ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান। দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা প্রস্তাবিত চুক্তির রাজনৈতিক, আইনি, প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত বিভিন্ন দিক গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন বলে জানা গেছে।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আলোচনার অগ্রগতি থাকলেও তেহরান এখনো চুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়নি। সম্ভাব্য সমঝোতার প্রতিটি ধারা দেশের জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিষয়টি শুধু কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। ইরানের নীতিনির্ধারণী মহল, নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও চুক্তির সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণ করছেন। ফলে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পরিবর্তে সতর্ক ও হিসাবি অবস্থান নিয়েছে তেহরান।
গত কয়েক দিনে চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আশাবাদী বক্তব্য সামনে এলেও ইরানের অবস্থান সেই তুলনায় অনেক বেশি সংযত। সম্ভাব্য চুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় যখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমঝোতার শর্তগুলো চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, রোববারের মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং অনেকেই ধারণা করতে শুরু করেন যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে দুই দেশ একটি নতুন সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে।
তবে সেই আশাবাদে কিছুটা ভাটা দেয় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বক্তব্য। বাহিনীটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, রোববার কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে তারা চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের অতিরিক্ত আগ্রহেরও সমালোচনা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এমন একটি পরিস্থিতিতে রয়েছে যেখানে প্রতিটি কূটনৈতিক পদক্ষেপকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হচ্ছে। একদিকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক চাপের বিষয় রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা। ফলে কোনো সমঝোতা হলে সেটি ইরানের জন্য কতটা লাভজনক হবে, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত থাকলেও এখনই চূড়ান্ত চুক্তির ঘোষণা আসার সম্ভাবনা কম। বরং উভয় পক্ষ আরও কিছু সময় নিয়ে শর্তাবলি পর্যালোচনা এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তি শক্ত করার চেষ্টা করবে।
সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সম্ভাব্য সমঝোতার পথ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও তা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেনি। তেহরান আপাতত প্রতিটি বিষয় গভীরভাবে যাচাই করে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কৌশলই অনুসরণ করছে।

