চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইরান ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। ০৬ মে ২০২৬ তারিখের এই আলোচনায় অংশ নেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই বৈঠককে দুই দেশই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
বৈঠকটি এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্ক আবারও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত এবং সামরিক উপস্থিতি নিয়ে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে এই আলোচনায় কারা যুক্ত, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হলো চীন ও ইরানের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা ইরান তার তেল রপ্তানির বড় অংশই চীনের কাছে বিক্রি করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা দেশ হলো চীন, যা এই বৈঠকের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিবিদরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে আলোচনার বিস্তারিত বিষয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, এই সফরে আব্বাস আরাঘচি চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এ আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি চীনের উদ্দেশে বলেন, ইরানকে চাপ দিতে হবে যাতে তারা প্রণালিতে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। তার মতে, এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
সব মিলিয়ে বেইজিংয়ে এই বৈঠক শুধু দুই দেশের সম্পর্কের বিষয় নয়, বরং এটি বর্তমান বিশ্বরাজনীতির একটি বড় সমীকরণের অংশ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ইরানের অবস্থান এখন একে অপরের সঙ্গে নানা মাত্রায় জড়িয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এখন নজর থাকবে, এই আলোচনার বাস্তব ফলাফল কী আসে এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় কোনো নতুন দিক উন্মোচন করে কি না।
সিভি/এইচএম

