয়।
তবে এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে ন্যাটো জোটের ঐক্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমে গেলে নিরাপত্তা কাঠামোতে নতুন ভারসাম্য তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

