ভারত-এর উত্তরপ্রদেশে ভয়াবহ ঝড়, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতে অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কয়েকটি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে, উপড়ে গেছে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি, আর অনেক এলাকায় যোগাযোগ ও বিদ্যুৎব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারা জানান, উত্তরপ্রদেশের ভাদোহি, ফতেহপুর, বুদাউন, চন্দৌলি এবং সোনভদ্র জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ভাদোহি জেলাতেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন।
এছাড়া ফতেহপুরে ৯ জন, বুদাউনে ৫ জন, চন্দৌলিতে ২ জন এবং সোনভদ্র জেলায় ১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
দুর্যোগের খবর প্রকাশ্যে আসার পর যোগী আদিত্যনাথ শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসনকে।
মুখ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসন, পুলিশ, উদ্ধারকারী দল এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে হবে এবং কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।
রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এখনো উদ্ধার ও মেরামত কাজ চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ঘুরে দেখছেন এবং জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভাদোহি জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কুনওয়ার বীরেন্দ্র কুমার মৌর্য জানিয়েছেন, ঝড়ের কারণে জেলার বহু এলাকায় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। অনেক ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে শুরুতে বেশ সমস্যা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ফতেহপুরে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় ঘরবাড়ির দেয়াল ধসে। সেখানে পাঁচ নারীসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন।
অন্যদিকে বুদাউন জেলায় মাটির ও ইটের দেয়াল ধসে এবং গাছ পড়ে দুই শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোনভদ্র ও চন্দৌলি জেলাতেও একই ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
সরকার ইতোমধ্যে কৃষি বিভাগ, রাজস্ব বিভাগ এবং বিমা কোম্পানিগুলোকে ক্ষয়ক্ষতির জরিপ করার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে কৃষকদের ফসলের ক্ষতি নিরূপণ করে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে চরম আবহাওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তীব্র গরমের পর হঠাৎ ঝড়, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত এখন অনেক অঞ্চলে নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, কৃষক এবং গ্রামীণ এলাকাগুলোর বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, আবহাওয়া পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। প্রশাসনও সম্ভাব্য নতুন দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

