চীনের তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী ফুজিয়ান তাইওয়ান প্রণালি অতিক্রম করার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—চীন কি সত্যিই তিন বিমানবাহী রণতরীর যুগে প্রবেশ করেছে, নাকি এটি এখনো একটি অসম্পূর্ণ সামরিক রূপান্তরের মধ্যবর্তী ধাপ? বাইরে থেকে ঘটনাটি চীনা নৌবাহিনীর আরেকটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বলে মনে হতে পারে। কিন্তু সামরিক কৌশল, তাইওয়ান প্রশ্ন, দক্ষিণ চীন সাগরের নিরাপত্তা পরিবেশ এবং চীনের দীর্ঘমেয়াদি নৌ আধুনিকায়নের দিকে তাকালে বিষয়টি অনেক বড় অর্থ বহন করে।
২৩ জুন চীনের তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী ফুজিয়ান তাইওয়ান প্রণালি দিয়ে অতিক্রম করে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রণতরীটি প্রণালির মধ্যরেখা পেরিয়ে পশ্চিম দিক দিয়ে অগ্রসর হয়। তাইওয়ানও সঙ্গে সঙ্গে নজরদারি, গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণ ও সামরিক প্রস্তুতির ব্যবস্থা সক্রিয় করে। মন্ত্রণালয় একটি সাদাকালো আকাশচিত্রও প্রকাশ করে, যেখানে ফুজিয়ানকে দেখা যায়। ছবিতে রণতরীর উড্ডয়ন মঞ্চে কোনো যুদ্ধবিমান দেখা যায়নি। এই একটি দৃশ্যই বোঝায়, ফুজিয়ান এখনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ প্রস্তুত অবস্থার বদলে পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।
চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম চলবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু তাইওয়ান প্রণালির মতো সংবেদনশীল জলপথে এমন যাত্রা কখনোই শুধু সাধারণ চলাচল নয়। এই প্রণালি পূর্ব এশিয়ার সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। তাই এখানে চীনের নতুন বিমানবাহী রণতরীর উপস্থিতি একদিকে সামরিক অগ্রগতির প্রদর্শন, অন্যদিকে রাজনৈতিক সংকেতও।
ফুজিয়ানের এই যাত্রা এমন সময় ঘটেছে, যখন তাইওয়ান সম্প্রতি দ্রুত যুদ্ধপ্রস্তুতি মহড়া চালিয়েছে এবং চীনও তাইওয়ানের আশপাশে উপকূলরক্ষী, নৌবাহিনী ও বিমানশক্তির সমন্বিত ব্যবহার বাড়িয়েছে। অর্থাৎ বেইজিং কেবল একক সামরিক শক্তি দেখাচ্ছে না; বরং বহুস্তরীয় চাপের কৌশল প্রয়োগ করছে। এতে নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং রাজনৈতিক বার্তা—সবকিছু একসঙ্গে কাজ করছে।
তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, তিনটি বিমানবাহী রণতরী থাকা মানেই কি চীনের তিনটি পূর্ণাঙ্গ রণতরী আঘাতকারী বহর প্রস্তুত? উত্তরটি এত সরল নয়।
চীনের হাতে এখন তিনটি বিমানবাহী রণতরী রয়েছে—লিয়াওনিং, শানডং এবং ফুজিয়ান। সংখ্যার হিসাবে এটি বড় অর্জন। কারণ বিমানবাহী রণতরী শুধু একটি যুদ্ধজাহাজ নয়; এটি সমুদ্রের ওপর ভাসমান বিমানঘাঁটি। একটি পূর্ণাঙ্গ রণতরী বহর চালাতে প্রয়োজন যুদ্ধবিমান, প্রশিক্ষিত পাইলট, উড্ডয়ন মঞ্চ পরিচালনাকারী দল, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী, সরবরাহ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা জাহাজ, ডুবোজাহাজ প্রতিরোধ সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমুদ্র অভিযানের অভিজ্ঞতা। এই সবকিছুর সমন্বয় ছাড়া শুধু রণতরীর সংখ্যা সামরিক শক্তির পূর্ণ পরিচয় দেয় না।
লিয়াওনিং সম্প্রতি পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে ৪০ দিনের বেশি সময় অভিযান চালিয়ে নিজ ঘাঁটি ছিংদাওয়ে ফিরেছে। অন্যদিকে শানডং সম্পর্কে ধারণা করা হচ্ছে, এটি দীর্ঘ রক্ষণাবেক্ষণ পর্যায়ে আছে। সানইয়ার ইউলিন নৌঘাঁটির শুকনো ডকে শানডংকে বছরের শুরু থেকেই দেখা গেছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে ইঙ্গিত মিলেছে। অর্থাৎ চীনের তিনটি রণতরী থাকলেও তিনটিই একই সময়ে পূর্ণাঙ্গভাবে অভিযানে নামার মতো অবস্থায় আছে—এ কথা বলা কঠিন।
ফুজিয়ানের দক্ষিণমুখী অগ্রসর হওয়া তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এটি বোঝাতে পারে যে রণতরীটির প্রশিক্ষণের পরবর্তী ধাপ দক্ষিণ চীন সাগরকে কেন্দ্র করে হতে পারে। দক্ষিণ চীন সাগর চীনের সামুদ্রিক কৌশলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে চীনের সার্বভৌমত্ব দাবি, কৃত্রিম দ্বীপ, সামরিক স্থাপনা, ফিলিপাইন নিয়ে উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি—সব মিলিয়ে অঞ্চলটি বৃহত্তর শক্তির প্রতিযোগিতার মঞ্চে পরিণত হয়েছে। ফুজিয়ান যদি এই অঞ্চলে প্রশিক্ষণ চালায়, তাহলে তা শুধু প্রযুক্তিগত পরীক্ষা নয়; বরং ভবিষ্যৎ সামরিক ব্যবহারযোগ্যতা যাচাইয়ের অংশও হতে পারে।
চীনের বিমানবাহী রণতরী উন্নয়নের সবচেয়ে বড় জটিলতা হলো পুরোনো ও নতুন ব্যবস্থার সহাবস্থান। লিয়াওনিং ও শানডং পুরোনো ধরনের স্কি-জাম্প উড্ডয়ন পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। এই ব্যবস্থায় যুদ্ধবিমান রণতরীর সামনের উঁচু ঢাল ব্যবহার করে উড্ডয়ন করে। এতে বিমান ওঠানো সম্ভব হলেও অস্ত্র ও জ্বালানি বহনের সীমাবদ্ধতা থাকে। অন্যদিকে ফুজিয়ান বিদ্যুৎচৌম্বকীয় উড্ডয়ন সহায়ক ব্যবস্থায় সজ্জিত। এটি আধুনিক, জটিল এবং অধিক সক্ষমতাসম্পন্ন। এর মাধ্যমে ভারী যুদ্ধবিমান, সতর্কীকরণ বিমান এবং ভবিষ্যতের আরও উন্নত উড়োজাহাজ পরিচালনার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
কিন্তু এই উন্নত প্রযুক্তিই আবার নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। পুরোনো ব্যবস্থায় প্রশিক্ষিত পাইলট, মঞ্চকর্মী ও রক্ষণাবেক্ষণ দলকে নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সময় লাগে। রণতরী থেকে উড্ডয়ন এবং অবতরণ স্থলভিত্তিক বিমানঘাঁটির চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। চলমান জাহাজের ওপর সীমিত জায়গায়, উচ্চ গতিতে, নানা আবহাওয়ার মধ্যে বিমান ওঠানো-নামানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। তাই ফুজিয়ান চালানো মানে শুধু একটি নতুন জাহাজ চালানো নয়; বরং সম্পূর্ণ নতুন বিমান পরিচালনা সংস্কৃতি গড়ে তোলা।
এখানেই চীনের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। তিনটি রণতরী পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালনার জন্য চীনের বিপুলসংখ্যক বিমান ও দক্ষ জনবল প্রয়োজন। যদি ফুজিয়ান পূর্ণ উড্ডয়ন মঞ্চে ৪০টি স্থির-পাখার উড়োজাহাজ বহন করে, তাহলে লিয়াওনিং ও শানডংয়ের জন্যও আলাদা বিমানবহর দরকার হবে। এর পাশাপাশি প্রয়োজন অতিরিক্ত বিমান, প্রশিক্ষণ বিমান, রক্ষণাবেক্ষণ সংরক্ষণ, ক্ষয়ক্ষতি পূরণের ব্যবস্থা এবং স্থলভিত্তিক প্রশিক্ষণ কাঠামো। বাস্তবে তিনটি রণতরী একসঙ্গে চালাতে শতাধিক বিমান এবং সমানুপাতিক পাইলট, প্রযুক্তিবিদ ও সরবরাহ কর্মী দরকার হতে পারে।
তাই চীন তিন রণতরীর মালিক হলেও, পূর্ণাঙ্গ তিন রণতরী অভিযান চালানোর মতো পরিণত নৌবিমান সক্ষমতা এখনো গড়ে ওঠেনি বলেই মনে হয়। বিষয়টি অনেকটা এমন—একটি দেশ বড় ঘর বানিয়েছে, কিন্তু সেই ঘরের সব কক্ষ এখনো সাজানো হয়নি, সব আলো এখনো জ্বলেনি, আর সব দরজা ব্যবহারযোগ্যও হয়নি।
তবু চীনের অগ্রগতিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। ফুজিয়ান দেশটির নৌ আধুনিকায়নের বড় প্রতীক। এটি দেখায়, চীন আর কেবল উপকূল রক্ষাকারী নৌবাহিনী হতে চায় না; বরং দূরসমুদ্র অভিযানে সক্ষম নৌশক্তি হতে চায়। একসময় চীনের সামুদ্রিক কৌশল ছিল নিজ উপকূল ও নিকটবর্তী জলসীমা রক্ষায় সীমাবদ্ধ। এখন লক্ষ্য বদলেছে। তাইওয়ান প্রণালি, দক্ষিণ চীন সাগর এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরকে একসঙ্গে যুক্ত করে একটি বৃহত্তর অভিযান ক্ষেত্র তৈরি করার চেষ্টা করছে বেইজিং।
ফুজিয়ানের তাইওয়ান প্রণালি অতিক্রম তাই দুই ধরনের বার্তা দেয়। প্রথমত, চীন দেখাতে চাইছে যে তার বিমানবাহী রণতরী এখন রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল জলপথেও চলাচল করতে পারে। দ্বিতীয়ত, এই ঘটনা একই সঙ্গে প্রমাণ করে যে চীনের সক্ষমতা এখনো রূপান্তরের মধ্যে আছে। ফুজিয়ান চলতে পারে, কিন্তু সে কি পূর্ণাঙ্গ আঘাতকারী রণতরী বহরের কেন্দ্র হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি অভিযান চালাতে প্রস্তুত? এ প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি হ্যাঁ নয়।
তাইওয়ানের জন্য এই ঘটনা উদ্বেগজনক। কারণ চীন যদি রণতরীভিত্তিক বিমানশক্তিকে নিয়মিতভাবে তাইওয়ানের আশপাশের সামরিক চাপের অংশ করে তোলে, তাহলে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। আগে যেখানে চীনা চাপ মূলত স্থলভিত্তিক বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, নৌজাহাজ এবং উপকূলরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে তৈরি হতো, সেখানে বিমানবাহী রণতরী যুক্ত হলে চাপ আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিশেষ করে পূর্ব দিক থেকে আকাশ ও সমুদ্রপথে চাপ তৈরি করার সম্ভাবনা বাড়ে।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্যও এই অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী উপস্থিতি শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণ করেছে। চীন যদি ধীরে ধীরে নিজস্ব রণতরী সক্ষমতা বাড়ায়, তাহলে এই অঞ্চলে সামরিক হিসাব বদলাবে। তবে চীন এখনো যুক্তরাষ্ট্রের মতো দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, বিশ্বব্যাপী ঘাঁটি, রসদ সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বহু দশকের রণতরী অভিযান সংস্কৃতির জায়গায় পৌঁছায়নি। তাই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, কিন্তু সমতা এখনো তৈরি হয়নি।
চীনের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তি নয়, বরং মানবসম্পদ ও সমন্বয়। জাহাজ বানানো চীনের শিল্প সক্ষমতার জন্য কঠিন নয়। কিন্তু দক্ষ পাইলট তৈরি, রণতরীর মঞ্চে দ্রুত ও নিরাপদ বিমান ওঠানো-নামানো, দীর্ঘসময় সমুদ্রে রক্ষণাবেক্ষণ চালানো এবং বাস্তব যুদ্ধপরিস্থিতিতে একাধিক রণতরী একসঙ্গে পরিচালনা করা—এগুলো অনেক বেশি কঠিন। প্রযুক্তি কেনা বা বানানো যায়, কিন্তু অভিজ্ঞতা তৈরি করতে সময় লাগে।
ফুজিয়ান হয়তো চীনের নতুন যুগের প্রতীক, কিন্তু প্রতীকের সঙ্গে বাস্তবতার দূরত্ব এখনো আছে। এই দূরত্ব কমাতে চীনকে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া, পাইলট রূপান্তর, রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা এবং নতুন ধরনের বিমান সংযোজনের ওপর জোর দিতে হবে। পুরোনো জে-১৫ নির্ভর ব্যবস্থা থেকে জে-১৫টি, জে-৩৫, কেজে-৬০০ এবং জে-১৫ডির মতো নতুন বিমান ব্যবস্থায় রূপান্তর সহজ হবে না। এতে অস্ত্র, যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষণ, গোলাবারুদ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থারও পরিবর্তন দরকার।
সব মিলিয়ে ফুজিয়ানের তাইওয়ান প্রণালি পাড়ি চীনের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ও সামরিক সংকেত। এটি দেখায় যে বেইজিং তার বিমানবাহী রণতরী কর্মসূচিকে তাইওয়ান ঘিরে চাপ প্রয়োগের কৌশলের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে যে চীনের রণতরী শক্তি দ্রুত বাড়লেও এখনো পরিণত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
চীন হয়তো তিন বিমানবাহী রণতরীর যুগে প্রবেশ করেছে—সংখ্যার হিসাবে এটি সত্য। কিন্তু তিনটি পরিণত, সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও একযোগে অভিযানক্ষম রণতরী বহরের যুগে চীন এখনো প্রবেশ করেনি। ফুজিয়ান সেই ভবিষ্যতের দরজা খুলেছে, কিন্তু দরজার ওপারে পৌঁছাতে চীনা নৌবাহিনীকে আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।
ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলের জন্য এ ঘটনার অর্থ হলো, ফুজিয়ানকে কেবল প্রতীকী জাহাজ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি চীনের সামুদ্রিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার বাস্তব ইঙ্গিত। তবে এটিকে অতিরঞ্জিত করাও ঠিক হবে না। চীনের ক্ষমতা বাড়ছে, কিন্তু সেই ক্ষমতার ভেতরে এখনো কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, প্রশিক্ষণ ঘাটতি এবং রক্ষণাবেক্ষণ চাপ রয়েছে। তাই ফুজিয়ানকে বোঝার সঠিক পথ হলো—এটি একদিকে চীনের অগ্রগতির চিহ্ন, অন্যদিকে তার অসম্পূর্ণ প্রস্তুতির আয়না।

