ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে বাংলাদেশি বলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে ঢাকার সহযোগিতা চেয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, যাচাই কার্যক্রম দ্রুত শেষ হলে অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও আরও সহজ ও কার্যকর হবে।
শুক্রবার (৫ জুন) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি জানান, কোনো বিদেশি নাগরিক যদি বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে অবস্থান করেন, তাহলে তার জাতীয়তা যাই হোক না কেন, ভারতীয় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া রয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য তথ্য ও নথিপত্র বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পরই প্রত্যাবাসনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়।
ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে নাগরিকত্ব যাচাই-সংক্রান্ত বিপুলসংখ্যক আবেদন বাংলাদেশের কাছে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এসব আবেদন দ্রুত যাচাই করা গেলে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।
ভারতীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত মাস পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার সন্দেহভাজন বাংলাদেশি অভিবাসীর নাগরিকত্ব যাচাই-সংক্রান্ত আবেদন বাংলাদেশ সরকারের কাছে অপেক্ষমাণ ছিল। এর আগে মে মাসে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে ভারত জানিয়েছিল, এমন ঝুলে থাকা আবেদনের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৮৬২টি। এর মধ্যে কিছু আবেদন পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধ অভিবাসন ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আলোচিত একটি বিষয়। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নাগরিকত্ব যাচাই এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য দুই দেশের প্রশাসনিক সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির জাতীয়তা নিয়ে সন্দেহ থাকে, সেখানে তথ্য যাচাই ও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না।
ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, দেশটি অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে আরও সক্রিয় অবস্থান নিতে চাইছে। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অপেক্ষায় থাকা আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার ওপরও জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি। এতে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে আরও প্রশাসনিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

