মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক। দীর্ঘদিনের সংঘাত, নিষেধাজ্ঞা এবং পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে বিরোধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা যেতে পারে। এমনকি তিনি ‘চূড়ান্ত বিজয়’ ঘোষণারও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ জুন) সাউথ ক্যারোলাইনায় আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে ভার্চ্যুয়ালি অংশ নিয়ে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। ওই সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সমর্থনে, যিনি দলীয় বাছাই ভোটে অংশ নিচ্ছেন।
ভাষণে ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং ইরান একটি ইতিবাচক সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তার দাবি, তেহরান এমন একটি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে যেখানে তারা পরমাণু অস্ত্র না রাখার প্রতিশ্রুতিও দিতে প্রস্তুত।
প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে এগোচ্ছে এবং খুব শিগগিরই বড় ধরনের সাফল্য ঘোষণা করা হতে পারে। তিনি মনে করেন, এই অগ্রগতি বাস্তবায়িত হলে শুধু কূটনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে আসার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ ট্রাম্পের বক্তব্যকে সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়নের পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ এর আগেও তিনি একাধিকবার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বড় অগ্রগতির কথা বলেছিলেন। গত ৮ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রেও দুই সপ্তাহের মধ্যে স্থায়ী সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছিল। যদিও সেই সময়সীমার মধ্যে প্রত্যাশিত চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য কয়েকটি বার্তা বহন করছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র ইরান ইস্যুতে সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনেও এই ইস্যুকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা থাকতে পারে।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো ট্রাম্পের বক্তব্যের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে আলোচনার প্রকৃত অগ্রগতি কতদূর, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক শুধু দুই দেশের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জ্বালানি বাজার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক কূটনীতির নানা সমীকরণ। তাই আগামী দুই সপ্তাহে কী ধরনের সিদ্ধান্ত বা সমঝোতা সামনে আসে, সেদিকে নজর থাকবে বিশ্বজুড়ে।
এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প যে ‘চূড়ান্ত বিজয়’-এর কথা বলেছেন, তা আদৌ কোনো ঐতিহাসিক চুক্তিতে রূপ নেয় কি না, নাকি এটি কেবল রাজনৈতিক আশাবাদের আরেকটি অধ্যায় হয়ে থাকে।

