অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদে মোতায়েন থাকা পুলিশ ইউনিটগুলোতে উগ্র জাতীয়তাবাদী ও বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-আকসা মসজিদের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ইউনিটের ডেপুটি কমান্ডার ড্যানিয়েল লেরাখ ওই স্থানে দায়িত্ব পালনের জন্য ‘ধর্মীয় কর্মকর্তা’ হিসেবে বর্ণিত ব্যক্তিদের নিয়োগে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছড়িয়ে পড়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, “সার্বভৌমত্ব বাস্তবায়নে যারা অংশ নিতে চান, তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।” বার্তাটি অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেও প্রচার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
হারেৎজ জানিয়েছে, টেম্পল মাউন্ট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন রাব্বি তাদের অনুসারীদের এই ইউনিটে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছেন। টেম্পল মাউন্ট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন গোষ্ঠী নিয়মিত আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশের আয়োজন করে এবং মসজিদটি অপসারণ করে সেখানে নতুন মন্দির নির্মাণের পক্ষে প্রচারণা চালায়।
টেম্পল মাউন্ট আন্দোলনের অন্যতম কর্মী আরনন সেগাল এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, এটি ওই স্থানের ওপর ইহুদিদের দাবিকে ইসরায়েলি রাষ্ট্র ক্রমশ বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে—এমন একটি ইঙ্গিত।
তিনি বলেন, আল-আকসায় ইহুদিদের প্রার্থনার ওপর বিদ্যমান বিধিনিষেধ কার্যকর করার দায়িত্বে থাকা পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কিছু সম্ভাব্য সদস্য দ্বিধায় রয়েছেন। তবে অনেক কর্মী এই ইউনিটে যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন বলেও জানান তিনি।
ফিলিস্তিনিরা এই পদক্ষেপকে আল-আকসা মসজিদে তাদের উপস্থিতি কমিয়ে আনা এবং স্থাপনাটির ওপর ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছেন।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জেরুজালেম গভর্নরেট এই নিয়োগ কার্যক্রমকে “বিপজ্জনক ঘটনা” বলে আখ্যা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে গভর্নরেট জানায়, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো টেম্পল মাউন্টভিত্তিক উগ্রপন্থী গোষ্ঠী এবং জায়নবাদী ধর্মীয় আন্দোলনের অনুসারীদের সেই কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা, যার মাধ্যমে ইসরায়েল আল-আকসা প্রাঙ্গণের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এটি শুধু একটি নিয়োগ অভিযান নয়, বরং ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং টেম্পল মাউন্ট-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সরাসরি সহযোগিতার নতুন পর্যায়ের সূচনা।
জেরুজালেম গভর্নরেটের অভিযোগ, ইসরায়েল আল-আকসার ঐতিহাসিক ও আইনি তত্ত্বাবধায়ক ইসলামিক ওয়াকফের কার্যকর কর্তৃত্ব দুর্বল করে তা ইসরায়েলি পুলিশ ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সংস্থার কাছে স্থানান্তর করতে চাইছে।
আল-আকসা মসজিদ ইসলামের অন্যতম পবিত্র স্থান। ইহুদিদের কাছে এটি টেম্পল মাউন্ট নামে পরিচিত। অনেকের বিশ্বাস, সেখানে একসময় দুটি প্রাচীন ইহুদি মন্দির ছিল।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আল-আকসা একটি প্রচলিত স্থিতাবস্থা ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হয়ে আসছে। এই ব্যবস্থায় জর্ডান-সমর্থিত ইসলামিক ওয়াকফ ধর্মীয় ও প্রশাসনিক তত্ত্বাবধান করে এবং কেবল মুসলমানদের নামাজ আদায়ের অধিকার স্বীকৃত। অমুসলিমদের নির্দিষ্ট শর্তে পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়।
তবে ফিলিস্তিনি পক্ষের দাবি, ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর থেকে ইসরায়েল ধীরে ধীরে এই স্থিতাবস্থা ক্ষুণ্ণ করছে। তাদের অভিযোগ, মুসলিমদের প্রবেশাধিকারে বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি ইহুদিদের উপস্থিতি ও প্রভাব বাড়ানো হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি সূত্রগুলোর মতে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে এই পরিবর্তনের গতি আরও বেড়েছে। একই সময়ে কয়েকজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও আইনপ্রণেতা প্রকাশ্যে আল-আকসা প্রাঙ্গণের ওপর পূর্ণ ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।

