Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বুধ, আগস্ট 26, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » থুসিডিডিসের ফাঁদে চীন কেন আশ্রয় নিচ্ছে
    আন্তর্জাতিক

    থুসিডিডিসের ফাঁদে চীন কেন আশ্রয় নিচ্ছে

    নিউজ ডেস্কজুন 6, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন শুধু বাণিজ্য, সামরিক শক্তি বা প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এই সম্পর্ক এখন বয়ানেরও লড়াই। কে আগ্রাসী, কে আত্মরক্ষামূলক, কে বিশ্বশান্তির পক্ষে আর কে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে—এসব প্রশ্ন ঘিরে দুই পরাশক্তির মধ্যে এক ধরনের কূটনৈতিক ভাষাযুদ্ধ চলছে। এই ভাষাযুদ্ধের কেন্দ্রে নতুন করে উঠে এসেছে একটি পুরোনো তাত্ত্বিক ধারণা—থুসিডিডিসের ফাঁদ।

    ২০২৬ সালের মে মাসে বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে আসে। ১৪ মে ২০২৬ তারিখে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই নেতার আনুষ্ঠানিক উপস্থিতির মধ্যেই শি চিনপিং যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে থুসিডিডিসের ফাঁদের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি এই তথাকথিত ফাঁদ অতিক্রম করে বৃহৎ শক্তির সম্পর্কের নতুন পথ তৈরি করতে পারবে?

    প্রশ্নটি শুনতে শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল মনে হলেও এর ভেতরে রয়েছে গভীর কূটনৈতিক হিসাব। কারণ, বহু বছর ধরে যে ধারণাকে বেইজিং গুরুত্ব দিতে চায়নি, এখন সেটিকেই চীন নিজের কূটনৈতিক ভাষার অংশ করে তুলছে। এই পরিবর্তন আকস্মিক নয়। বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর স্থিতিশীলতা রক্ষার দায় চাপানোর একটি সুপরিকল্পিত প্রয়াস বলেই মনে হয়।

    থুসিডিডিসের ফাঁদ ধারণাটি আধুনিক আলোচনায় জনপ্রিয় করেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক গ্রাহাম অ্যালিসন। ২০১২ সাল থেকে তাঁর বিভিন্ন লেখায় এবং ২০১৭ সালে প্রকাশিত একটি বইয়ে তিনি এই ধারণাকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় বিশেষভাবে সামনে আনেন। প্রাচীন গ্রিক ইতিহাসবিদ থুসিডিডিস পেলোপনেশীয় যুদ্ধের ইতিহাস লিখতে গিয়ে স্পার্টা ও এথেন্সের সংঘাত ব্যাখ্যা করেছিলেন। সেই সূত্র ধরে অ্যালিসনের যুক্তি হলো, যখন কোনো উদীয়মান শক্তি প্রতিষ্ঠিত বা তুলনামূলকভাবে প্রভাব হারাতে থাকা শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে, তখন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

    অ্যালিসনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত ৫০০ বছরে এমন ১৬টি বড় শক্তির পালাবদলের ঘটনার মধ্যে ১২টিই শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘাতে গড়িয়েছে। এই পরিসংখ্যানের কারণেই ধারণাটি নীতিনির্ধারক, গবেষক ও কূটনীতিকদের মধ্যে দ্রুত আলোচনার জায়গা করে নেয়। অনেকে মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বর্তমান প্রতিযোগিতাও একই ঐতিহাসিক ছকে পড়তে পারে। তবে এখানেই বড় প্রশ্ন তৈরি হয়—এই তত্ত্ব কি সত্যিই বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্ক বোঝার জন্য যথেষ্ট, নাকি এটি এমন এক সরলীকরণ যা চীনের আচরণগত দায়কে আড়াল করে?

    চীনের অবস্থান বদলের ইতিহাস এই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। ২০১৫ সালে সিয়াটলে দেওয়া এক বক্তব্যে শি চিনপিং বলেছিলেন, পৃথিবীতে তথাকথিত থুসিডিডিসের ফাঁদ বলে কোনো বিষয় নেই। ২০২২ সালেও চীনের সরকারি মুখপাত্র একই সুরে বলেছিলেন, চীন এ ধরনের ধারণায় বিশ্বাস করে না। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে বেইজিং এই তত্ত্ব থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিল।

    কিন্তু ২০২৩ সালের দিকে অবস্থান বদলাতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন সিনেটরের বেইজিং সফরের সময় শি চিনপিং থুসিডিডিসের ফাঁদের কথা স্বীকার করলেও বলেন, দুই দেশের সংঘাত অনিবার্য নয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত শিয়ে ফেং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, চীনা সংস্কৃতির ভেতরেই এই ফাঁদ এড়ানোর নানা প্রেরণা আছে। ২০২৬ সালের বেইজিং বৈঠকে শি চিনপিংয়ের সরাসরি এই তত্ত্ব উল্লেখ করা তাই শুধু একটি বুদ্ধিবৃত্তিক মন্তব্য নয়; এটি চীনের নতুন কূটনৈতিক অবস্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত।

    চীন কেন এখন এই ধারণাকে গ্রহণ করছে, তার কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ আছে। প্রথমত, থুসিডিডিসের ফাঁদ চীনকে উদীয়মান শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে সহায়তা করে। চীন এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। দেশটির সামরিক বাহিনী দ্রুত আধুনিক হয়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য, অবকাঠামো, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিতে চীনের উপস্থিতি বিস্তৃত। ফলে এই তত্ত্ব ব্যবহার করে বেইজিং বিশ্বকে মনে করিয়ে দিতে পারে—চীন আর প্রান্তিক শক্তি নয়; সে বৈশ্বিক ক্ষমতার কেন্দ্রের অন্যতম দাবিদার।

    দ্বিতীয়ত, এই তত্ত্ব ব্যবহার করলে যুক্তরাষ্ট্রকে সহজেই এক ধরনের উদ্বিগ্ন ও প্রতিরক্ষামূলক প্রতিষ্ঠিত শক্তি হিসেবে তুলে ধরা যায়। থুসিডিডিসের ফাঁদের অনেক আলোচনায় এমন ধারণা তৈরি হয় যে প্রতিষ্ঠিত শক্তিই সাধারণত বেশি ভয় পায়, বেশি বাধা দেয় এবং উদীয়মান শক্তিকে ঠেকাতে গিয়ে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ায়। এই ব্যাখ্যায় চীন হয়ে যায় স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে চলা শক্তি, আর যুক্তরাষ্ট্র হয়ে যায় নিজের আধিপত্য হারানোর ভয়ে অস্থির শক্তি।

    এই জায়গাটিই বেইজিংয়ের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। কারণ এতে চীনের সামরিক সম্প্রসারণ, প্রতিবেশীদের ওপর চাপ, বাজারে অনিয়ম, মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ কিংবা দক্ষিণ চীন সাগরে আগ্রাসী অবস্থান—এসব বিষয় পেছনে চলে যায়। সামনে আসে শুধু একটি বড় গল্প: যুক্তরাষ্ট্র চীনের উত্থান মেনে নিতে পারছে না। ফলে সম্পর্ক খারাপ হলে দায় যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াশিংটনের ঘাড়ে পড়ে।

    চীনের রাষ্ট্রীয় ও জাতীয়তাবাদী ভাষ্যেও এই কাঠামোর প্রভাব দেখা যায়। সেখানে বারবার বলা হয়, কোনো দেশের উত্থান নিজে সমস্যা নয়; সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন প্রতিষ্ঠিত শক্তি নতুন শক্তিকে ভয় পেতে শুরু করে। এই বক্তব্যে চীন নিজেকে স্বাভাবিক উত্থানের প্রতিনিধি হিসেবে দেখায় এবং যুক্তরাষ্ট্রকে অনিরাপদ, ঈর্ষান্বিত ও বাধাদানকারী শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে।

    তবে বাস্তবতা এত সরল নয়। শক্তির পালাবদল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে—এ কথা সত্য। কিন্তু শুধু ক্ষমতার ভারসাম্য বদলালেই সব ব্যাখ্যা শেষ হয়ে যায় না। রাষ্ট্রের আচরণ, শাসনব্যবস্থার ধরন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক নিয়মের প্রতি সম্মান—এসবও সমান গুরুত্বপূর্ণ, অনেক ক্ষেত্রে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    যুক্তরাষ্ট্রের পতনের ধারণাটিও অতিরঞ্জিত। ১৯৯৬ সালে শীতল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এবং একক পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের শীর্ষ সময়ে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ছিল প্রায় ২৫ শতাংশ। প্রায় ৩০ বছর পরও সেই অংশ প্রায় ২৫ শতাংশের কাছাকাছি। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র যদি দুর্বলও হয়ে থাকে, তা দ্রুত ভেঙে পড়া কোনো সাম্রাজ্যের মতো নয়। বরং দেশটি এখনো বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক রিজার্ভ মুদ্রার নিয়ন্ত্রক, পুঁজি ও মেধাবী মানুষের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য এবং বিশ্বজুড়ে সামরিক অভিযান চালাতে সক্ষম সবচেয়ে অভিজ্ঞ সামরিক শক্তি।

    তাই যুক্তরাষ্ট্রের চীনবিরোধী নীতি শুধু ক্ষমতা হারানোর আতঙ্ক থেকে এসেছে—এমন ব্যাখ্যা অসম্পূর্ণ। ওয়াশিংটনের উদ্বেগের পেছনে আছে বহু বছরের অভিজ্ঞতা: অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ, সামরিক বলপ্রয়োগের ঝুঁকি, ভূখণ্ডগত দাবি, মেধাস্বত্ব চুরি, গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এবং কৌশলগত সম্পদকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা। এসব বিষয়কে বাদ দিয়ে শুধু “উদীয়মান চীন বনাম আতঙ্কিত যুক্তরাষ্ট্র” গল্প বানালে বাস্তবতার বড় অংশ আড়াল হয়ে যায়।

    আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—চীনকে নিয়ে উদ্বেগ কি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের? যদি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হারানোর ভয়ই প্রধান সমস্যা হয়, তবে চীনের বহু প্রতিবেশী রাষ্ট্র কেন একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে? দক্ষিণ চীন সাগরে কৃত্রিম দ্বীপ সামরিকীকরণ, সমুদ্রপথে প্রভাব বিস্তার, অস্ট্রেলিয়া কোভিড–১৯ উৎস নিয়ে তদন্তের কথা বলায় চীনের কঠোর প্রতিক্রিয়া, হিমালয়ে ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ—এসব ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা হারানোর ভয় সরাসরি সম্পর্কিত নয়। এগুলো চীনের নিজস্ব আচরণ ও নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

    ভারতের উদাহরণ এ ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতের জনসংখ্যা এখন চীনের চেয়ে বেশি। ভারতের প্রবৃদ্ধির হারও উল্লেখযোগ্য। প্রতিরক্ষা ব্যয়ে ভারত বিশ্বে পঞ্চম স্থানে এবং অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনীর অধিকারী হতে পারে। তবুও ভারতকে ঘিরে সেই মাত্রার বৈশ্বিক ভয় তৈরি হয়নি, যা চীনকে ঘিরে দেখা যায়। এর কারণ শুধু শক্তির পরিমাণ নয়; বরং রাষ্ট্র কীভাবে শক্তি ব্যবহার করে, সেটিও আন্তর্জাতিক বিশ্বাস ও উদ্বেগ নির্ধারণ করে।

    এখানেই থুসিডিডিসের ফাঁদ ধারণার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। এটি উদীয়মান ও প্রতিষ্ঠিত শক্তির মধ্যে উত্তেজনা বোঝাতে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু বর্তমান চীন–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবকিছু ব্যাখ্যা করতে পারে না। কারণ এতে প্রায়ই মনে হয় উদীয়মান শক্তি যেন শুধু পরিস্থিতির ফল, তার নিজের কোনো সিদ্ধান্ত, দায় বা নীতিগত ভূমিকা নেই। এই সরলীকরণ চীনের জন্য রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক, কারণ এতে বেইজিং নিজেকে চাপের মুখে থাকা এক স্বাভাবিক উদীয়মান শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক, নিষেধাজ্ঞা, প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বা কৌশলগত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপকে শুধু চীনের উত্থান ঠেকানোর চেষ্টা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এসব পদক্ষেপের পেছনে চীনের বাজারনীতি, সামরিক আচরণ, প্রযুক্তি অধিগ্রহণের কৌশল এবং আন্তর্জাতিক নিয়মের প্রতি চ্যালেঞ্জের দীর্ঘ পটভূমি আছে। যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক হাতিয়ার ইরান, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া ও কিউবার বিরুদ্ধেও ব্যবহার করে থাকে। তাই শুধু চীনকে লক্ষ্য করে প্রতিষ্ঠিত শক্তির ভয় থেকে এই নীতি এসেছে—এমন দাবি যথেষ্ট দৃঢ় নয়।

    চীন এখন থুসিডিডিসের ফাঁদকে এমনভাবে ব্যবহার করছে, যাতে সংঘাত এড়ানোর নৈতিক দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বেশি পড়ে। বার্তা হলো—চীন উঠছে, যুক্তরাষ্ট্র যেন বাধা না দেয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্থিতিশীলতার দায় এক পক্ষের নয়। উদীয়মান শক্তিরও দায়িত্ব আছে তার উত্থানকে কতটা শান্তিপূর্ণ, নিয়মভিত্তিক ও প্রতিবেশীবান্ধব রাখা হবে।

    সুতরাং থুসিডিডিসের ফাঁদ নিয়ে আলোচনা জরুরি হলেও সেটিকে অন্ধভাবে গ্রহণ করা বিপজ্জনক। এই তত্ত্ব যদি এমনভাবে ব্যবহার করা হয় যে চীন কেবল ভুক্তভোগী আর যুক্তরাষ্ট্র কেবল সংঘাতের উৎস, তবে তা বাস্তবতাকে বিকৃত করবে। বড় শক্তির প্রতিযোগিতা শুধু ক্ষমতার হিসাব নয়; এটি আচরণ, বিশ্বাস, আইন, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নিয়মের প্রশ্নও।

    চীনের সাম্প্রতিক অবস্থান বদল তাই কেবল তাত্ত্বিক আগ্রহের বিষয় নয়। এটি কূটনৈতিক কৌশল। বেইজিং বুঝতে পেরেছে, যে ভাষা দিয়ে আন্তর্জাতিক জনমত প্রভাবিত করা যায়, সেটিও এক ধরনের শক্তি। থুসিডিডিসের ফাঁদ সেই ভাষারই অংশ হয়ে উঠেছে। এখন প্রশ্ন হলো—বিশ্ব কি এই বয়ানকে বিনা প্রশ্নে মেনে নেবে, নাকি ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রের আচরণকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিচার করবে?

    শেষ পর্যন্ত মূল বিষয়টি খুব সরল: চীনের উত্থান নিজে সমস্যা নয়। সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন সেই উত্থান চাপ, ভয়, নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মভঙ্গের মাধ্যমে এগোয়। আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়াও কেবল ক্ষমতা হারানোর আতঙ্ক নয়; এর পেছনে নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার বাস্তব উদ্বেগ রয়েছে। তাই থুসিডিডিসের ফাঁদের গল্প শুনলেই তাতে পড়ে যাওয়া উচিত নয়। বরং দেখতে হবে—কে ফাঁদের কথা বলছে, কেন বলছে, এবং সেই কথার আড়ালে কোন দায় কার ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, নিহত ৯৫; নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক

    আগস্ট 26, 2026
    আন্তর্জাতিক

    কেন বেসরকারি কোম্পানির হাতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি তুলে দিচ্ছে ভারত

    আগস্ট 26, 2026
    আন্তর্জাতিক

    যেভাবে বিরল খনিজের বিশ্ববাজার দখল করল চীন

    আগস্ট 26, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.