পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের রাজধানী নিয়ামের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বন্দুকধারীরা হামলা চালালে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।
নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন সেনাসদস্য এবং দুইজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ফজরের নামাজের পরপরই বিমানবন্দর এলাকায় হঠাৎ বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরের শান্ত পরিবেশ মুহূর্তেই পরিণত হয় সংঘর্ষের ময়দানে।
ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নাইজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোর একটি। বিমানবন্দরের ভেতরে একটি সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে, ফলে এটি দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
হামলার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র সংগঠন জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে।
নাইজার দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র বিদ্রোহ ও জঙ্গি তৎপরতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। দেশটিতে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতেও একই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যার দায় স্বীকার করেছিল ইসলামিক স্টেট-সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এ ধরনের হামলা নাইজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর কৌশলগত সক্ষমতার বিষয়টি সামনে আনছে।
নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, হামলার পর পালিয়ে যাওয়া হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর এলাকার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ভোর ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে নামাজ শেষ করার কিছুক্ষণ পরই তিনি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। পরে জানতে পারেন, বিমানবন্দর এলাকায় সশস্ত্র হামলা হয়েছে।
নাইজারে চলমান নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে নতুন এই হামলা দেশটির সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

