Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice রবি, জুন 28, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » জার্মানিতে পুরোনো নাজি ইতিহাস নিয়ে নতুন আলোচনার ঝড়
    আন্তর্জাতিক

    জার্মানিতে পুরোনো নাজি ইতিহাস নিয়ে নতুন আলোচনার ঝড়

    নিউজ ডেস্কজুন 28, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    জার্মান সমাজ আবারও নিজের অতীতের সামনে দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার আট দশক পরে, যখন অনেকেই মনে করতে শুরু করেছে যে নাজি যুগ এখন শুধু ইতিহাসের বইয়ের বিষয়, তখন নতুনভাবে উন্মুক্ত হওয়া দলীয় নথি বহু পরিবারের নীরব গল্পকে নাড়িয়ে দিচ্ছে। অনেকে জানতে পারছে, তাদের দাদা, নানী, বাবা-মা বা পরিবারের অন্য কেউ নাজি দলের সদস্য ছিলেন। এই আবিষ্কার শুধু পারিবারিক বিস্ময় নয়; এটি জার্মানির জাতীয় স্মৃতি, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং বর্তমান চরম ডানপন্থী উত্থান নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।

    জার্মান রাজনৈতিক বিজ্ঞানী ইউর্গেন ফল্টার জীবনের বড় একটি অংশ ব্যয় করেছেন নাজি দলের সদস্যপদ, আদলফ হিটলারের উত্থান এবং জার্মান সমাজে নাজিবাদের বিস্তার নিয়ে গবেষণায়। তিনি এমন একজন গবেষক, যিনি নাজি আমলের দলীয় রেকর্ড বিশ্লেষণ করে বুঝতে চেয়েছেন কীভাবে সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে এক ভয়ংকর রাজনৈতিক ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু নিজের পরিবার নিয়ে সাম্প্রতিক একটি অনুসন্ধান তাকে ব্যক্তিগতভাবে নাড়া দেয়।

    ফল্টার আগে নিজের মায়ের যুদ্ধ-পরবর্তী নাজিমুক্তিকরণ সংক্রান্ত নথি খুঁজেছিলেন। যুদ্ধ শেষে মিত্রশক্তির তত্ত্বাবধানে জার্মানদের রাজনৈতিক ভূমিকা যাচাইয়ের যে প্রক্রিয়া হয়েছিল, তাতে বহু মানুষকে প্রশ্নমালা পূরণ করতে হয়েছিল। সেই নথিতে তার মা নির্দোষ হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন। অর্থাৎ, তাকে নাজি শাসনের অপরাধে জড়িত মনে করা হয়নি। মিথ্যা তথ্য দিলে তখন শাস্তির ঝুঁকিও ছিল। তাই ফল্টারের ধারণা ছিল, তার মা নাজি দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

    কিন্তু চলতি বছরের শুরুতে জার্মান সংবাদমাধ্যমগুলো যখন পুরোনো নাজি সদস্যপদ কার্ডের অনুসন্ধানযোগ্য তথ্যভান্ডার চালু করে, ফল্টার সেখানে নিজের মায়ের নাম খুঁজে পান। বিষয়টি তার কাছে ছিল গভীর বিস্ময়ের। তার মা ছিলেন উদারপন্থী ক্যাথলিক মানসিকতার মানুষ। ফল্টারের মতে, এমন একজন নারী ১৯৪০ সালে ২৩ বছর বয়সে নাজি দলে যোগ দিয়েছিলেন—এ কথা ভাবাই কঠিন। কিন্তু দলীয় কার্ডের নথিতে তার নাম থাকা বিষয়টিকে অস্বীকার করার সুযোগ কমিয়ে দেয়।

    এই আবিষ্কার আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে, কারণ ফল্টারের বাবা ছিলেন নাজিবাদের বিরোধী। তিনি গেস্টাপোর হাতে কারাবরণও করেছিলেন। ফল্টারের ধারণা, তার বাবা যদি বিয়ের আগে জানতেন যে তার হবু স্ত্রী নাজি দলের সদস্য ছিলেন, তাহলে হয়তো সম্পর্কই ভেঙে যেত। অর্থাৎ, পরিবারের ভেতর যে অতীত নিয়ে নীরবতা ছিল, তা শুধু ব্যক্তিগত লজ্জা নয়; এটি সম্পর্ক, বিশ্বাস এবং স্মৃতির রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত।

    ফল্টারের অভিজ্ঞতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। জার্মানির বহু মানুষ এখন নিজেদের পরিবারের অতীত নতুন করে খুঁজছে। আগে এসব নথি পেতে দীর্ঘ প্রক্রিয়া পার হতে হতো। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার আইন, আর্কাইভে আবেদন, অপেক্ষা—সব মিলিয়ে বিষয়টি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল। কিন্তু কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আর্কাইভ বেঁচে থাকা নাজি সদস্যপদ কার্ডের ফাইল অনলাইনে প্রকাশ করার পর জার্মান সংবাদমাধ্যমগুলো সেগুলোকে অনুসন্ধানযোগ্য আকারে পাঠকদের সামনে আনে।

    এখন জার্মান নাগরিকরা সহজেই জানতে পারছে, তাদের পূর্বপুরুষদের কেউ নাজি দলের সদস্য ছিলেন কি না। বড় সংবাদপত্র ও সাময়িকীগুলো পাঠকদের আহ্বান জানাচ্ছে—পরিবারের নাজি ইতিহাস খুঁজে দেখুন। এই আহ্বান জার্মান সমাজে নতুন আলোড়ন তুলেছে। কারণ বহু পরিবার দশকের পর দশক ধরে নিজেদের ইতিহাসকে নির্দোষ, নিষ্কলুষ অথবা অন্তত দূরবর্তী বলে কল্পনা করেছিল।

    ১৯৩৭ সালে এসএস প্রধান হাইনরিখ হিমলার নারী হিটলার ইউথের সদস্যদের উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন

    এখানেই বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গুরুত্বপূর্ণ। জার্মানিতে চরম ডানপন্থী শক্তির সমর্থন এখনো উল্লেখযোগ্য। বিকল্প ফ্যুর ডয়চল্যান্ড দল দেশটির রাজনীতিতে বড় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা জার্মানির যুদ্ধোত্তর স্মৃতি-সংস্কৃতির সমালোচনা করেছেন। তাদের যুক্তি, জার্মানদের অতীত অপরাধবোধের বোঝা থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় গর্বে বেশি মন দিতে হবে।

    এই বক্তব্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক কথাবার্তারও মিল আছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের ইলন মাস্ক এক ডানপন্থী সমাবেশে বলেছিলেন, জার্মানি অতীতের অপরাধবোধে অতিরিক্ত মনোযোগী, এবং বর্তমান প্রজন্মকে তাদের প্রপিতামহদের পাপের জন্য দায়ী করা উচিত নয়। এমন বক্তব্য জার্মানির ভেতরে স্মৃতি, দায়বোধ ও ইতিহাসচর্চা নিয়ে পুরোনো বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

    কিন্তু নতুন অনলাইন নথি যেন ঠিক বিপরীত দিকে সমাজকে ঠেলে দিচ্ছে। যেখানে চরম ডানপন্থীরা বলছে, অতীত নিয়ে এত ভাবা বন্ধ হোক, সেখানে এই তথ্যভান্ডার মানুষকে বলছে—পরিবারের ভেতরে তাকাও, প্রশ্ন করো, কে কী করেছিল তা জানার চেষ্টা করো। ইতিহাস তখন আর শুধু রাষ্ট্রের অপরাধ নয়; তা হয়ে ওঠে ঘরের ভেতরের অস্বস্তিকর স্মৃতি।

    তবে নাজি দলের সদস্যপদ কার্ড পাওয়া মানেই সব ক্ষেত্রে একই ধরনের অপরাধ বা বিশ্বাস বোঝায় না। গবেষকদের মতে, কখন একজন দলটিতে যোগ দিয়েছিলেন তা অনেক কিছু বোঝাতে পারে। ১৯৩৩ সালের আগে যারা যোগ দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে আদর্শগত বিশ্বাসের সম্ভাবনা বেশি ছিল। কারণ তখন নাজি দল ক্ষমতায় আসেনি, ফলে ঝুঁকি নিয়ে দলে যোগ দেওয়া অনেক সময় রাজনৈতিক বিশ্বাসের ইঙ্গিত বহন করত। কিন্তু ১৯৩৩ সালের পর হিটলারের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বহু মানুষ সুযোগসন্ধানী কারণে দলে যোগ দেয়। কেউ চাকরিতে উন্নতি চাইত, কেউ অর্থনৈতিক সুবিধা চাইত, কেউ পরিবারকে রক্ষা করতে চাইত, আবার কেউ সামাজিক চাপ এড়াতে চাইত।

    এই পার্থক্য বোঝা জরুরি। কারণ ইতিহাস বিচার করতে গিয়ে সব সদস্যকে একই রঙে দেখা যেমন ভুল, তেমনি সদস্যপদকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দেওয়াও ভুল। নাজি শাসন শুধু শীর্ষ নেতাদের কারণে টিকে ছিল না। লাখ লাখ সাধারণ মানুষের সহযোগিতা, নীরবতা, সুবিধাভোগিতা এবং মানিয়ে নেওয়ার প্রবণতা সেই ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছিল। নতুন নথিগুলো সেই সাধারণ মানুষের ভূমিকাকেই আলোতে আনছে।

    নাজি দলের সদস্যপদ কার্ডগুলোর ইতিহাসও নাটকীয়। যুদ্ধের শেষ দিকে নাজিরা দলীয় নথি ধ্বংস করতে চেয়েছিল। কার্ডগুলো মিউনিখের কাছের একটি কাগজকলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যাতে সেগুলো নষ্ট করা যায়। কিন্তু কাগজকলের মালিক এগুলোর গুরুত্ব বুঝতে পেরে আগত মার্কিন সেনাদের তা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বোঝান। ফলে শেষ মুহূর্তে নথিগুলো রক্ষা পায়। আজ সেই সংরক্ষিত কাগজই জার্মান পরিবারের বহু নীরব ইতিহাস প্রকাশ করছে।

    জার্মানিতে অতীতের মুখোমুখি হওয়া নতুন বিষয় নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটি বহুবার নাজি ইতিহাস নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আত্মসমালোচনার মধ্য দিয়ে গেছে। স্মৃতিসৌধ, শিক্ষা, পাঠ্যক্রম, গণহত্যার দলিল, হলোকস্ট স্মরণ—সব মিলিয়ে জার্মানি বিশ্বে এক বিশেষ উদাহরণ তৈরি করেছে। শহরের ফুটপাথে বসানো ছোট স্মৃতিফলকগুলো নিহত ইহুদি ও অন্য ভুক্তভোগীদের শেষ বাসস্থানের কথা মনে করিয়ে দেয়। এগুলো প্রমাণ করে, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্তরে স্মরণচর্চা অনেক দূর এগিয়েছে।

    কিন্তু জাতীয় স্মৃতি আর পারিবারিক স্মৃতি এক জিনিস নয়। রাষ্ট্র হয়তো অপরাধ স্বীকার করেছে, কিন্তু ঘরের ভেতরে অনেক পরিবার নিজেদের পূর্বপুরুষকে ভিন্নভাবে দেখিয়েছে। দাদা ছিলেন বাধ্য মানুষ, বাবা ছিলেন নীরব দর্শক, নানী ছিলেন নিরীহ, কেউ নাৎসি ছিল না—এমন গল্প বহু পরিবারে প্রচলিত ছিল। সমাজবিজ্ঞানীরা একে মৌখিক পারিবারিক স্মৃতির প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল হিসেবে দেখেন। পরিবার নিজের সম্মান রক্ষার জন্য অতীতকে মসৃণ করে বলে, অস্বস্তিকর অংশ বাদ দেয়, কখনো কখনো ভুক্তভোগী ও সহযোগীর ভূমিকা বদলে দেয়।

    ২০০২ সালে প্রকাশিত একটি আলোচিত গবেষণা বই এই সমস্যাকে গভীরভাবে তুলে ধরেছিল। সেখানে দেখা যায়, স্কুলে তরুণ প্রজন্ম হলোকস্ট ও নাজি অপরাধ সম্পর্কে জানলেও ঘরের গল্পে তাদের পূর্বপুরুষদের প্রায়ই নায়ক, উদ্ধারকারী অথবা নিজেরাই ভুক্তভোগী হিসেবে দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ ইতিহাসের বাস্তবতা ও পারিবারিক গল্পের মধ্যে বড় ব্যবধান ছিল। নতুন অনুসন্ধানযোগ্য নথি সেই ব্যবধান ভাঙছে।

    এখন তরুণ জার্মানরা শুধু ইতিহাসের বই পড়ছে না, নিজেদের পরিবারের নামও খুঁজছে। এতে ব্যক্তিগত স্তরে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে। কেউ হয়তো দেখছে, তার দাদা শুধু সাধারণ সৈনিক ছিলেন না, দলের সদস্যও ছিলেন। কেউ জানতে পারছে, পরিবার যাকে নাজিবিরোধী বলে জানত, তার নথিতে অন্য তথ্য আছে। আবার কেউ হয়তো বুঝছে, অতীতের নীরবতা নিজেই এক ধরনের গল্প—যেখানে যা বলা হয়নি, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

    এই পরিবর্তনের আরেকটি কারণ হলো, নাজি যুগ প্রত্যক্ষ করা শেষ প্রজন্ম ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছে। জীবন্ত স্মৃতি যখন ইতিহাসে পরিণত হয়, তখন নতুন প্রজন্ম আবেগের বন্ধন থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করতে পারে। দাদা-নানী জীবিত থাকলে যে প্রশ্ন করতে সংকোচ হতো, তাদের মৃত্যুর পর সেই প্রশ্ন করা সহজ হয়। কিন্তু একই সঙ্গে ঝুঁকিও থাকে—জীবন্ত সাক্ষ্য না থাকলে ইতিহাসকে বিকৃত করাও সহজ হয়। তাই নথিভিত্তিক অনুসন্ধান এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ।

    এই প্রেক্ষাপটে নতুন তথ্যভান্ডার শুধু পারিবারিক কৌতূহল মেটাচ্ছে না; এটি রাজনৈতিক অর্থও বহন করছে। চরম ডানপন্থার উত্থানের সময় এসব নথির প্রচার যেন এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সতর্কবার্তা। বার্তাটি হলো, গণতন্ত্র ভঙ্গুর, উগ্রবাদ এক দিনে জন্ম নেয় না, এবং সাধারণ মানুষের ছোট ছোট সমঝোতা বড় বিপর্যয়ের পথ খুলে দিতে পারে।

    গত জাতীয় নির্বাচনে বিকল্প ফ্যুর ডয়চল্যান্ড উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। তাদের ১৫২টি আসন জার্মান রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এমন সময়ে নাজি অতীত নিয়ে পরিবারভিত্তিক অনুসন্ধান নাগরিকদের মনে করিয়ে দেয়—অতীতের উগ্রবাদও শুরুতে অনেকের কাছে স্বাভাবিক, সুবিধাজনক বা দূরবর্তী বলে মনে হয়েছিল।

    তবে সবাই মনে করেন না যে এই আলোচনা সরাসরি চরম ডানপন্থার উত্থান থামিয়ে দেবে। ফল্টারের মতে, নতুন অনুসন্ধান হয়তো রাজনৈতিকভাবে চরম ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে শক্ত বাধা তৈরি করবে না। কিন্তু এটি মানুষকে আবার ভাবতে বাধ্য করবে—কীভাবে এত বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ নাজি দলের সদস্য হয়েছিল? এ প্রশ্নই হয়তো সবচেয়ে জরুরি।

    কারণ ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক ভুলগুলোর একটি হলো মনে করা—অত্যাচারীরা সবসময় অন্য কেউ। বাস্তবে নাজি শাসনের ভিত গড়ে উঠেছিল সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, সুবিধা গ্রহণ, ভয়ের কারণে নীরবতা, সামাজিক চাপ এবং ধীরে ধীরে নৈতিক সীমারেখা সরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। নতুন নথিগুলো জার্মানদের সামনে সেই অস্বস্তিকর সত্য আবার তুলে ধরছে।

    এখানে নৈতিক প্রশ্নও আছে। বর্তমান প্রজন্ম কি পূর্বপুরুষদের অপরাধের জন্য দায়ী? সরল উত্তর হলো, তারা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী নয়। কিন্তু স্মরণ, শিক্ষা ও সতর্ক থাকার দায়িত্ব তাদের আছে। অতীতের অপরাধ অস্বীকার করলে বা ছোট করে দেখালে তা বর্তমান রাজনীতির জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কারণ ইতিহাস ভুলে যাওয়া মানে একই ধরনের রাজনৈতিক ভাষা, ঘৃণা ও বিভাজনকে আবার স্বাভাবিক হতে দেওয়া।

    জার্মানির অভিজ্ঞতা বিশ্বের অন্য দেশগুলোর জন্যও শিক্ষণীয়। প্রায় সব সমাজেই এমন অতীত আছে, যা পরিবার বা রাষ্ট্র লুকাতে চায়। যুদ্ধ, দমন-পীড়ন, সংখ্যালঘু নিপীড়ন, রাজনৈতিক সহিংসতা—এসব ইতিহাস শুধু আদালত বা আর্কাইভে থাকে না; তা পরিবার, স্মৃতি, ভাষা ও নীরবতার ভেতরেও বেঁচে থাকে। জার্মানির নতুন নথি-অনুসন্ধান দেখাচ্ছে, সত্য কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। কাগজ, কার্ড, নাম, তারিখ—কখনো না কখনো ফিরে এসে প্রশ্ন করে।

    এ কারণেই এই ঘটনাকে শুধু অতীত খোঁজার গল্প হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়। এটি বর্তমানের গল্পও। একদিকে চরম ডানপন্থী রাজনীতি অতীতের দায় ঝেড়ে ফেলতে বলছে, অন্যদিকে নাগরিক সমাজ ও সংবাদমাধ্যম মানুষকে নিজের ঘরের ইতিহাস খুঁজতে উৎসাহ দিচ্ছে। এই দ্বন্দ্বই আজকের জার্মানির বড় রাজনৈতিক ও নৈতিক পরীক্ষা।

    জার্মানি কি অতীতের ভারে আটকে থাকবে, নাকি অতীত বুঝে আরও সতর্ক গণতন্ত্র গড়ে তুলবে—এই প্রশ্ন নতুন নয়। কিন্তু এবার প্রশ্নটি আরও ব্যক্তিগত। এবার ইতিহাস শুধু পাঠ্যবইয়ের পাতায় নয়; তা পারিবারিক নামের তালিকায়, পুরোনো কার্ডে, অস্বস্তিকর নীরবতায় এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বলা গল্পের ফাঁকে ফিরে আসছে।

    শেষ পর্যন্ত এই অনুসন্ধানের মূল্য এখানেই। এটি মানুষকে দোষী প্রমাণ করার আয়োজন নয়; বরং স্মৃতিকে সৎ করার চেষ্টা। পরিবারকে অপমান করার জন্য নয়; বরং পরিবারকে বাস্তব ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য। জাতীয় অপরাধকে ব্যক্তিগত বোঝায় পরিণত করার জন্য নয়; বরং বুঝতে শেখার জন্য যে উগ্রবাদ তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সাধারণ মানুষ তাকে স্বাভাবিক ভাবতে শুরু করে।

    নাজি অতীত নিয়ে জার্মানির এই নতুন আলোচনার তাই গভীর তাৎপর্য আছে। এটি দেখাচ্ছে, ইতিহাস থেকে এগিয়ে যেতে হলে ইতিহাসকে চাপা দেওয়া নয়, বরং খোলা চোখে দেখা দরকার। অতীতের ক্ষত ঢেকে রাখলে তা শুকায় না; বরং ভেতরে ভেতরে পচে যায়। সত্যের মুখোমুখি হওয়া কষ্টকর, কিন্তু গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সেই কষ্টই প্রয়োজনীয়।

    জার্মান সমাজের এই নতুন আত্মজিজ্ঞাসা হয়তো সব রাজনৈতিক বিপদ থামাতে পারবে না। কিন্তু এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জাগিয়ে রাখবে—আমাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র কীভাবে একদিন অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেছিল? আর সেই প্রশ্ন যতদিন বেঁচে থাকবে, ইতিহাস ভুলে যাওয়ার দাবি তত সহজে জয়ী হবে না।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    চীন কি সত্যিই তিন রণতরীর যুগে প্রবেশ করেছে?

    জুন 28, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ভেনেজুয়েলার ধ্বংসস্তূপে তিন দিন পর মিলল আরও এক শিশু

    জুন 28, 2026
    আন্তর্জাতিক

    তীব্র তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে অতিরিক্ত ১ হাজার মানুষের মৃত্যু

    জুন 28, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.