যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে চললেও নিজেদের সামরিক প্রস্তুতিতে কোনো ধরনের শিথিলতা আনছে না ইরান। বরং দেশটির সামরিক নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হবে এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি দেশটির সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্রের বক্তব্য প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পরও ইরান তার সামরিক সতর্কতা কমানোর কোনো পরিকল্পনা করছে না।
সামরিক মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতির মাত্রা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও উঁচুতে রাখা হবে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা অবকাঠামো, সামরিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত প্রস্তুতি শক্তিশালী করার কার্যক্রমও চলতে থাকবে।
ইরানের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। একদিকে তেহরান কূটনৈতিক সমঝোতার পথে হাঁটছে, অন্যদিকে সামরিক শক্তি ও প্রতিরোধ সক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়েও কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা নীতিরই ধারাবাহিকতা, যেখানে কূটনীতি এবং সামরিক প্রস্তুতি একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হয়।
বিবৃতিতে চুক্তি লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়েও কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ইরানি মুখপাত্র বলেন, সমঝোতা স্মারকের কোনো ধারা ভঙ্গ করা হলে কিংবা কোনো পক্ষ চুক্তি থেকে বিচ্যুত হলে তার জবাব অত্যন্ত কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, যদি প্রতিপক্ষ চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে, তাহলে ইরান খুব দ্রুত আঞ্চলিক সামরিক পরিস্থিতিকে চুক্তির আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। অর্থাৎ বর্তমান যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা ভেস্তে গেলে তেহরান পুনরায় আগের অবস্থানে ফিরে যেতে প্রস্তুত রয়েছে।
এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতাকে ইরান চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে দেখছে না। বরং এটি একটি পরীক্ষামূলক ও শর্তসাপেক্ষ প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে চুক্তি কার্যকর থাকলেও দেশটি তার সামরিক সক্ষমতা কমানোর পরিবর্তে আরও শক্তিশালী করার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরানের এই অবস্থানকে অনেক বিশ্লেষক ‘সতর্ক আশাবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। অর্থাৎ তেহরান কূটনৈতিক অগ্রগতিকে স্বাগত জানালেও সম্ভাব্য ঝুঁকির জন্য প্রস্তুতি ধরে রাখতে চাইছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার পথ খুললেও ইরানের বার্তা পরিষ্কার—শান্তি প্রক্রিয়া চলবে, তবে জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। বরং চুক্তির পুরো বাস্তবায়নকালজুড়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তিকে আরও সুসংহত করার দিকেই মনোযোগ দেবে দেশটি।

