ইরান যুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর শুরু হয়েছিল বড় প্রত্যাশা নিয়ে। ওয়াশিংটন ও বেইজিং—দুই পক্ষের কাছেই এই সফর ছিল শুধু নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ নয়; বরং বিশ্বের দুই বৃহৎ শক্তির সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। প্রায় এক দশক পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের বেইজিং সফর হওয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরও ছিল এই সফরের প্রতিটি মুহূর্তে।
সফরের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ করপোরেট নেতাদের উপস্থিতির কারণে। প্রযুক্তি, জ্বালানি, বিমান, আর্থিক খাত ও ভোক্তা পণ্যের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা এই সফরে অংশ নেন। অ্যাপল, এনভিডিয়া, বোয়িং, অ্যাক্সনমবিল, সিটিগ্রুপ, টেসলা ও মেটার মতো প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে বড় ধরনের আলোচনা হতে পারে।
সফরের আগে মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্যেও এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, এই সফর হয়তো চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার একটি সুযোগ তৈরি করবে। অনেকেই আশা করেছিলেন, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও বিমান খাতে নতুন সমঝোতা বা বড় চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে। কিন্তু সফর শেষে দৃশ্যপট কিছুটা ভিন্ন। প্রত্যাশার তুলনায় বাস্তব অর্জন ছিল সীমিত, আর বড় কাঠামোগত বিরোধগুলো প্রায় আগের জায়গাতেই রয়ে গেছে।
প্রত্যাশার পাহাড়, ফলাফলের সীমাবদ্ধতা
ট্রাম্পের এই চীন সফরকে ঘিরে যে আলোড়ন তৈরি হয়েছিল, তার বড় কারণ ছিল সফরসঙ্গী ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল। যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো চীনা বাজারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, জ্বালানি, বিমান ও ভোক্তা প্রযুক্তি খাতে চীন বিশাল বাজার এবং একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকেন্দ্র।
তাই ধারণা করা হচ্ছিল, সফরের সময় অন্তত কয়েকটি বড় বিনিয়োগ ঘোষণা, বাজার উন্মুক্তকরণ বা আমদানি প্রতিশ্রুতি আসবে। বিশেষ করে চীন হয়তো মার্কিন কৃষিপণ্য, জ্বালানি বা বিমান কেনার বিষয়ে বড় প্রতিশ্রুতি দিতে পারে—এমন প্রত্যাশা ছিল অনেকের। কিন্তু বাস্তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে চীনের সম্ভাব্য ২০০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার আগ্রহ।
এই ঘোষণাও চূড়ান্ত চুক্তি হিসেবে সামনে আসেনি। বরং আগে যেখানে প্রায় ৫০০টি উড়োজাহাজের সম্ভাব্য অর্ডার নিয়ে আলোচনা ছিল, সেখানে ২০০টির সম্ভাবনা অনেক ছোট আকারের ফলাফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে বাজারও এই ঘোষণাকে খুব ইতিবাচকভাবে নেয়নি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বোয়িং ও জিই অ্যারোস্পেসের শেয়ারদরেও এর প্রভাব পড়ে।
এ থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়—সফরের আগে যে ধরনের বড় অর্থনৈতিক সাফল্যের আভাস দেওয়া হয়েছিল, সফর শেষে তার অনেকটাই বাস্তবে রূপ নেয়নি। কূটনৈতিক ভাষায় সৌহার্দ্য ছিল, কিন্তু অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দৃশ্যমান বড় অগ্রগতি ছিল না।
কেন বড় চুক্তি এল না
এই সফরে বড় বাণিজ্যচুক্তি না হওয়ার পেছনে কয়েকটি গভীর কারণ আছে। প্রথম কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পারস্পরিক অবিশ্বাস। ২০১৮ সালের বাণিজ্যযুদ্ধের পর দুই দেশের সম্পর্ক শুধু শুল্ক নিয়ে বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ, সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তাইওয়ান প্রশ্ন, দক্ষিণ চীন সাগর, সাইবার নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা।
চীন মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রযুক্তিগত উত্থান ঠেকানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের অভিযোগ, চীন রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও প্রযুক্তি অধিগ্রহণের মাধ্যমে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছে। ফলে বাণিজ্য আলোচনা এখন আর শুধু পণ্য কেনাবেচার বিষয় নয়; এর সঙ্গে নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত আধিপত্য ও ভূরাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্ন জড়িয়ে গেছে।
এই বাস্তবতায় একটি সফরের মাধ্যমে বড় সমাধান বের করা সহজ ছিল না। দুই পক্ষই জানে, বড় চুক্তি করতে হলে শুধু অর্থনৈতিক হিসাব নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও বিবেচনায় নিতে হবে। তাই উভয় পক্ষই খুব সতর্কভাবে এগিয়েছে।
ট্রাম্পের দর-কষাকষির অবস্থান কতটা শক্তিশালী ছিল
ট্রাম্প প্রশাসন সফরের আগে শক্ত অবস্থানের বার্তা দিলেও বাস্তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুব সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন না বলে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি, উৎপাদক মূল্য সূচক বৃদ্ধি, সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ এবং ইরান যুদ্ধের চাপ—সব মিলিয়ে তাঁর ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ ছিল উল্লেখযোগ্য।
এর পাশাপাশি আগের শুল্কনীতি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থাকেও কিছু ক্ষেত্রে চাপের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে বিরল খনিজ সরবরাহে চীনের পাল্টা কড়াকড়ি ওয়াশিংটনের জন্য একটি বাস্তব দুর্বলতা হিসেবে সামনে আসে। প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতের জন্য এসব খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক অতিরিক্ত উত্তপ্ত রাখাও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এই কারণে ট্রাম্পের লক্ষ্য হয়তো বড় বিজয় ঘোষণা করা হলেও বাস্তব লক্ষ্য ছিল উত্তেজনা কমানো, সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতি আনা এবং অন্তত সীমিত অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা তৈরি করা। বেইজিং সম্ভবত এই অবস্থান খুব ভালোভাবেই বুঝেছিল।
চীনের হিসাব ছিল আরও সতর্ক
অনেকে মনে করেছিলেন, অর্থনৈতিক ধীরগতির কারণে চীন হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় সমঝোতায় আগ্রহী হবে। কিন্তু সফরের সময় বেইজিংয়ের অবস্থান ছিল অনেক বেশি হিসাবি। চীন সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে আগ্রহী হলেও বড় ছাড় দিতে প্রস্তুত—এমন ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়নি।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ‘গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতা’র কথা বললেও তাইওয়ান প্রশ্নে কড়া বার্তা দেন। তিনি ট্রাম্পকে সতর্ক করেন, তাইওয়ান ইস্যু ভুলভাবে সামলানো হলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত তৈরি হতে পারে। এই বার্তাটি শুধু কূটনৈতিক সতর্কতা নয়; এটি দেখায় যে, চীন এখন অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে আলাদা করে দেখতে রাজি নয়।
বেইজিং আরও বুঝতে পারছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থির নয়। নির্বাচন, কংগ্রেসের চাপ এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা—এসব কারণে চীন দীর্ঘমেয়াদি বড় প্রতিশ্রুতি দিতে গিয়ে সাবধানী অবস্থান নিয়েছে। ফলে চীন সফরটিকে সম্পর্ক মেরামতের সুযোগ হিসেবে দেখলেও, তা বড় ছাড় দেওয়ার মুহূর্ত হিসেবে দেখেনি।
ইরান যুদ্ধের ছায়া
ট্রাম্পের চীন সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট ছিল ইরান যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র চাইছিল, চীন যেন তেহরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে চীনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ রয়েছে, আর ইরানের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এই জায়গায়ও বড় অগ্রগতি দেখা যায়নি। চীন একদিকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও জ্বালানি প্রবাহে স্থিতিশীলতা চায়, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতেও চায় না। ফলে বেইজিং এমন কোনো অবস্থান নেয়নি, যা সরাসরি ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রত্যাশা পূরণ করে।
এর অর্থ হলো, ইরান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছ থেকে সীমিত সহযোগিতা পেলেও তা নাটকীয় পরিবর্তন আনার মতো ছিল না। এই দিক থেকেও সফরটি বেশি প্রতীকী, কম ফলপ্রসূ।
রাজকীয় আয়োজন বনাম বাস্তব অগ্রগতি
বেইজিংয়ে ট্রাম্পকে স্বাগত জানাতে আয়োজন ছিল জাঁকজমকপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় ভোজ, লাল গালিচা, ঐতিহ্যবাহী আতিথেয়তা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—সব মিলিয়ে চীন একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছিল। এমনকি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত পছন্দ বিবেচনায় খাবারের মেন্যু সাজানোর কথাও আলোচনায় আসে।
কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তবতা শুধু সৌজন্যতায় বদলায় না। দুই দেশের মধ্যে যে বিষয়গুলো সবচেয়ে বড় বিরোধ তৈরি করছে—প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, সেমিকন্ডাক্টর নিষেধাজ্ঞা, তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি, দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক উপস্থিতি—এসব ক্ষেত্রে কোনো বড় দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এখানেই সফরের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। দুই নেতা মুখোমুখি হয়েছেন, সৌজন্য বিনিময় হয়েছে, ভবিষ্যৎ সংলাপের পথ খোলা রাখা হয়েছে; কিন্তু মূল সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি। বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এখন সম্পর্ক ভাঙতে চাইছে না, কিন্তু সম্পর্কের গভীর সংকট মেটাতেও পারছে না।
সফর কি পুরোপুরি ব্যর্থ
ট্রাম্পের চীন সফরকে পুরোপুরি ব্যর্থ বলা ঠিক হবে না। কারণ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখনো কখনো বড় চুক্তির চেয়ে যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই সফরের মাধ্যমে অন্তত দুই পক্ষ সরাসরি সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।
প্রথমত, বাণিজ্যযুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার ঝুঁকি আপাতত কিছুটা কমেছে। দ্বিতীয়ত, ব্যবসায়ী মহলে একটি বার্তা গেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিচ্ছেদের পথে যাচ্ছে না। তৃতীয়ত, সম্ভাব্য জ্বালানি আমদানি, বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয় এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ আলোচনার মতো বিষয়গুলো ভবিষ্যতের জন্য কিছু ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
তবে এগুলো সম্ভাবনা, নিশ্চিত অর্জন নয়। কূটনীতিতে সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তব সাফল্য মাপা হয় চুক্তি, নীতি পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদি আস্থার ভিত্তিতে। সেই জায়গায় এই সফরের অর্জন এখনো সীমিত।
বড় ছবি: সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা, সমাধানের নয়
এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এখন সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে, কিন্তু মৌলিক দ্বন্দ্বের সমাধানে পৌঁছাতে পারছে না। দুই দেশই জানে, সরাসরি সংঘাত বা সম্পূর্ণ বিচ্ছেদ তাদের কারও জন্যই লাভজনক নয়। কিন্তু একই সঙ্গে কেউই নিজেদের কৌশলগত অবস্থান থেকে সরে আসতে প্রস্তুত নয়।
যুক্তরাষ্ট্র চায় চীনের প্রযুক্তিগত উত্থান নিয়ন্ত্রণে রাখতে, চীন চায় নিজস্ব প্রভাব ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে। যুক্তরাষ্ট্র চায় বাজারে সমতা, চীন চায় রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন মডেলের ধারাবাহিকতা। তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন সাগর ও সাইবার নিরাপত্তার মতো প্রশ্নগুলো এই অর্থনৈতিক বিরোধকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ফলে ট্রাম্পের সফর যতটা না সম্পর্কের নতুন অধ্যায় খুলেছে, তার চেয়ে বেশি দেখিয়েছে দুই শক্তির মধ্যে অবিশ্বাস কতটা গভীরে পৌঁছেছে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক, করপোরেট উপস্থিতি কিংবা রাষ্ট্রীয় আতিথেয়তা—কোনোটিই এখন আর একা বড় ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দূর করার জন্য যথেষ্ট নয়।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের চীন সফর ছিল আলোচিত, জাঁকজমকপূর্ণ এবং কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রত্যাশিত বড় অর্থনৈতিক চুক্তি, শুল্ক সমঝোতা, প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ বা দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সমাধান—এসবের কোনোটিই স্পষ্টভাবে সামনে আসেনি।
এই সফর দেখিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক এখন এমন এক পর্যায়ে আছে, যেখানে দুই পক্ষই উত্তেজনা কমাতে চায়, কিন্তু গভীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়তে চায় না। তাই সফরটি আংশিকভাবে সংলাপের দরজা খোলা রাখলেও, বাস্তব ফলাফলের বিচারে তা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।
সংক্ষেপে বলা যায়, বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সফর ছিল বড় আয়োজনের, কিন্তু সীমিত অর্জনের। বিশ্বরাজনীতির ভাষায় এটি হয়তো এক ধরনের সতর্ক বিরতি—যেখানে দুই পক্ষ সংঘাত এড়াতে চায়, কিন্তু সমাধানের পথে হাঁটতে এখনো প্রস্তুত নয়।
সিভি/এইচএম

