ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি বিতর্কিত প্রস্তাব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে হত্যা করতে পারলে ৫০ মিলিয়ন ইউরো পুরস্কার দেওয়ার একটি বিল বর্তমানে ইরানের পার্লামেন্টে পর্যালোচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা।
ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, গত মার্চে সংঘাত শুরুর পর আইনপ্রণেতারা কয়েকটি নতুন বিল তৈরি করেছেন। এর মধ্যে একটি বিল “সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা পদক্ষেপ” সংক্রান্ত।
তার বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের শীর্ষ সামরিক ও ধর্মীয় নেতাদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া দেশটির অধিকার।
প্রস্তাবিত বিলে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই “মিশন” সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়, তাহলে সরকার তাকে ৫০ মিলিয়ন ইউরো পুরস্কার দিতে বাধ্য থাকবে।
এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ এটি সরাসরি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে লক্ষ্য করে দেওয়া সবচেয়ে কঠোর রাজনৈতিক বার্তাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে দেশটিতে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের কাছে একটি গণ-বার্তা পাঠানো হয়েছিল। সেখানে ট্রাম্পবিরোধী একটি আন্তর্জাতিক প্রচারণায় সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দিদবান ইরান দাবি করেছে, ওই প্রচারণায় ইতোমধ্যে কয়েক লাখ মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।
বিষয়টি নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে কেন্দ্র করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ২০২০ সালে কাসেম সোলেইমানি যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প ইরানের কট্টরপন্থী মহলের প্রধান টার্গেটে পরিণত হন।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এর আগেও জানিয়েছিল, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পকে হত্যার একটি পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, এর পেছনে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী-এর সংশ্লিষ্টতা ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই বিল মূলত রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপ তৈরির অংশ হতে পারে। তবে এমন বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা, পারমাণবিক আলোচনা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে এ ধরনের উসকানিমূলক অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

