ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ পেতে ওয়াশিংটনের কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক চুক্তির প্রয়োজন নেই। তার এই বক্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি করেছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ জুন) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করতে সক্ষম। তার মতে, এ জন্য আলাদা কোনো সমঝোতা বা চুক্তির প্রয়োজন নেই।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম বর্তমানে নিরাপদ অবস্থায় সংরক্ষিত রয়েছে এবং তা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো ঝুঁকি নেই। তবে তিনি এমনও ইঙ্গিত দেন যে, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র সেই মজুদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে আগ্রহী নন। তবে ভবিষ্যতে যদি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা বা চুক্তি হয়, তাহলে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তিনি সম্মানজনক আচরণ বজায় রাখবেন বলেও মন্তব্য করেন।
এর আগের দিনও এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ নিয়ে কথা বলেন। তখন তিনি স্পষ্টভাবে জানান, যুক্তরাষ্ট্র এই ইউরেনিয়ামের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তার মতে, বিষয়টি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার নয়, বরং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এ ধরনের সংবেদনশীল পারমাণবিক উপাদান সংগ্রহ বা সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের কাছেই রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই সেই দায়িত্ব পালন করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আবারও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। অন্যদিকে ইরান বারবার দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনও কঠোর। ভবিষ্যতে এ ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে থাকবে।

