ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি বিষয়—উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ঘিরে ইরানের নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তাদের ইউরেনিয়াম মজুত আরও সুরক্ষিত করতে কিছু ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ইচ্ছাকৃতভাবে ধসিয়ে দিয়েছে এবং প্রবেশপথের কাছে বিস্ফোরক মাইন পুঁতে রেখেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, ইরান কেন এমন পদক্ষেপ নিল? এটি কি শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নাকি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দর-কষাকষির একটি কৌশল? বিষয়টি বোঝার জন্য পারমাণবিক মজুত, সামরিক ঝুঁকি, সম্ভাব্য চুক্তি এবং আঞ্চলিক রাজনীতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপট একসঙ্গে দেখতে হবে।
ইউরেনিয়াম মজুত ঘিরে এত সতর্কতা কেন?
উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সাধারণ কোনো উপাদান নয়। এটি পারমাণবিক কর্মসূচির সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশগুলোর একটি। শান্তিপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন, গবেষণা কিংবা চিকিৎসা খাতে ইউরেনিয়াম ব্যবহারের দাবি থাকলেও উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সবসময় বেশি থাকে। কারণ নির্দিষ্ট মাত্রার পর এই উপাদান সামরিক কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি করে।
এই কারণেই ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত কোথায় আছে, কতটা আছে এবং সেটি কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে—এসব প্রশ্ন বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় শক্তি ও আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষকদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের অধিকাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মধ্য ইরানের ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রে ধসে পড়া সুড়ঙ্গগুলোর ভেতরে রাখা হয়েছে। এর বাইরে নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রসহ আরও কয়েকটি স্থাপনাতেও কিছু ইউরেনিয়াম সংরক্ষিত আছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি।
ধসে দেওয়া সুড়ঙ্গ ও পোঁতা মাইন: এর অর্থ কী?
যে স্থানে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বা পারমাণবিক উপাদান রাখা হয়, সেটিকে সাধারণত বহু স্তরের নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়। কিন্তু সুড়ঙ্গ ধসিয়ে দেওয়া এবং প্রবেশমুখে মাইন পোঁতার বিষয়টি নিরাপত্তাকে আরও এক ধাপ জটিল করে তোলে।
এর ফলে বাইরের কোনো পক্ষ যদি ওই মজুত উদ্ধার করতে চায়, তাহলে প্রথম বাধা হবে ধসে পড়া সুড়ঙ্গ। সেখানে প্রবেশ করতে হলে ভারী খননযন্ত্র, বিশেষ প্রকৌশল দল এবং সময়সাপেক্ষ উদ্ধার পরিকল্পনা লাগবে। দ্বিতীয় বাধা হলো বিস্ফোরক মাইন। এগুলো সরানো ছাড়া নিরাপদে ভেতরে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। আর মাইন অপসারণ নিজেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।
এর মানে, মাত্র এক মাস আগেও যে ইউরেনিয়াম মজুতের কাছে পৌঁছানো কঠিন ছিল, এখন সেটি আরও বিপজ্জনক, ধীর এবং অনিশ্চিত প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে।
ইরানের উদ্দেশ্য কী হতে পারে?
ইরানের এই পদক্ষেপকে কয়েকভাবে ব্যাখ্যা করা যায়।
প্রথমত, এটি হতে পারে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। ইরান হয়তো মনে করছে, তাদের পারমাণবিক স্থাপনা বা ইউরেনিয়াম মজুত সরাসরি সামরিক অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তাই আগেই এমনভাবে সুরক্ষা তৈরি করা হয়েছে, যাতে কোনো অভিযানে দ্রুত সাফল্য পাওয়া কঠিন হয়।
দ্বিতীয়ত, এটি হতে পারে রাজনৈতিক দর-কষাকষির অংশ। যখন কোনো পক্ষ জানে যে তার হাতে থাকা সম্পদ উদ্ধার করা কঠিন, তখন আলোচনার টেবিলে সেটি চাপ তৈরির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। ইরান চাইলে বলতে পারে, ইউরেনিয়াম আছে, কিন্তু সেটি এখন ধসে পড়া সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে আছে; উদ্ধার করতে সময় লাগবে, ঝুঁকি আছে, প্রযুক্তিগত সহায়তা লাগবে।
তৃতীয়ত, এটি ভবিষ্যতের চুক্তি বাস্তবায়নকে জটিল করার পথও হতে পারে। যদি কোনো চুক্তিতে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর বা ধ্বংসের শর্ত থাকে, তাহলে মাইন ও ধসে পড়া সুড়ঙ্গ সেই প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে।
সম্ভাব্য চুক্তি কেন কঠিন হয়ে পড়ছে?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। সেই চুক্তির অধীনে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে। পরে ইউরেনিয়ামের একটি অংশ ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হবে এবং বাকি অংশ দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
কাগজে-কলমে এই পরিকল্পনা সরল মনে হলেও বাস্তবে এটি অত্যন্ত জটিল। কারণ ইউরেনিয়াম যেখানে রাখা হয়েছে, সেখানে পৌঁছানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ধসে পড়া সুড়ঙ্গ খনন করতে হবে, বিস্ফোরক মাইন সরাতে হবে, পারমাণবিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় সামরিক ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এই বিপজ্জনক কাজ করবে কে? ইরান নিজে, যুক্তরাষ্ট্র, নাকি কোনো আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল? প্রতিটি বিকল্পের মধ্যে রাজনৈতিক ঝুঁকি আছে।
ইরানের হাতেও কি এখন ইউরেনিয়াম বের করা সহজ?
গোয়েন্দা সূত্রগুলোর মতে, পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে ইরানের পক্ষেও ওই ইউরেনিয়াম সহজে বের করে আনা সম্ভব নয়। কারণ মজুত যেখানে আছে, সেখানে পৌঁছাতে ভারী খননযন্ত্র ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি পোঁতা মাইন নিষ্ক্রিয় করতে হবে। এই দুই কাজই সময়সাপেক্ষ এবং বিপজ্জনক।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পারমাণবিক নিরাপত্তা প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা স্কট রোকারের মতে, গোয়েন্দা তথ্য সত্য হলে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে যাবে। তাঁর আশঙ্কা, ইরান ভবিষ্যতে চুক্তি বাস্তবায়নের সময় বলতে পারে যে কিছু ইউরেনিয়াম ধসে পড়া সুড়ঙ্গে আটকে গেছে এবং তা উদ্ধার করা সম্ভব নয়।
এই ধরনের দাবি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। কারণ তখন নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন হবে—ইরানের হাতে কত ইউরেনিয়াম আছে, কতটা উদ্ধার হয়েছে, আর কতটা এখনও অদৃশ্য অবস্থায় রয়ে গেছে।
ইসফাহান ও নাতাঞ্জ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ইসফাহান ও নাতাঞ্জ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে বহুবার আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসফাহানের পারমাণবিক কেন্দ্রের ধসে পড়া সুড়ঙ্গগুলোতে ইরানের অধিকাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাখা হয়েছে। ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনার স্যাটেলাইট ছবি ১১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাতাঞ্জও দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নজরদারির কেন্দ্রে। নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্সের প্রবেশপথের স্যাটেলাইট ছবি ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এসব ভূগর্ভস্থ স্থাপনা সাধারণত আকাশ হামলা বা সরাসরি সামরিক আক্রমণ থেকে সুরক্ষার জন্য তৈরি করা হয়।
আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেজফুলের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কথা প্রতিবেদনে এসেছে। সেখানে পাঁচটি প্রবেশপথের মধ্যে চারটি ১২ মে পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো সচল রাখতে এবং প্রয়োজনে দ্রুত পুনর্গঠনে সক্ষমতা দেখাতে চাইছে।
সামরিক অভিযান কেন স্থগিত হলো?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের ইউরেনিয়াম জব্দ করার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে ঝুঁকি বেশি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি স্থগিত করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে কয়েকটি বাস্তব কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, পারমাণবিক উপাদান উদ্ধার করা সাধারণ সামরিক অভিযানের মতো নয়। এখানে বিস্ফোরণ, বিকিরণ ঝুঁকি, আন্তর্জাতিক আইন, আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া—সবকিছু বিবেচনায় নিতে হয়। দ্বিতীয়ত, মাইন পোঁতা থাকলে অভিযান আরও জটিল হয়ে যায়। তৃতীয়ত, সুড়ঙ্গ ধসে থাকলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
ট্রাম্প নিজেও প্রকাশ্যে বলেছেন, শক্তি প্রয়োগ করে ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক কাজ। গোয়েন্দা সূত্রের মতে, ট্রাম্প যখন প্রকাশ্যে ইউরেনিয়ামকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন, তখন ইরান আরও শক্তভাবে তাদের পারমাণবিক সম্পদ রক্ষার ব্যবস্থা নেয়।
চুক্তি হলেও সমস্যা শেষ হবে না
ওয়াশিংটন ও তেহরান যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছায়ও, তাতে সমস্যার শেষ হবে না। বরং তখন শুরু হবে আরও দীর্ঘ প্রযুক্তিগত আলোচনা। ইউরেনিয়াম কোথায় আছে, কতটা আছে, কী অবস্থায় আছে, কীভাবে বের করা হবে, কে তদারকি করবে, কোথায় ধ্বংস হবে, কীভাবে সরানো হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান থেকে ইউরেনিয়াম সরাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পারমাণবিক নিরাপত্তা প্রশাসনের অধীনে বিশেষ মোবাইল ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট ব্যবহার করতে হতে পারে। এই ধরনের ইউনিট পরিচালনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত ওক রিজ জাতীয় গবেষণাগারের কার্যক্রমের সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এমন বিশেষজ্ঞ দল থাকলেও কাজটি দ্রুত শেষ করা যাবে না। ইউরেনিয়াম একটি ঝুঁকিপূর্ণ পারমাণবিক উপাদান। সেটি নিরাপদে উদ্ধার, পরীক্ষা, প্রক্রিয়াকরণ, ধ্বংস বা সরিয়ে নেওয়া—প্রতিটি ধাপেই সতর্কতা দরকার।
ট্রাম্প সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেছেন, পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি যদি ধসে পড়া সুড়ঙ্গ, মাইন এবং অজানা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ঘেরা হয়, তাহলে দুই সপ্তাহের সময়সীমাও বাস্তবে আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মূল উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো স্বচ্ছতা। কোনো দেশ যদি বলে যে তার ইউরেনিয়াম মজুতের কিছু অংশ ধসে পড়া সুড়ঙ্গে আটকে আছে, তাহলে সেটি যাচাই করা কঠিন। আবার সরাসরি উদ্ধার অভিযান চালাতে গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে। এই দুইয়ের মাঝখানে তৈরি হয় সন্দেহের জায়গা।
ইরান হয়তো বলতে পারে, সবকিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। যুক্তরাষ্ট্র হয়তো বলবে, পূর্ণ যাচাই ছাড়া কোনো চুক্তি বিশ্বাসযোগ্য নয়। আর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা চাইবেন এমন ব্যবস্থা, যাতে কোনো পক্ষের বক্তব্য একা সত্য হিসেবে গ্রহণ করতে না হয়।
এখানেই মাইন ও ধসে পড়া সুড়ঙ্গ শুধু নিরাপত্তা বাধা নয়, কূটনৈতিক বাধাতেও পরিণত হয়েছে।
বড় ছবিতে এর অর্থ কী?
ইরানের এই পদক্ষেপকে শুধু একটি সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটি বোঝা যাবে না। এটি একই সঙ্গে নিরাপত্তা, কূটনীতি, পারমাণবিক প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক শক্তির রাজনীতির অংশ।
ইরান হয়তো দেখাতে চাইছে, তার পারমাণবিক সম্পদ সহজে দখল করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র হয়তো চাইছে, চুক্তির মাধ্যমে ইউরেনিয়াম সরিয়ে ঝুঁকি কমাতে। কিন্তু মাটির নিচে ধসে পড়া সুড়ঙ্গ ও পোঁতা মাইন এই প্রক্রিয়াকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে, যেখানে সামরিক শক্তি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং রাজনৈতিক বিশ্বাস—সবকিছুর পরীক্ষা হবে।
এখন মূল প্রশ্ন শুধু ইউরেনিয়াম কোথায় আছে তা নয়। বড় প্রশ্ন হলো, সেটি নিরাপদে উদ্ধার করা যাবে কি না, ইরান পুরো মজুত প্রকাশ করবে কি না, এবং যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে নিশ্চিত হবে যে ভবিষ্যতে এই উপাদান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে ব্যবহার করা হবে না।
ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত ঘিরে মাইন পোঁতার ঘটনা তাই একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—পারমাণবিক প্রশ্নে শুধু চুক্তির ভাষা যথেষ্ট নয়। বাস্তব জায়গায় প্রবেশের পথ, সুড়ঙ্গের অবস্থা, মাইনের ঝুঁকি এবং পক্ষগুলোর পারস্পরিক বিশ্বাস—এসবই এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এই কারণে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য চুক্তি যতই কাছাকাছি মনে হোক, বাস্তবায়নের পথ এখনও বিপজ্জনক, দীর্ঘ এবং অনিশ্চিত।

