ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম। চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যেই এই তথ্য সামনে আসায় পশ্চিম এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম এক প্রতিবেদনে জানায়, আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে তারা এই তথ্য পেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান শুরু থেকেই সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের বিষয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা চেয়ে আসছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আংশিক ও সাময়িকভাবে শিথিল করার প্রস্তাব দিয়েছে।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরানকে ঘিরে চলমান সংকট নতুন মাত্রা পায়। ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, ওই হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের তালিকায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নামও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক দেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে।
সংঘাতের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে জ্বালানি খাতে। হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথে বিমান চলাচলও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।
টানা ৪০ দিনের সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেন। যদিও যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালি ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, অবরোধ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চললেও এখনো কোনো স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিলের সম্ভাবনা আলোচনায় ইতিবাচক গতি আনতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইরান বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ। ফলে দেশটির তেল বাজারে ফের সক্রিয় হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

