লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে ভয়াবহ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর উচ্ছেদ নির্দেশের পরপরই একাধিক শহর ও গ্রামে ব্যাপক বিমান ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে স্থানীয় প্রশাসনের একজন মেয়রসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা।
স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, নাবাতিয়ে শহরসহ অন্তত বিশটি এলাকায় একযোগে এই হামলা চালানো হয়। এর আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রায় পঁয়তাল্লিশ কিলোমিটার দূরে সরে যেতে নির্দেশ দেয়। সেই সতর্কবার্তার কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় হামলার ঢেউ।
হামলায় রিহান, সুজুদ, কানা, বাযুরিয়াহ ও খিয়ামসহ বিভিন্ন এলাকায় বিমান ও ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। খিয়াম ও কাসিবা এলাকায় একটি আবাসিক ভবন ধসে পড়ে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়ে।
লেবাননের কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, নিহতদের মধ্যে জিজিন জেলার রিহান পৌরসভার মেয়রও রয়েছেন। এছাড়া টায়ার জেলার মারাকাহ ও নাবাতিয়ে অঞ্চলের দেইর আল-জাহরানিতে পৃথক হামলায় আরও কয়েকজন প্রাণ হারান। কিছু এলাকায় ভ্যান ও সাধারণ যানবাহন লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যদিও সেখানে হতাহতের পূর্ণ তথ্য এখনো নিশ্চিত হয়নি।
অন্যদিকে সীমান্ত পরিস্থিতিও আরও জটিল হয়ে উঠেছে। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলি সেনাদের অগ্রযাত্রা প্রতিরোধ করেছে এবং সীমান্তের ভেতরে ঢুকে পড়া বাহিনীর ওপর রকেট ও ভারী অস্ত্র দিয়ে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষায়, প্রতিরোধের মুখে ইসরায়েলি বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এক বক্তব্যে সতর্ক করে বলেছেন, লেবানন এখন এক সংকটময় মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্তের চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত সংঘাত এখন শুধু সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগত সংকটেও রূপ নিচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

