ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় মৃত্যুর মিছিলের মধ্যেও মিলছে আশার খবর। টানা তিন দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর আরও এক ১১ বছর বয়সী শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ এই অভিযান সফল হওয়ায় উদ্ধারস্থলে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
শনিবার (২৮ জুন) রাতে লা গুয়াইরা অঞ্চলের কারাবালেদা এলাকায় এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাজধানী কারাকাসের পাশের এই অঞ্চলটি সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি।
অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, হেলমেট ও বিশেষ নিরাপত্তা পোশাক পরিহিত উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে শিশুটিকে সতর্কতার সঙ্গে বাইরে নিয়ে আসছেন। কিছু দূরে চিকিৎসা সহায়তার জন্য প্রস্তুত ছিল স্ট্রেচার ও জরুরি চিকিৎসা দল।
ভিডিওটি প্রকাশ করে দেলসি রদ্রিগেজ লেখেন, কারাবালেদা এলাকা থেকে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এমন সংকটের সময় প্রতিটি উদ্ধার হওয়া জীবন পুরো ভেনেজুয়েলার জন্য নতুন আশার প্রতীক।
এটি ছিল একই দিনে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় শিশুর ঘটনা। এর আগে শনিবার সকালেও লা গুয়াইরা অঞ্চল থেকেই ‘ময়সেস’ নামের আরেক ১১ বছর বয়সী শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। সেই অভিযানে সহায়তা করে কলম্বিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা।
উদ্ধারকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় ঘণ্টার টানা প্রচেষ্টার পর মাটির প্রায় তিন মিটার গভীর থেকে ময়সেসকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়। উদ্ধারকর্মীরা জানান, ধ্বংসস্তূপ অত্যন্ত অস্থিতিশীল থাকায় পুরো অভিযান ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় সময় গত বুধবার সন্ধ্যায় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। এতে অসংখ্য ভবন, সেতু ও অবকাঠামো ধসে পড়ে এবং ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪৩০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোও স্থানীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

