পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বান্নু এলাকায় ভয়াবহ এক হামলায় অন্তত ১২ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এই এলাকায় গতকাল শনিবার রাতে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ ও পরবর্তীতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর পুরো এলাকা রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জানায়, একটি পুলিশ চৌকির কাছে প্রথমে আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি বিস্ফোরণ ঘটায়। শক্তিশালী বিস্ফোরণে চৌকিটি ধসে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বিস্ফোরণের কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় দ্বিতীয় ধাপের হামলা। সেখানে অবস্থান নেওয়া সন্ত্রাসীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তখনই মূলত প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্রগুলো।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে আরও পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।
এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রথম বিস্ফোরণের পর উদ্ধার ও সহায়তার জন্য অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই তারা অ্যাম্বুশের শিকার হন।
এ ঘটনায় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইতোমধ্যে দায় স্বীকার করেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এটি অঞ্চলটিতে ক্রমবর্ধমান চরমপন্থী সহিংসতার আরেকটি ভয়াবহ উদাহরণ।
স্থানীয় সূত্র বলছে, গাড়ি বোমার বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আশপাশের ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছে।
কিছু সূত্র জানিয়েছে, হামলায় ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এসেছে, যা এই ঘটনার জটিলতা আরও বাড়িয়েছে।
ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান শুরু করেছে। তবে এখনো পর্যন্ত হামলাকারীদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এবং সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

