তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে খুশি করতেই ন্যাটো সম্মেলন আঙ্কারায় অংশ নেবেন বলে জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফোনালাপ সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আগামী জুলাইয়ের ন্যাটো সম্মেলনকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের সম্ভাব্য মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্মেলনে উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথ নির্ধারণের চেষ্টা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, বহু ইউরোপীয় দেশ মনে করে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের আয়োজনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রেসিডেন্ট সেখানে না থাকলে এবং তুরস্ক আয়োজক না হলে ট্রাম্প আসতেন না। তিনি কার্যত এটিকে গুরুত্বহীন বলেই ঘোষণা করতেন।”
ফিদান আরও বলেন, সম্মেলনে ইউরোপীয় ও মার্কিন উভয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা হবে। ট্রাম্প উপস্থিত না থাকলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান কঠিন হয়ে পড়ত।
এদিকে ব্রাসেলসে ন্যাটো প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি সামরিক ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করবে এবং জোটে আর্থিক অবদান কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করবে।
হেগসেথ বলেন, “এটি একটি বাস্তব পর্যালোচনা হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।”
সামরিক ব্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার মধ্যেও তুরস্ক তুলনামূলকভাবে চাপমুক্ত রয়েছে। কারণ এরদোয়ান ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন বলে মনে করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গাজা যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ এবং সাম্প্রতিক ইরান-সম্পর্কিত সমঝোতা প্রক্রিয়ায় আঙ্কারার ভূমিকা।
২০২৪ সালে তুরস্ক ন্যাটোর নির্ধারিত ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্য অতিক্রম করে জিডিপির ২.৩ শতাংশ ব্যয় করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে ন্যাটোর নির্ধারিত ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিকেই তাদের পরিকল্পনা এগোচ্ছে।
সম্মেলনের আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারেও মিত্র দেশগুলো সহায়তা বাড়িয়েছে। মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি দক্ষিণ তুরস্কে একটি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করে।
এ ছাড়া বৃহস্পতিবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ন্যাটোর স্থায়ী প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এবং জোটের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে ইতালির একটি এসএএমপি/টি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনিয়া শহরের তৃতীয় প্রধান জেট ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে।

