মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আবারও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। যুদ্ধের ইতি টানতে এবার নতুন করে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। সেই প্রস্তাব এখন খতিয়ে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার স্থানীয় সময় এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে ট্রাম্প জানান, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে। তবে তার এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যই ইঙ্গিত দিচ্ছে—দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনায় নতুন একটি ধাপ শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ–এর সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র আগে ৯ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব দিয়েছিল। তার জবাব হিসেবেই তেহরান এই ১৪ দফা পরিকল্পনা তৈরি করে জমা দিয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায়, যা আঞ্চলিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি এক কূটনৈতিক বৈঠকে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো “চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের স্থায়ী অবসান।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেন, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা ওয়াশিংটনের—তারা কি কূটনীতির পথে এগোবে, নাকি সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই প্রস্তাব কেবল একটি সাধারণ শান্তি উদ্যোগ নয়; বরং এতে এমন কিছু কঠোর শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা। একই সঙ্গে ইরানের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে সব মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ এবং সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ ফেরত দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। আঞ্চলিক সংঘাতের প্রসঙ্গে লেবাননসহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে চলমান উত্তেজনার অবসান ঘটানোর দাবি রয়েছে এই প্রস্তাবে।
অন্যদিকে সময়সীমা নিয়েও দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে আলোচনার জন্য দুই মাস সময় চেয়েছিল, সেখানে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—সব সমস্যা ৩০ দিনের মধ্যেই সমাধান করতে হবে। এই অবস্থান দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব কতটা, সেটিও পরিষ্কার করে দেয়।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবুও আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে, যা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলছে। এই সময়ের মধ্যেই নতুন প্রস্তাব সামনে আসায় কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আবারও আলোচনায় এসেছে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতি এক ধরনের “চাপের কূটনীতি”র দিকে এগোচ্ছে। ইরান কঠোর শর্ত দিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে, আর যুক্তরাষ্ট্র তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে চাইছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এই প্রস্তাব কি সত্যিই যুদ্ধের ইতি টানতে পারবে, নাকি নতুন করে আরও জটিলতা তৈরি করবে? সময়ই তার উত্তর দেবে।
সিভি/এইচএম

