Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বৃহস্পতি, জুন 18, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ন্যাটো কেন বারবার সংকটে পড়েও টিকে যায়
    আন্তর্জাতিক

    ন্যাটো কেন বারবার সংকটে পড়েও টিকে যায়

    নিউজ ডেস্কজুন 17, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ন্যাটোকে ঘিরে সংকটের আলোচনা নতুন নয়। কয়েক মাস পরপরই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এমন এক ধরনের আলোচনা শুরু হয়, যেন এই সামরিক জোট বুঝি এবার সত্যিই ভেঙে পড়তে যাচ্ছে। কখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে মতবিরোধ, কখনো যুদ্ধের কৌশল, কখনো পারমাণবিক নীতি, আবার কখনো জোটের বাইরে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া না নেওয়ার প্রশ্ন—এসব বিষয় ন্যাটোর ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই অস্বস্তি তৈরি করে আসছে।

    তবে ন্যাটোর ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়, সংকটই যেন এই জোটের স্থায়ী বাস্তবতা। ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বিশ্লেষণধর্মী লেখাটির মূল বক্তব্যও এটাই—ন্যাটো বহুবার কঠিন বিভাজন, তীব্র মতবিরোধ ও রাজনৈতিক ঝাঁকুনির মুখে পড়েছে, কিন্তু এখনো ভেঙে যায়নি। বরং প্রতিবারই নতুনভাবে নিজেকে সামলে নিয়েছে।

    আজকের সংকটও তাই সম্পূর্ণ নতুন কিছু নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি ন্যাটোর পঞ্চম অনুচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যা জোটের সম্মিলিত প্রতিরক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ইউরোপীয় মিত্রদের অনীহা, ঘাঁটি ও আকাশপথ ব্যবহারে দ্বিধা এবং ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘপাল্লার সামরিক সক্ষমতা কমানোর পদক্ষেপ নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    অনেকের কাছে এই পরিস্থিতি নজিরবিহীন বলে মনে হতে পারে। কিন্তু ন্যাটোর ইতিহাস বলছে, এমন সংকট আগেও এসেছে। আর প্রতিবারই জোটটি ভাঙনের কিনারায় গিয়েও শেষ পর্যন্ত টিকে গেছে।

    সংকট ন্যাটোর জন্মলগ্ন থেকেই

    ন্যাটোর সবচেয়ে পুরোনো বিরোধের একটি হলো দায়িত্ব ভাগাভাগির প্রশ্ন। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, ইউরোপীয় মিত্ররা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট ব্যয় করে না এবং মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করে। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলোর দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা সব সময় যথেষ্ট দৃঢ় মনে হয়নি।

    এই দ্বন্দ্ব ন্যাটোর জন্মের সময় থেকেই ছিল। ১৯৪৯ সালে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি গঠনের সময় যুক্তরাষ্ট্র চাইছিল ইউরোপ নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াক। একই সময় ইউরোপ চাইছিল যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দিক। চুক্তির পঞ্চম অনুচ্ছেদে বলা হয়, কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে অন্যরা প্রয়োজন মনে করা পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু সেখানে স্বয়ংক্রিয় সামরিক হস্তক্ষেপের বাধ্যবাধকতা নেই। এই অস্পষ্টতাই একদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে নমনীয়তা দিয়েছে, অন্যদিকে ইউরোপীয়দের মধ্যে অনিশ্চয়তাও তৈরি করেছে।

    ১৯৫০ সালে প্রথম বড় প্রতিরক্ষা ব্যয় সংকট দেখা দেয়। এর আগের বছর সোভিয়েত ইউনিয়নের পারমাণবিক পরীক্ষার সফলতা এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় কমিউনিস্ট আগ্রাসন পশ্চিমা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান ইউরোপে অতিরিক্ত চারটি মার্কিন ডিভিশন মোতায়েনের পক্ষে যুক্তি দেন। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র কতটা এগোবে তা নির্ভর করবে মিত্ররা নিজেদের পক্ষ থেকে কতটা দায়িত্ব নেয় তার ওপর।

    ১৯৫১ সালে মার্কিন কংগ্রেস ন্যাটোর বিস্তৃত প্রতিরক্ষা প্যাকেজ অনুমোদন করলেও তাদের আশা ছিল, ইউরোপ অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ালে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমে যাবে। কিন্তু সেই আশা দ্রুত ভেঙে যায়। ডুইট আইজেনহাওয়ার নিজেও মনে করতেন, ইউরোপে মার্কিন সেনা থাকা অস্থায়ী ব্যবস্থা। তিনি ১৯৫১ সালে ঘনিষ্ঠজনকে বলেছিলেন, দশ বছরের মধ্যে যদি ইউরোপে থাকা মার্কিন সেনারা নিজ দেশে ফিরতে না পারে, তাহলে পুরো প্রকল্প ব্যর্থ বলে ধরে নিতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সেই উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি হয়ে যায়।

    প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে পুরোনো অভিযোগ

    ১৯৫৩ সালে স্টালিনের মৃত্যুর পর ইউরোপে সোভিয়েত হুমকির তীব্রতা নিয়ে ধারণা কিছুটা কমে যায়। এর ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোতে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের গুরুত্বও কমতে থাকে। এই সময় থেকেই ন্যাটোর ভেতরে এক ধরনের পুনরাবৃত্ত বিরোধ তৈরি হয়—যুক্তরাষ্ট্র বেশি ব্যয় করছে, ইউরোপ কম করছে, অথচ নিরাপত্তার সুবিধা সবাই নিচ্ছে।

    জন এফ কেনেডির সময় যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় দেশগুলোকে প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানায়। কিন্তু ইউরোপীয়দের যুক্তি ছিল, মার্কিন পারমাণবিক ছাতা থাকলে প্রচলিত অস্ত্রে বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন কমে যায়। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপ যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার শেষ করলেও প্রতিরক্ষায় জাতীয় আয়ের অংশ ক্রমেই কমাতে থাকে।

    এরপর বিভিন্ন সময়ে মার্কিন রাজনীতিকরা ইউরোপে মার্কিন সেনা কমানোর প্রস্তাব দেন। ১৯৭৭ সালে মিত্ররা প্রতিরক্ষা ব্যয় বছরে বাস্তব হিসাবে তিন শতাংশ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই অনেকেই সে লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়। ১৯৮৪ সালে মার্কিন সেনেটর স্যাম নান এমন প্রস্তাব দেন, যাতে ইউরোপীয়রা ব্যয় না বাড়ালে ইউরোপে মার্কিন বাহিনীর এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে দেওয়া হতো। প্রস্তাবটি পাস হয়নি, কিন্তু ইউরোপীয়দের ওপর চাপ তৈরি করেছিল।

    ২০০৬ সালের রিগা সম্মেলনে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্য মোট দেশজ উৎপাদনের দুই শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করার সময় ন্যাটোর ২৮ সদস্যের মধ্যে মাত্র অল্প কয়েকটি দেশ সেই লক্ষ্য পূরণ করছিল। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটসও সতর্ক করেছিলেন, মার্কিন জনগণ ও কংগ্রেসের ধৈর্য কমে আসছে, কারণ অনেক মিত্র নিজেদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করছে না।

    এই ইতিহাস দেখায়, প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ কোনো ট্রাম্প-যুগের নতুন আবিষ্কার নয়। এটি ন্যাটোর দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক বাস্তবতা।

    জোটের বাইরে যুদ্ধ: আরেক পুরোনো দ্বন্দ্ব

    ন্যাটোর আরেকটি স্থায়ী সংকট হলো—জোটের আনুষ্ঠানিক ভৌগোলিক সীমানার বাইরে সামরিক অভিযানে সদস্যদের ভূমিকা কী হবে। উত্তর আটলান্টিক চুক্তির ষষ্ঠ অনুচ্ছেদে জোটের প্রতিরক্ষার ভৌগোলিক সীমা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সদস্যরা কখনোই পুরোপুরি একমত হতে পারেনি যে এই সীমার বাইরে কোনো সংকটে ন্যাটোর দায়িত্ব কতটা।

    ১৯৫৬ সালে সুয়েজ সংকটে প্রথম বড় ফাটল দেখা যায়। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রকে না জানিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে মিসরের সুয়েজ খাল দখলের পরিকল্পনা করে। মিসর তখন খালটি জাতীয়করণ করেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার এই অভিযানকে সমর্থন না করে বরং জাতিসংঘে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে একই অবস্থানে গিয়ে ব্রিটিশ, ফরাসি ও ইসরায়েলিদের প্রত্যাহারে চাপ দেন। এতে ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ তৈরি হয়।

    এর দশ বছর পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গোল ন্যাটোর সমন্বিত সামরিক কাঠামো থেকে ফ্রান্সকে সরিয়ে নেন। এর পেছনে আলজেরিয়া, সুয়েজ সংকট এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধসহ নানা বিষয়ে ফ্রান্সের অসন্তোষ কাজ করেছিল। এর ফলে ন্যাটোর সদর দপ্তর প্যারিস থেকে ব্রাসেলসে সরাতে হয়। ইউরোপে ন্যাটোর সামরিক সদর দপ্তর বেলজিয়ামের মনসে যায় এবং ন্যাটো প্রতিরক্ষা কলেজ রোমে স্থানান্তরিত হয়। মাত্র এক বছরে এক লাখের বেশি মার্কিন ও ন্যাটো সদস্য এবং দশ লাখ টনের বেশি সরঞ্জাম সরানো হয়। এত বড় ধাক্কাও জোটকে শেষ করে দিতে পারেনি।

    সত্তরের দশকের ভয়াবহ সংকট

    ন্যাটোর ইতিহাসে সত্তরের দশকের শুরুর সংকট ছিল অত্যন্ত গুরুতর। ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে মিসর ও সিরিয়া ইসরায়েলে আক্রমণ করলে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সামরিক সরবরাহ দিতে শুরু করে। কিন্তু ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি আহ্বান সমর্থন করতে অস্বীকার করে। ফ্রান্স, গ্রিস, ইতালি ও তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ও আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। পর্তুগাল শেষ পর্যন্ত সম্মতি দিলেও তা এসেছিল যুক্তরাষ্ট্রের চাপের পর।

    যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহ পর তেল রপ্তানিকারক আরব দেশগুলো তেল নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। এতে পশ্চিমা অর্থনীতি বড় ধাক্কা খায় এবং আটলান্টিকের দুই তীরের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়। ইউরোপীয় সরকারগুলো নিষেধাজ্ঞা শেষ করতে আলাদা আলোচনা শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন প্রকাশ্যে ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দেন।

    এরপর ১৯৭৪ সালের জুলাইয়ে গ্রিস ও তুরস্ক সাইপ্রাস নিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। গ্রিস ন্যাটোর সামরিক কাঠামো থেকে সরে যায়। তুরস্ক নিজের ঘাঁটিতে মার্কিন কার্যক্রম স্থগিত করে। একই বছরে পর্তুগালে আফ্রিকায় ১৩ বছরের উপনিবেশিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বামপন্থি সামরিক অভ্যুত্থান হয়। যুক্তরাষ্ট্র তখন পর্তুগালকে ন্যাটো থেকে বাদ দেওয়া এবং আজোরেস দ্বীপপুঞ্জ দখলের কথাও বিবেচনা করেছিল। এই সময় অনেকের মনে হয়েছিল, ন্যাটো হয়তো কার্যত শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেটিও হয়নি।

    শীতল যুদ্ধের পর নতুন সমস্যা

    শীতল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ন্যাটোর সংকটের ধরন বদলে যায়। নব্বইয়ের দশকে যুগোস্লাভিয়ার ভাঙন ন্যাটোর ভেতরে নতুন প্রশ্ন তোলে। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে হস্তক্ষেপে অনীহা দেখায়, আর কিছু ইউরোপীয় দেশ যুগোস্লাভিয়ার ভাঙনকে উৎসাহিত করলেও পরবর্তী যুদ্ধ সামলানোর সামরিক ক্ষমতা তাদের ছিল না।

    ১৯৯৯ সালে সার্বিয়ার বিরুদ্ধে ন্যাটোর বিমান অভিযান জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হয়। এটি ছিল ন্যাটোর প্রথম দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ অভিযান। কিন্তু সদস্যদেশগুলোর রাজনৈতিক শর্ত, সামরিক সীমাবদ্ধতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সক্ষমতার ব্যবধান জোটের ভেতরের দুর্বলতা প্রকাশ করে।

    ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে হামলার পর ন্যাটো দ্রুত পঞ্চম অনুচ্ছেদ কার্যকর করে। শুরুতে এতে ঐক্যের বার্তা তৈরি হয়। কিন্তু ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ সেই ঐক্য ভেঙে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক অভিযান ন্যাটোর ভেতরে গভীর বিভাজন তৈরি করে। অনেক বিশ্লেষক তখনও বলেছিলেন, ন্যাটোর কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে।

    ২০১১ সালে লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য আগ্রহী ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে দ্বিধায় পড়ে। পরে বারাক ওবামা বিমান হামলার অনুমোদন দেন। গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হলেও লিবিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি শূন্যতা ও গৃহযুদ্ধ তৈরি হয়। এতে আবারও দেখা যায়, জোটের সদস্যরা কোনো অভিযানের উদ্দেশ্য ও পরিণতি নিয়ে একমত না হলে সংকট বাড়ে।

    ২০১৯ সালে তুরস্কের উত্তর সিরিয়া অভিযান নিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ন্যাটোকে ‘মস্তিষ্কের মৃত্যু’র অবস্থায় বলেছিলেন। তিনি মূলত উদ্বিগ্ন ছিলেন, তুরস্কের অভিযান ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে অপ্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারে। সে সময় তুরস্ককে স্থগিত বা বহিষ্কারের কথাও উঠেছিল, যদিও উত্তর আটলান্টিক চুক্তিতে এমন কোনো সরাসরি ব্যবস্থা নেই।

    বর্তমান সংকট কোথায় আলাদা

    বর্তমান সংকটের পেছনে কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করছে। প্রথমত, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ন্যাটোকে নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতায় দাঁড় করিয়েছে। ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য নয়, তাই পঞ্চম অনুচ্ছেদ কার্যকর হয়নি। কিন্তু ন্যাটো সদস্যরা ইউক্রেনকে অস্ত্র, গোয়েন্দা তথ্য, প্রশিক্ষণ ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়েছে। এর ফলে সদস্যদের মধ্যে সহায়তার মাত্রা, যুদ্ধের শেষ লক্ষ্য, আলোচনা কখন হবে এবং নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে—এসব নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।

    দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ ইউরোপকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে বাধ্য করেছে। অনেক ইউরোপীয় মিত্র এখন মোট দেশজ উৎপাদনের দুই শতাংশ লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছে বা তা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কয়েকটি দেশ তিন শতাংশের বেশি ব্যয়ের পরিকল্পনাও করছে। ট্রাম্পের কঠোর ভাষা মিত্রদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করলেও এর ফলে ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গতিশীল হয়েছে।

    তৃতীয়ত, ২০২৬ সালে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ ন্যাটোর ভেতরে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার অনেক ইউরোপীয় নেতার মতো বলেছেন, এটি তাদের যুদ্ধ নয়। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় ইউরোপীয় অনীহা ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছে। তিনি ইউরোপ থেকে সেনা কমানোর হুমকিও দিয়েছেন।

    এই ঘটনাগুলো দেখায়, ন্যাটোর সদস্যরা একে অপরের নিরাপত্তা স্বার্থকে সব সময় একইভাবে দেখে না। কোনো সদস্যের কাছে যে যুদ্ধ জরুরি, অন্য সদস্যের কাছে তা অপ্রয়োজনীয় বা ক্ষতিকর মনে হতে পারে। এখানেই জোটের স্থায়ী দ্বন্দ্ব।

    তবু ন্যাটো কেন টিকে থাকে

    ন্যাটো টিকে থাকার পেছনে আবেগের চেয়ে বাস্তব হিসাব বেশি কাজ করে। গণতান্ত্রিক দেশগুলোর জোটে মতভেদ থাকবেই, কারণ প্রতিটি দেশের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, জনমত, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও নিরাপত্তা অগ্রাধিকার আছে। তাই ন্যাটোর ভেতরে বিতর্ক কোনো ব্যতিক্রম নয়; বরং সেটি স্বাভাবিক।

    পঞ্চম অনুচ্ছেদের অস্পষ্টতাও জোটের স্থায়িত্বের একটি কারণ। এই অনুচ্ছেদ সদস্যদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করতে বাধ্য করে না। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রাখে। ইউরোপীয়দের কাছে এটি কখনো দুর্বল প্রতিশ্রুতি মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি প্রয়োজনীয় নমনীয়তা দিয়েছে। কঠোর ও অনমনীয় চুক্তি হলে হয়তো বহু আগেই বড় কোনো সংকটে জোট ভেঙে যেত।

    আরও বড় কারণ হলো, সদস্যদেশগুলো শেষ পর্যন্ত বুঝেছে—ন্যাটো ধরে রাখার রাজনৈতিক খরচ যতই হোক, এটি ভেঙে ফেলার নিরাপত্তা খরচ আরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ ছাড়লে ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো দুর্বল হবে। আবার ইউরোপীয় মিত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাবও কমে যাবে। এই পারস্পরিক প্রয়োজনই বারবার জোটকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করেছে।

    ন্যাটো আজ যে সংকটে আছে, তা গুরুতর। কিন্তু ইতিহাসের আলোকে দেখলে এটি অচেনা নয়। গত আট দশকে ন্যাটো অর্থ, যুদ্ধ, কৌশল, পারমাণবিক নীতি, আঞ্চলিক অভিযান, সদস্যদের অবিশ্বাস এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ টানাপোড়েন—সবকিছুই সামলেছে।

    বর্তমান সংকটও সেই দীর্ঘ ধারাবাহিকতার অংশ। ট্রাম্পের চাপ, ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয়, ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান প্রশ্ন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক—সব মিলিয়ে ন্যাটোর সামনে কঠিন পরীক্ষা তৈরি হয়েছে। তবে জোটের ইতিহাস বলছে, প্রতিটি বড় সংকটই শেষ পর্যন্ত ন্যাটোকে ভাঙার বদলে নতুনভাবে মানিয়ে নিতে বাধ্য করেছে।

    তাই ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও প্রতিটি মতবিরোধকে জোটের শেষ অধ্যায় ধরে নেওয়া ভুল হবে। ন্যাটো দুর্বলতা, অস্পষ্টতা ও বিরোধ নিয়েই টিকে আছে। এটাই তার সমস্যা, আবার এটাই তার শক্তি। সংকট ন্যাটোর জন্য ব্যতিক্রম নয়; বরং সংকট সামলে টিকে থাকাই ন্যাটোর সবচেয়ে পরিচিত রাজনৈতিক চরিত্র।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    গাজা থেকে বোগোটা: যে নির্বাচন ইসরায়েল-কলম্বিয়া সম্পর্কের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে

    জুন 17, 2026
    মতামত

    ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্রের সৃষ্ট জঞ্জাল পরিষ্কারে কীভাবে এগিয়ে এলো উপসাগরীয় দেশগুলো?

    জুন 17, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ব্রিটেনের রাজনীতিতে মেকারফিল্ড কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    জুন 17, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.