দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও জোট আলোচনার পর অবশেষে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন থালাপতি বিজয়। রোববার চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এই শপথ অনুষ্ঠান। পুরো আয়োজনকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে ছিল ব্যাপক রাজনৈতিক আগ্রহ।
শপথগ্রহণের সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি ছিল, শপথ শেষে বিজয়ের সঙ্গে তার করমর্দন এবং শুভেচ্ছা বিনিময়।
শপথ শেষে রাজ্যপাল ও মন্ত্রীদের সঙ্গে একসঙ্গে ছবি তোলেন বিজয়। পরে রাহুল গান্ধীর হাত উঁচিয়ে ধরে তিনি রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের বার্তাও দেন।
বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কংগ্রেসের সমর্থন। দলটির পাঁচজন বিধায়ক সরাসরি সমর্থন দেওয়ায় জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম হয়।
এর পাশাপাশি বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) এবং ভারতীয় ইউনিয়ন মুসলিম লীগের মোট কয়েকজন বিধায়কের সমর্থনও সরকার গঠনের পথ সুগম করে।
এই সমর্থন মিলিয়ে বিজয়ের জোট শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে। যদিও তাকে সরকার গঠনের আগে টানা কয়েক দিন ধরে আলোচনা চালাতে হয় এবং রাজ্যপালের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক করতে হয়।
নতুন সরকারের সঙ্গে শপথ নিয়েছেন আরও নয়জন বিধায়ক। তাদের মধ্যে রয়েছেন কেএ সেনগোত্তাইয়ান, যিনি এর আগে এআইএডিএমকে থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। এছাড়া বিজয়ের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা আধব অর্জুনও মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
তালিকায় আরও আছেন নির্মল কুমার, যিনি বিজেপি ছেড়ে বিজয়ের দলে যোগ দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হন। একইভাবে চিকিৎসক টিকে প্রভু এবং অরুণ রাজও মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন।
অভিনেতা রাজ মোহন, চিকিৎসক পেশার আরেক সদস্য এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পি ভেঙ্কটারামননও নতুন সরকারের অংশ হয়েছেন। কীর্তন নামের তরুণ বিধায়ক এই মন্ত্রিসভার সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।
বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টির মধ্যে ১০৮টি আসনে জয় লাভ করে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে টানা রাজনৈতিক আলোচনা ও জোট গঠনের প্রক্রিয়া চালাতে হয় তাদের।
দুইটি আসনে জয়ী হওয়ায় বিজয়কে একটি আসন ছাড়তে হবে। এরপরও তার জোটের মোট শক্তি দাঁড়াবে ১২০ জনে, যা সরকার পরিচালনার জন্য যথেষ্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সরকার গঠনের মাধ্যমে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তন ঘটেছে। প্রায় ছয় দশক পর রাজ্যটিতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বাইরে কোনো দল ক্ষমতায় এলো, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিভি/এইচএম

