ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলের একটি বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলার ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। সোমবার সকালে দেশটির লেইতে প্রদেশের তাকলোবান শহরের সান হোসে ন্যাশনাল হাই স্কুলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৯টার দিকে বিদ্যালয়ের ভেতরে হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে শুরু করে এবং শিক্ষকরা দ্রুত তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিদ্যালয় ঘিরে ফেলে এবং উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করে।
তাকলোবান সিটি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সঙ্গে জড়িত দুই সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করা হয়। অপর সন্দেহভাজন পরে নিজেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
পুলিশ প্রধান নোয়েলিতো গেটিগান জানিয়েছেন, হামলাকারীরা একটি .৩৮ ক্যালিবার রিভলভার এবং একটি ৯ মিলিমিটার পিস্তল ব্যবহার করে গুলি চালায়। তবে কী কারণে এই হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য, হামলাকারীদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সম্ভাব্য পরিকল্পনার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন।
আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আহতদের মধ্যে কারও অবস্থা গুরুতর কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার পর বিদ্যালয় এবং আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্য ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিপাইনে বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের কিছু দেশে এমন ঘটনা প্রায়ই আলোচনায় এলেও ফিলিপাইনে এ ধরনের সহিংসতা খুব বেশি দেখা যায় না। ফলে সাম্প্রতিক এই হামলা দেশজুড়ে নতুন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এর আগে ২০২২ সালের জুলাই মাসে কুইজন সিটির আতেনেও দে ম্যানিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এক বন্দুকধারীর হামলায় তিনজন নিহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। চার বছর পর আবারও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা দেশটির জনগণকে নাড়া দিয়েছে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদানের স্থান নয়, বরং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এখন সবার নজর তদন্তের ফলাফল এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে।

