আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কিছু জোট আছে, যেগুলোকে বারবার দুর্বল, অকার্যকর কিংবা প্রায় মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা অনেক সময় এসব ধারণাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ভারতকে নিয়ে গঠিত কোয়াড তেমনই একটি জোট। দুই দশকের বেশি সময় আগে এর ধারণা সামনে আসার পর থেকেই অনেক বিশ্লেষক ও কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেছেন, এই জোট দীর্ঘদিন টিকবে না। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দেখাচ্ছে, বড় রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও কোয়াড মাঠপর্যায়ে সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে।
কোয়াডের সমালোচকরা নতুন নন। ২০১৭ সালে জোটটি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ভারতের এই উদ্যোগ সমুদ্রের ফেনার মতো মিলিয়ে যাবে। ২০২৫ সালের নভেম্বরেও একজন অস্ট্রেলীয় বিশ্লেষক মন্তব্য করেছিলেন, কোয়াড হয় মৃত, নয়তো এমন গভীর জীবনরক্ষাকারী অবস্থায় আছে যেখানে জীবনের লক্ষণ খুব কম। এই ধরনের মন্তব্যের পেছনে কিছু বাস্তব কারণও ছিল। টিকা সরবরাহে ব্যর্থতা, কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং জোটের লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার নিয়ে অস্পষ্টতা কোয়াডের ভাবমূর্তিকে দুর্বল করেছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এমন এক সময়ে বেড়েছে, যখন বহু বছর ধরে ওয়াশিংটন নীরবে ভারতকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রঘনিষ্ঠ কৌশলগত অবস্থানে আনতে চেয়েছে। একই সঙ্গে ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধ চার সদস্য দেশের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। অর্থাৎ কোয়াডের সদস্যরা একসঙ্গে থাকলেও সব আন্তর্জাতিক সংকটে তাদের অবস্থান এক নয়।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আরেকটি বড় প্রশ্ন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে কোয়াডের শীর্ষ নেতাদের কোনো সম্মেলন হয়নি। শীর্ষ সম্মেলন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এগুলো প্রশাসনিক কাঠামোকে সক্রিয় করে, নেতাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা সম্ভব করে এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের কাছে শক্ত রাজনৈতিক বার্তা পাঠায়। বাইডেন প্রশাসনের সময়ে এ ধরনের সম্মেলন প্রায় নিয়মিত ছিল এবং কোয়াডকে ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। তাই শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক না হওয়া স্বাভাবিকভাবেই অনেককে প্রশ্ন করতে বাধ্য করেছে—কোয়াড কি দুর্বল হয়ে পড়ছে?
তবে শীর্ষ সম্মেলন না হওয়াকে কোয়াডের মৃত্যু বলে ধরে নেওয়া তাড়াহুড়ো হবে। বাস্তবে চার দেশের নেতারা ট্রাম্পের দ্বিতীয় অভিষেকের পর একসঙ্গে না বসলেও, কাজ থেমে থাকেনি। বরং ট্রাম্পের মেয়াদের প্রথম বছরেই কোয়াডের সদস্য দেশগুলো কর্মপর্যায়ে প্রতি মাসে অন্তত একটি করে সম্পৃক্ততা বজায় রেখেছে। এটি দেখায়, জোটটির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পাতলা হলেও মাঠপর্যায়ের সহযোগিতা অনেকটাই স্থিতিশীল।
২০২৫ সালের মার্চে মিয়ানমারের ভূমিকম্পের পর চার দেশ সমন্বিত সহায়তায় যুক্ত হয়। ২০২৫ সালের জুনে প্রথমবারের মতো যৌথ উপকূলরক্ষী সহযোগিতা শুরু হয়। একই বছরের জুলাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উদ্যোগ চালু করা হয়। এরপর সন্ত্রাসবিরোধী কর্মগোষ্ঠীর তৃতীয় বৈঠক, ইন্দো-প্যাসিফিক সরবরাহব্যবস্থা নেটওয়ার্কের প্রথম মাঠ প্রশিক্ষণ এবং মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলা বিষয়ক কৌশলগত বৈঠক ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। এগুলো হয়তো বড় রাজনৈতিক ঘোষণা নয়, কিন্তু বাস্তব সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তুলতে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬ সালের ২৬ মে ভারতের নয়াদিল্লিতে কোয়াডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হয়। সংযুক্ত নথির প্রথম পাতার ছবিতে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে দেখা যায়, যা জোটের রাজনৈতিক উপস্থিতির একটি দৃশ্যমান বার্তা বহন করে। ওই বৈঠক থেকে ফিজিতে বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং সমুদ্র নজরদারি নিয়ে নতুন উদ্যোগসহ একাধিক ঘোষণা আসে। এই ঘোষণা প্রমাণ করে, নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন না হলেও কোয়াড পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় নয়।
কোয়াডের সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত এখানেই—এটি খুব ভারী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর জোট নয়, কিন্তু বাস্তব সহযোগিতার গতি বজায় রাখতে পারে। উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও কর্মপর্যায়ের যোগাযোগ ও প্রকল্প চলতে থাকলে জোটটি টিকে থাকতে পারে। নতুন ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার সময় কোয়াডের টিকে থাকার সবচেয়ে বাস্তব পথ হতে পারে এই কাজভিত্তিক সম্পর্কগুলোকে আরও শক্ত করা।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে যুক্তরাষ্ট্র অধ্যয়ন কেন্দ্রের আয়োজনে কোয়াডের দ্বিতীয় নেতৃত্ব সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ভারতের কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের প্রতিনিধি ও নীতিগবেষকরা অংশ নেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল নতুন কৌশলগত যুগে কোয়াডের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পথ। সেখানকার আলোচনায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়—কোয়াড অনেক ঘোষণা দিলেও সব ক্ষেত্রে বাস্তব ফল দেখাতে পারেনি। এই ব্যর্থতা সমালোচক ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে।
একজন অংশগ্রহণকারী যথার্থই মন্তব্য করেন, কোয়াড যেন ব্যর্থ হতে ভয় পায়, আবার সফল হতেও ভয় পায়। এই কথার মধ্যে জোটটির দ্বিধা ধরা পড়ে। কোয়াড অনেক বিষয়ে কথা বলে, কিন্তু সব ক্ষেত্রে শক্তিশালী বাস্তব ফল দেখাতে পারে না। তাই অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, এখন কোয়াডের উচিত ছড়িয়ে থাকা দীর্ঘ কর্মসূচি সংকুচিত করা এবং কয়েকটি অগ্রাধিকার খাতে মনোযোগ দেওয়া, যেখানে আঞ্চলিক অংশীদারদের জন্য দৃশ্যমান ফল দেওয়া সম্ভব।
এই অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উঠে এসেছে সমুদ্র নিরাপত্তা। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল মূলত সমুদ্রনির্ভর একটি কৌশলগত ক্ষেত্র। বাণিজ্যপথ, জ্বালানি প্রবাহ, তথ্য সংযোগ, বন্দর অবকাঠামো এবং সামরিক উপস্থিতি—সবকিছুই এখানে সমুদ্রের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই চারটি বড় সমুদ্রশক্তি যদি নিয়মিত সহযোগিতার অভ্যাস তৈরি করতে পারে, তাহলে তা শুধু নিরাপত্তা নয়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, কোয়াডকে সম্মিলিত প্রতিরোধের একটি কার্যকর উপকরণ হতে হবে। প্রয়োজন হলে এটি সম্মিলিত প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে কোয়াডকে হঠাৎ করে সরাসরি সামরিক জোটে রূপ নিতে হবে। বরং অনেক বিদ্যমান কার্যক্রম, যেগুলো মানবিক সহায়তা বা জনকল্যাণের ভাষায় উপস্থাপিত, সেগুলোর মধ্যেই কঠোর নিরাপত্তা সহযোগিতার ভিত্তি আছে।
উদাহরণ হিসেবে ইন্দো-প্যাসিফিক সরবরাহব্যবস্থা নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ। এটি যৌথ সরবরাহ সক্ষমতা তৈরির সুযোগ দেয়। একইভাবে সমুদ্রক্ষেত্র সচেতনতা বিষয়ক অংশীদারত্বও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমুদ্র পরিস্থিতি, চলাচল, ঝুঁকি ও নিরাপত্তা বিষয়ে তথ্য ভাগাভাগি করা সম্ভব। মালাবার নৌমহড়াও দেখিয়েছে, চার দেশের সহযোগিতা সবসময় কোয়াডের নামে হতে হবে না; বাস্তব কাজই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যতে কোয়াডের জন্য বড় কাজ হবে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সময়োপযোগী তথ্য বিনিময় বাড়ানো। লক্ষ্য হওয়া উচিত, সরবরাহব্যবস্থা ও সক্ষমতা ভাগাভাগি এমন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত করা, যাতে তা আর বিশেষ ঘটনা বলে মনে না হয়। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে এমন সহযোগিতা ধীরে ধীরে গভীর করতে হবে। এটি এক বছরের প্রকল্প নয়; বরং বেসামরিক প্রশাসন, সামরিক বাহিনী ও নীতিনির্ধারণী ব্যবস্থার মধ্যে দীর্ঘদিনের আস্থা ও অভ্যাস গড়ে তোলার বিষয়।
সমুদ্র নিরাপত্তার সঙ্গে বন্দর অবকাঠামোর সম্পর্কও গভীর। বন্দর শুধু পণ্য ওঠানামার জায়গা নয়; এগুলো বাণিজ্য, তথ্যপ্রবাহ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং কৌশলগত প্রভাবের কেন্দ্র। ছোট ও মাঝারি দেশগুলোর জন্য ভালো বন্দর অবকাঠামো অর্থনীতি বদলে দিতে পারে এবং তাদের কৌশলগত স্বাধীনতা বাড়াতে পারে। তাই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বন্দর বিনিয়োগ শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি নিরাপত্তা ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রও।
২০২২ সালে কোয়াড দেশগুলো ২০২৭ সালের মধ্যে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ২০২৫ সালে ভারত ভবিষ্যৎ বন্দর অংশীদারত্বের আওতায় আঞ্চলিক বন্দর ও পরিবহন সম্মেলন আয়োজন করে, যার লক্ষ্য ছিল মানসম্মত বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা করা। কিন্তু প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব সুবিধায় রূপ দেওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। ভারত মহাসাগর অঞ্চলে কোয়াডের সম্মিলিত বন্দর বিনিয়োগ এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার, যেখানে চীনের মোট অবদান ৪ বিলিয়ন ডলার। এই তুলনা দেখায়, কোয়াডের প্রতিশ্রুতি বড় হলেও মাঠে প্রতিযোগিতা কঠিন।
এখানে চার দেশের আলাদা শক্তি একসঙ্গে কাজে লাগানো যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণ ও সক্ষমতা গঠনের অভিজ্ঞতা, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন ও নিরাপত্তা সক্ষমতা, জাপানের মানসম্মত অবকাঠামো বিনিয়োগের অভিজ্ঞতা এবং ভারতের আঞ্চলিক প্রবেশাধিকার—এসব মিলিয়ে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে স্বচ্ছ, পরিবেশসম্মত এবং আধুনিক বন্দর গড়ে তোলা সম্ভব। তবে তার জন্য শুধু ঘোষণা নয়, সময়মতো অর্থ, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন দরকার।
গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আরেকটি বড় অগ্রাধিকার। আধুনিক প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি রূপান্তর, বৈদ্যুতিক যান, যোগাযোগ ব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ভূমিকা বাড়ছে। আলোচনায় এই সমস্যাকে ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হতে থাকা সংকট হিসেবে দেখা হয়েছে। কারণ সরবরাহব্যবস্থায় একক নির্ভরতা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই সমস্যার সহজ সমাধান নেই; তাই সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব অপরিহার্য।
বেসরকারি খাতকে যুক্ত করতে ক্রেতা-গোষ্ঠী, যৌথ অর্থায়ন এবং বিনিয়োগ নেটওয়ার্ককে নতুন গতি দেওয়ার মতো ধারণা সামনে এসেছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহব্যবস্থাকে বৈচিত্র্যময় করা যেতে পারে। এতে কোয়াড সদস্যরা শুধু নিজেদের নিরাপত্তা নয়, আঞ্চলিক অংশীদারদের জন্যও নির্ভরযোগ্য বিকল্প তৈরি করতে পারে।
প্রযুক্তি খাতেও কোয়াডের সুযোগ বড়। গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তি ব্যবহারে দায়িত্বশীল আচরণের মানদণ্ড গঠনে এই জোট ভূমিকা রাখতে পারে। মহাকাশ কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ, সমুদ্রতলের তার কেটে দেওয়া বা নাশকতা প্রতিরোধ, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল অবকাঠামো—এসব ক্ষেত্রে চার দেশ অভিন্ন নীতি ও মান তৈরি করতে পারে। এখনই যদি নিয়ম ও আচরণবিধির ভিত্তি তৈরি হয়, ভবিষ্যতে তা বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক কাঠামোর পথ খুলতে পারে।
কোয়াডের ইতিহাস দেখায়, এটি একেবারে ভঙ্গুর জোট নয়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পুনরুজ্জীবনের পর থেকে চার দেশের রাজধানীতে একাধিক নির্বাচন হয়েছে, সরকার বদলেছে, আন্তর্জাতিক সংকট এসেছে, তবু জোটটি টিকে আছে। এই স্থায়িত্বকে ছোট করে দেখা উচিত নয়। তবে টিকে থাকা আর কার্যকর হওয়া এক জিনিস নয়। কোয়াডকে এখন প্রমাণ করতে হবে, এটি শুধু আলোচনা মঞ্চ নয়; বরং বাস্তব ফল দিতে সক্ষম একটি কৌশলগত ব্যবস্থা।
নতুন কৌশলগত যুগে কোয়াডের সামনে তিনটি বড় ক্ষেত্র স্পষ্ট—সমুদ্র নিরাপত্তা, বন্দর অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও প্রযুক্তি সরবরাহব্যবস্থা। এই ক্ষেত্রগুলোতে যদি চার দেশ বাস্তব ফল দেখাতে পারে, তাহলে কোয়াড আঞ্চলিক অংশীদারদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা পাবে। কিন্তু যদি ঘোষণা ও বৈঠকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সমালোচকদের বক্তব্যই সত্য প্রমাণিত হতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, কোয়াড এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। শীর্ষ সম্মেলন না হওয়া, সদস্যদের মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্য এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা অবশ্যই চ্যালেঞ্জ। কিন্তু মাঠপর্যায়ের নিয়মিত সহযোগিতা দেখাচ্ছে, জোটটির ভেতরে এখনো প্রাণ আছে। এই প্রাণশক্তিকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দিতে হলে কোয়াডকে কম কথা, বেশি কাজের পথে যেতে হবে। আঞ্চলিক দেশগুলোকে দেখাতে হবে, কোয়াড তাদের নিরাপত্তা, অবকাঠামো, অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত ভবিষ্যতের জন্য বাস্তব মূল্য তৈরি করতে পারে। নইলে নতুন কৌশলগত যুগে এই চারদেশীয় জোট কেবল সম্ভাবনার গল্প হয়েই থেকে যাবে।

