ইউক্রেন থেকে আসা লক্ষ্যভ্রষ্ট ড্রোন নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন বাল্টিক রাষ্ট্র লাটভিয়ার মধ্য-ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী এভিকা সিলিনা। ড্রোন নিয়ে বিতর্কে জোট সরকারের বামঘেঁষা শরিক দল প্রোগ্রেসিভস পার্টি সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে বৃহস্পতিবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। সূত্র: এএফপি
গত সপ্তাহে লাটভিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রিজ স্প্রাডস পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর প্রধানমন্ত্রী এভিকা সিলিনার এই পদত্যাগের খবর এলো। প্রোগ্রেসিভস পার্টির এই নেতার বিরুদ্ধে ইউক্রেন সীমান্ত থেকে লাটভিয়ার আকাশসীমায় ভুলবশত ঢুকে পড়া একাধিক ড্রোন সামলানোর ক্ষেত্রে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। ওই সময় সিলিনা বলেছিলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্প্রাডস তার এবং জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে গত রোববার সিলিনা বলেন, ড্রোনের অনুপ্রবেশের ঘটনায় প্রতিরক্ষা খাতের রাজনৈতিক নেতারা আমাদের দেশের আকাশ নিরাপদ রাখার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
গত ৭ মে ইউক্রেনের দুটি ড্রোন লাটভিয়ায় প্রবেশ করে; যার একটি জ্বালানি সংরক্ষণাগারে আছড়ে পড়ে। স্প্রাডস তখন বলেন, সম্ভবত রাশিয়াকে লক্ষ্য করে ছোড়া ইউক্রেনীয় ড্রোন ভুলবশত লাটভিয়ায় চলে আসে।
গত মার্চ মাস থেকে রাশিয়া অভিমুখে পাঠানো ইউক্রেনের একাধিক ড্রোন বাল্টিক অঞ্চলের তিনটি দেশের ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে। সমালোচকরা বলেছেন, এসব ঘটনা সামরিক হুমকি মোকাবিলায় লাটভিয়ার সক্ষমতার দুর্বলতা প্রকাশ করে দিয়েছে।
লাটভিয়ার ক্ষমতাসীন তিনদলীয় জোট কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন ইস্যুতে চাপের মধ্যে ছিল। আগামী অক্টোবরে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে সিলিনা পদত্যাগ করলেন।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সিলিনা লিখেছেন, আমার অগ্রাধিকার সব সময়ই লাটভিয়ার মানুষের কল্যাণ ও নিরাপত্তা ছিল এবং থাকবে। দল ও জোট পরিবর্তিত হয়, কিন্তু লাটভিয়া টিকে থাকে। আর সমাজের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা অন্য সব কিছুর ঊর্ধ্বে।
লাটভিয়ার প্রেসিডেন্ট এডগারস রিঙ্কেভিক্স বর্তমানে নতুন সরকার প্রধান নিয়োগের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি শুক্রবার পার্লামেন্টের সব দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।
এদিকে, গত রোববার ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছিলেন, লাটভিয়ার এসব ঘটনা রাশিয়ার ইলেকট্রনিক যুদ্ধের ফলাফল, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলোকে রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তু থেকে বিচ্যুত করে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে তিনি বাল্টিক দেশগুলো এবং ফিনল্যান্ডকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন।

