ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় একটি কোচিং সেন্টার থাকা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) ভবনটিতে আগুন লাগার পর বহু মানুষ ভেতরে আটকা পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ভবনের প্রথম তলা থেকে লাফ দেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, আগুন লাগার পর প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ভবনটি জ্বলতে থাকে। পরে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনতলা ওই বাণিজ্যিক ভবনে একটি কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি পোষা প্রাণীর দোকানসহ আরও কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই বের হওয়ার সুযোগ পাননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি ভাঙা জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি কার্নিশ ধরে ঝুলে থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীসহ অনেক মানুষ ভবনের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। তবে আগুন লাগার সময় ভবনে ঠিক কতজন অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পাঁচ থেকে সাতজন শিক্ষার্থী নিচে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তত একজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তার হাড় ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বাত্মক সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

