লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল আবারও নতুন এক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। ছবিতে দেখা যায়, একজন ইসরায়েলি সেনা মাতা মেরির একটি মূর্তির পাশে বসে এমন ভঙ্গিতে ছবি তুলেছেন, যাকে অনেকেই ধর্মীয় অবমাননা হিসেবে দেখছেন।
ঘटनাটি ঘটেছে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের খ্রিস্টান অধ্যুষিত শহর দেবলে। ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, সেনাটির মুখে একটি সিগারেট রয়েছে এবং হাতে থাকা আরেকটি সিগারেট তিনি মাতা মেরির মূর্তির মুখের কাছে ধরে আছেন। এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষ করে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অনেকেই বিষয়টিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্যেও ধর্মীয় প্রতীক ও উপাসনালয়ের প্রতি ন্যূনতম সম্মান বজায় রাখা কি সম্ভব হচ্ছে না?
এই ঘটনার কারণে পুরোনো একটি বিতর্কও আবার সামনে চলে এসেছে। গত মাসেই একই শহরে অভিযানের সময় যিশুর একটি মূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা তৈরি হয়।
তখন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, ওই ঘটনায় জড়িত দুই সেনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যিনি মূর্তি ভাঙচুর করেছিলেন এবং যিনি ছবি তুলেছিলেন—দুজনকেই ৩০ দিনের সামরিক আটকাদেশ দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতের মধ্যে এমন ছবি বা আচরণ শুধু সামরিক উত্তেজনাই বাড়ায় না, বরং ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকেও গভীরভাবে নাড়া দেয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মতো অঞ্চলে ধর্মীয় প্রতীককে কেন্দ্র করে ক্ষোভ খুব দ্রুত বড় আকার নিতে পারে।
এই ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে—সংঘাতের সময় আন্তর্জাতিক মানবিক নীতিমালা ও ধর্মীয় স্থাপনার প্রতি সম্মান কতটা মানা হচ্ছে। যদিও ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে নতুন ভাইরাল ছবিটি নিয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি, তবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক ও সমালোচনা ক্রমেই বাড়ছে।

