কাতারের একটি গ্যাস কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং আরও কমপক্ষে ৬৬ জন আহত হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যায় সংঘটিত এ দুর্ঘটনার তথ্য সোমবার নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা কারখানাটি পুনরায় চালুর পর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা হয়।
কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিক রয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং বর্তমানে কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।
নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে, তা তিনি কখনো আশা করেননি।
প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে জ্বালানিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত বলেই মনে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত নাশকতা বা কোনো বৈরী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, তদন্তের প্রাথমিক ফলাফলে এটি একটি শিল্প দুর্ঘটনা বলে প্রতীয়মান হচ্ছে এবং এর পেছনে কোনো শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত নেই।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে কাতারের এ দুর্ঘটনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি করলেও জ্বালানিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে।
তার ভাষ্য, এই বিস্ফোরণের কারণে কাতারের জ্বালানি সরবরাহ বা বৈশ্বিক বাজারে রপ্তানি কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশে এমন দুর্ঘটনা আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ সৃষ্টি করলেও রপ্তানি অব্যাহত থাকার ঘোষণায় আপাতত বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা কমেছে।

