ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এবার ইউক্রেন ও লেবাননের চলমান সংঘাত বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনস শহরে আয়োজিত এই সম্মেলনে ট্রাম্প এমন সময় যোগ দেন, যখন তার সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে বিশ্বনেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে, অন্যদিকে বিভিন্ন পশ্চিমা দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েনও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ইস্যুতে সফল অগ্রগতির পর এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হবে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং লেবাননের সংঘাত বন্ধ করা। তার ভাষায়, বিশ্বে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও দাবি করেন, সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার আলাদা আলাদা আলোচনা হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষই শান্তি আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে। যদিও এই আলোচনার বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
জি-৭ সম্মেলনের এই পর্যায়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক তার বৃহত্তর বৈশ্বিক নীতি কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ইরান ইস্যুতে সমঝোতার পর ট্রাম্প এখন মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপীয় সংঘাতগুলোকে দ্রুত সমাধানের একটি রাজনৈতিক এজেন্ডা সামনে আনতে চাইছেন।
অন্যদিকে সম্মেলনে উপস্থিত ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও কিছু টানাপোড়েনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশেষ করে সামরিক সহযোগিতা, ন্যাটোর ভূমিকা এবং বাণিজ্য নীতির বিষয়ে পারস্পরিক মতপার্থক্য এখনো পুরোপুরি নিরসন হয়নি।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তির ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে শেয়ার বাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গেও তিনি ইঙ্গিত দেন যে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ইতোমধ্যে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তার মতে, এ অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক সহায়তার প্রয়োজন নাও হতে পারে, তবে সীমিত নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রাখা যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই নতুন কূটনৈতিক অবস্থান একদিকে যেমন সংঘাত কমানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্নও তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে ইরান ইস্যুর পর এখন ইউক্রেন ও লেবাননকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের পরবর্তী শান্তি উদ্যোগ বিশ্ব রাজনীতির নতুন ফোকাসে পরিণত হয়েছে, যার প্রভাব আগামী মাসগুলোতে আরও স্পষ্ট হতে পারে।

