কাতারে অবরুদ্ধ থাকা প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ ফেরত পেতে যাচ্ছে ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলেই এই অর্থ মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
রোববার (২১ জুন) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, কাতারে আটকে থাকা অর্থ ইরানের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। আলোচনার আনুষ্ঠানিক সূচনার পর অর্থ ছাড়ের কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তবে সম্ভাব্য সমঝোতার মধ্যেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে বলে স্পষ্ট করেছেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ইরানের জন্য একটি মৌলিক বিষয় এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।
পেজেশকিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক। তিনি দাবি করেন, তেহরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা নেই এবং বহু বছর ধরেই দেশটি একই অবস্থান বজায় রেখে আসছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত ১৭ জুন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর অন্যতম লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক রাখা।
এর ধারাবাহিকতায় সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা করছেন।
মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে ইরানের পক্ষে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, কাতারে অবরুদ্ধ অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের অর্থনীতিতেও ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত আসা উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।

