মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে নতুন এক অদ্ভুত কিন্তু আলোচিত প্রশ্ন সামনে এসেছে—ইরান কি হরমুজ প্রণালীতে ‘মাইন বহনকারী ডলফিন’ ব্যবহার করতে পারে? বিষয়টি শুনতে অনেকটা কল্পবিজ্ঞানের গল্পের মতো মনে হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ নাকি এমন একটি কৌশল বিবেচনা করছে যেখানে ডলফিন ব্যবহার করে পানির নিচে মাইন স্থাপন বা হামলার চেষ্টা করা হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এই দাবির পক্ষে কোনো দৃঢ় প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং বিষয়টি সন্দেহ ও জল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে সরাসরি কোনো নিশ্চিত তথ্য দেননি। তিনি বলেন, ইরানের কাছে এমন কোনো ‘মাইন বহনকারী ডলফিন’ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নিজেও এ ধরনের সক্ষমতা রাখে কি না—সে বিষয়েও স্পষ্ট কিছু বলেননি তিনি। তবে তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরানের এমন উন্নত সামরিক প্রযুক্তি থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।
এই বিতর্কের পেছনে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত, তা হলো—ডলফিনকে সামরিক কাজে ব্যবহার করা নতুন কিছু নয়। বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী পানির নিচে মাইন শনাক্ত ও উদ্ধার করতে প্রশিক্ষিত ডলফিন ব্যবহার করে আসছে। এসব ডলফিনের অসাধারণ সোনার ক্ষমতা রয়েছে, যা অন্ধকার বা ঘোলা পানিতেও বস্তু শনাক্ত করতে সাহায্য করে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই ডলফিনগুলোকে কখনোই আক্রমণ বা আত্মঘাতী মিশনের জন্য ব্যবহার করা হয় না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলফিনকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা বাস্তবিক দিক থেকে খুবই জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এ ধরনের প্রাণীকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয় এবং যুদ্ধক্ষেত্রে নির্ভুলভাবে ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব। ফলে ‘মাইন বহনকারী ডলফিন’ ধারণাটি বাস্তবতার চেয়ে বেশি কল্পনাপ্রসূত বলেই মনে হচ্ছে।
এদিকে অতীতে রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশ সামুদ্রিক প্রাণী ব্যবহার করে বন্দর নিরাপত্তা জোরদারের চেষ্টা করেছে। ইরানও একসময় ডলফিন সংগ্রহ করেছিল বলে জানা যায়। কিন্তু বর্তমানে তাদের কোনো সক্রিয় সামরিক ডলফিন কর্মসূচি আছে—এমন তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ‘ডলফিন দিয়ে হামলা’—এই ধারণাটি এখনো বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়ায়নি। বরং এটি আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া একটি বিতর্কিত ও অনিশ্চিত সম্ভাবনা মাত্র। তবে এমন আলোচনা নিজেই প্রমাণ করে, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা কতটা অস্বাভাবিক ও নতুন মাত্রা নিচ্ছে।
যুদ্ধ শুধু অস্ত্রের লড়াই নয়—এটি কৌশল, মনস্তত্ত্ব ও তথ্যযুদ্ধেরও খেলা। আর সেই খেলায় কখনো কখনো বাস্তবের চেয়ে কল্পনাই বেশি ভয় সৃষ্টি করে।

