ইরানি-ফরাসি শিল্পী, কার্টুনিস্ট ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মারজান সাতরাপি ৫৬ বছর বয়সে মারা গেছেন। তার পরিবার ও বন্ধুদের দেওয়া এক বিবৃতির বরাতে ফরাসি গণমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
মারজান সাতরাপি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন তার গ্রাফিক উপন্যাস ‘পার্সেপোলিস’-এর মাধ্যমে। বইটিতে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানে বেড়ে ওঠা এক কিশোরীর জীবন ও অভিজ্ঞতার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছিল। অর্ধ-আত্মজীবনীমূলক এই গ্রন্থটি পরে অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়।
সাতরাপি তার দীর্ঘদিনের সহযোগী ভিনসেন্ট পারোনোর সঙ্গে চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন। ২০০৭ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে এর প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। চলচ্চিত্রটি পরে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে শ্রেষ্ঠ অ্যানিমেটেড ফিচার বিভাগে মনোনয়নও লাভ করে।
পরিবার ও বন্ধুদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্বামী ও জীবনসঙ্গী ম্যাথিয়াস রিপার মৃত্যুর এক বছরের কিছু বেশি সময় পর গভীর শোকের মধ্যেই মারজান সাতরাপির মৃত্যু হয়েছে। সুইডিশ নাগরিক রিপা ২০২৫ সালের এপ্রিলে ৫৩ বছর বয়সে মারা যান।
ইরান সরকারের একজন সুপরিচিত সমালোচক হিসেবে সাতরাপি ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন। একই শিরোনামে তিনি আন্দোলনকেন্দ্রিক গ্রাফিক উপন্যাসধর্মী প্রবন্ধের একটি সংকলনও প্রকাশ করেন।
২০০৬ সালে তিনি ফ্রান্সের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে ইরান-সংক্রান্ত বিষয়ে ফরাসি সরকারের অবস্থানেরও সমালোচনা করেন।
২০২৫ সালে তিনি ফ্রান্সের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘লেজিওঁ দনর’ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। তার অভিযোগ ছিল, ফরাসি সরকার ইরান-সমর্থিত ব্যক্তিদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দিলেও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সমালোচকদের ভিসা দিতে অনীহা দেখাচ্ছে। এই নীতির প্রতিবাদেই তিনি সম্মাননাটি প্রত্যাখ্যান করেন।

