মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য সমঝোতা এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী রোববার দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। সম্ভাব্য স্থান হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম বেশি আলোচনায় থাকলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ভেন্যু চূড়ান্ত হয়নি।
শনিবারের মধ্যে খসড়া চুক্তির শেষ পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এতে সই করতে পারেন। তবে কূটনৈতিক ভাষায় ‘সম্ভাবনা’ আর ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ এক বিষয় নয়। তাই স্বাক্ষরের আগ পর্যন্ত এই সমঝোতাকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে না দেখে, দ্রুত বদলাতে থাকা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।
খসড়ার মূল বার্তা: যুদ্ধ থামানো, চাপ কমানো, আলোচনার পথ খোলা
প্রস্তাবিত সমঝোতার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত থামানো এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ককে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের পথ থেকে কূটনৈতিক আলোচনার পথে ফিরিয়ে আনা। খসড়ায় যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা শিথিল, জব্দ অর্থ ছাড়, তেল রপ্তানি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—সবকিছুকেই একসঙ্গে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে সবচেয়ে জোরালো দাবি হলো লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত বন্ধ করা। তেহরান মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতা তখনই বাস্তব অর্থ পাবে, যখন তা শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং লেবাননসহ আঞ্চলিক সংঘাতের ক্ষেত্রগুলোতেও প্রভাব ফেলবে।
এই জায়গাটিই চুক্তিকে জটিল করে তুলেছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যদি নিজেদের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়, তবু লেবানন, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর বাস্তব অবস্থান আলাদা রাজনৈতিক ও সামরিক হিসাবের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ফলে খসড়ায় যুদ্ধবিরতির ভাষা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তা কার্যকর করা হবে কীভাবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।
ইরানের বড় দাবি: তেল রপ্তানি ও জব্দ অর্থ মুক্তি
খসড়া চুক্তিতে ইরানের দীর্ঘদিনের কয়েকটি দাবির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং বিদেশে আটকে থাকা বিপুল অর্থ মুক্ত করার সম্ভাবনা।
ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, খসড়ায় ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা শিথিল করার বিষয় রয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ থাকা বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করার কথাও আলোচনায় আছে। ইরানের জন্য এটি শুধু অর্থনৈতিক সুবিধা নয়; এটি রাজনৈতিক মর্যাদার প্রশ্নও। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে। তাই তেল বিক্রি ও জব্দ অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ তেহরানের জন্য বড় কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। ওয়াশিংটন চাইবে, ইরান আগে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করুক, তারপর ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সুবিধা পাক। অর্থাৎ শুধু চুক্তিতে সই করলেই ইরান সব সুবিধা পেয়ে যাবে—এমনটি যুক্তরাষ্ট্র সহজে মেনে নেবে না। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হচ্ছে, বাস্তব পদক্ষেপের সঙ্গে অর্থনৈতিক ছাড়কে যুক্ত করা হবে।
হরমুজ প্রণালি: অর্থনীতি ও নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দু
সম্ভাব্য চুক্তির আরেকটি বড় অংশ হলো হরমুজ প্রণালি। এই প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খসড়ার আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল ফিরিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
ইরান এই প্রণালিকে নিজের কৌশলগত শক্তির কেন্দ্র হিসেবে দেখে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা চায়, তেল ও গ্যাস পরিবহনের পথ যেন কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক চাপের মুখে বন্ধ না হয়ে যায়। তাই হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা শুধু আঞ্চলিক শান্তির বিষয় নয়; এটি বিশ্ববাজার, তেলের দাম এবং জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
চুক্তি হলে ইরান হয়তো দেখাতে চাইবে যে, তার অবস্থানকে উপেক্ষা করে হরমুজ প্রশ্নে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করবে, চুক্তির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ জলপথে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। একই ঘটনাকে দুই পক্ষই নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখাতে চাইতে পারে।
পারমাণবিক ইস্যু আপাতত ভবিষ্যতের আলোচনায়
খসড়ার সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবি, ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। অন্যদিকে ইরান বারবার বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারমাণবিক ইস্যুটি আপাতত ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সম্ভাব্য এই চুক্তি পুরো সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়; বরং বড় আলোচনার দরজা খোলার একটি প্রাথমিক কাঠামো। এটিকে তাই চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির চেয়ে অন্তর্বর্তী সমঝোতা বলা বেশি যথাযথ।
এই অবস্থান দুই পক্ষের জন্যই রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক। যুক্তরাষ্ট্র বলতে পারবে, তারা ইরানের পারমাণবিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের পথে এগিয়েছে। ইরান বলতে পারবে, তারা নিজেদের মূল অবস্থান থেকে সরে যায়নি। তবে বাস্তব প্রশ্ন হলো—পরবর্তী আলোচনায় ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের বিষয় কীভাবে নির্ধারিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্র কী পেতে চাইছে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকি কমানো, হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে সীমিত রাখার একটি কাঠামো তৈরি করা। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এটি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যুদ্ধ দীর্ঘ হলে জ্বালানি বাজার, জনমত এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে তার চাপ বাড়তে পারে।
ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে একটি ভালো সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে। এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি দেখানোর পর এখন কূটনৈতিক সাফল্যের ছবি তুলে ধরতে চাইছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এই চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ইরান যদি তেল রপ্তানির সুযোগ পায়, জব্দ অর্থ ফিরে পায় এবং আঞ্চলিক সংঘাতে নিজের শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে, তাহলে ওয়াশিংটনের কট্টরপন্থী মহল এটিকে ইরানের প্রতি অতিরিক্ত ছাড় হিসেবে দেখবে।
ইরান কেন এটিকে কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখাতে পারে
ইরানের জন্য এই সম্ভাব্য চুক্তি কয়েকটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, নিষেধাজ্ঞার চাপ কমলে দেশটির অর্থনীতি কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। দ্বিতীয়ত, জব্দ অর্থ মুক্ত হলে সরকারের হাতে নতুন আর্থিক সুযোগ তৈরি হবে। তৃতীয়ত, লেবাননসহ আঞ্চলিক ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির বিষয় অন্তর্ভুক্ত হলে তেহরান তা নিজের প্রভাবের স্বীকৃতি হিসেবে তুলে ধরতে পারবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, চুক্তির বড় অংশ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে এবং ইরান নিজের অবস্থান থেকে সরে আসবে না। এই বক্তব্যের রাজনৈতিক অর্থ হলো—তেহরান জনগণের সামনে দেখাতে চাইছে যে, চাপের মুখে তারা মাথা নত করেনি; বরং নিজেদের শর্ত ধরে রেখেই আলোচনায় এগিয়েছে।
ইসরায়েলের আপত্তি: সমঝোতার সবচেয়ে কঠিন বাঁক
এই সম্ভাব্য চুক্তির সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে ইসরায়েলের অবস্থান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবাননে সংঘাত বন্ধের বিষয়টি মেনে নেওয়া ইসরায়েলের জন্য কঠিন হবে। কারণ ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকলেও বর্তমান শান্তি আলোচনায় তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা স্মারক বা চুক্তির প্রক্রিয়ায় ইসরায়েল নেই। এই বক্তব্য শুধু কূটনৈতিক দূরত্বের ইঙ্গিত নয়; এটি ভবিষ্যৎ উত্তেজনারও সংকেত। যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তিতে যায়, কিন্তু ইসরায়েল তা মানতে রাজি না হয়, তাহলে লেবানন বা সিরিয়া ঘিরে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি থেকে যাবে।
ইসরায়েলের জন্য বিষয়টি নিরাপত্তার প্রশ্ন। তারা মনে করে, ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে সুযোগ দিলে ভবিষ্যতে আরও বড় হুমকি তৈরি হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখন হয়তো বড় আঞ্চলিক সংঘাত থামিয়ে কূটনৈতিক পথকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে। এই দুই অবস্থানের সংঘাতই আগামী দিনে চুক্তির বাস্তবতা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
চুক্তি হলে মধ্যপ্রাচ্যে কী বদলাতে পারে
চুক্তি সই হলে প্রথম প্রভাব পড়তে পারে সামরিক উত্তেজনায়। সরাসরি সংঘর্ষ কমলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। এর প্রভাব তেলের বাজারেও পড়তে পারে। জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতার ধারণা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ কমতে পারে।
দ্বিতীয়ত, ইরানের অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। তেল রপ্তানি বাড়লে এবং জব্দ অর্থ ছাড় হলে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে। তবে সবকিছু নির্ভর করবে চুক্তির বাস্তবায়ন, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর।
তৃতীয়ত, লেবানন প্রশ্নে নতুন কূটনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। যদি চুক্তিতে সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির ভাষা থাকে, তাহলে ইসরায়েলের ওপর সামরিক পদক্ষেপ কমানোর চাপ বাড়বে। কিন্তু ইসরায়েল যদি তা না মানে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
চুক্তির ঝুঁকি কোথায়
সমঝোতা যতই আশাব্যঞ্জক শোনাক, এর ঝুঁকি কম নয়। প্রথম ঝুঁকি হলো, দুই পক্ষ একই খসড়াকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে। ইরান যদি বলে তারা ছাড় দেয়নি, আর যুক্তরাষ্ট্র যদি বলে ইরান কঠোর শর্ত মেনেছে—তাহলে বাস্তবায়নের সময় বড় মতবিরোধ দেখা দিতে পারে।
দ্বিতীয় ঝুঁকি হলো, পারমাণবিক ইস্যু ভবিষ্যৎ আলোচনায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এর মানে সবচেয়ে কঠিন বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত। প্রাথমিক চুক্তি সই হলেও পরবর্তী আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।
তৃতীয় ঝুঁকি হলো, ইসরায়েলের বাইরে থাকা। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণে ইসরায়েল বড় পক্ষ। তাকে বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা হলে তা কাগজে শক্তিশালী হলেও মাঠে দুর্বল হতে পারে।
চতুর্থ ঝুঁকি হলো আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা। লেবানন, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেনের বাস্তবতা শুধু রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়। ইরান প্রভাব খাটাতে পারলেও প্রতিটি ফ্রন্টের নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামরিক হিসাব আছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়ের দরজা খুলতে পারে। তবে এটি এখনো নিশ্চিত শান্তির ঘোষণা নয়। বরং এটি এমন এক অন্তর্বর্তী সমঝোতার চেষ্টা, যেখানে যুদ্ধ থামানো, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, জব্দ অর্থ মুক্ত করা এবং পারমাণবিক আলোচনার পথ তৈরি করা—সবকিছুকে একসঙ্গে সামলানোর চেষ্টা চলছে।
রোববার যদি চুক্তি সই হয়, তাহলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক নয়, ইসরায়েল, লেবানন, জ্বালানি বাজার এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতার সাফল্য নির্ভর করবে কাগজে লেখা প্রতিশ্রুতির ওপর নয়; বরং কে কতটা বাস্তবায়ন করে, কে কতটা ছাড় দেয়, আর মাঠের সংঘাত কতটা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়—তার ওপর।

