যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমার আশা তৈরি হলেও দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ব্যাপক বিমান ও গোলাবর্ষণ চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
শুক্রবার (১৯ জুন) লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ জেলা ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় রাতভর হামলা চালানো হয়। এতে বহু আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন মানুষ আহত কিংবা নিখোঁজ রয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও স্থল অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগের জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে লেবাননের পক্ষ থেকে হামলাকে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ এবং বেসামরিক জনগণের ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, নাবাতিহ, কাফার জুজ, কাফার রেমান, জেবদিনসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রথমে ভারী গোলাবর্ষণ শুরু হয়। পরে যুদ্ধবিমান থেকে একের পর এক হামলা চালানো হয়। অনেক এলাকায় গভীর রাতে বিস্ফোরণের শব্দে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নাবাতিহ শহর ও হারুফ এলাকা। এসব স্থানে অন্তত আটজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আল-শারকিয়া ও দুয়ের অঞ্চলের মধ্যবর্তী একটি আবাসিক বাড়িতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একই পরিবারের চারজন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
কাফার সির এলাকায় পৃথক আরেকটি হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে দুয়ের পৌরসভা ভবনের কাছে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হলে একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং আরেকজন গুরুতর আহত হন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সমঝোতা সত্ত্বেও লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি। বিশেষ করে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টা বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগ আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে, তবে লেবানন সীমান্তে সংঘাত অব্যাহত থাকলে সেই ইতিবাচক প্রভাব অনেকটাই সীমিত হয়ে যেতে পারে।
দক্ষিণ লেবাননের সর্বশেষ এই হামলা আবারও প্রমাণ করছে যে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এখনো পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে অঞ্চলটিতে আরও অস্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

