হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে কয়েক দিনের টানা সামরিক উত্তেজনার পর আপাতত সংঘাত থেকে সরে এসে আবারও আলোচনার পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। উভয় পক্ষ সাময়িকভাবে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রেখে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে অচলাবস্থা কাটানোর চেষ্টা করবে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা চলবে। এই সময়ে উভয় পক্ষ নতুন করে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবে না এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। তাদের প্রতিবেদনে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরেক কর্মকর্তা বলেন, দুই দেশই পরিস্থিতি আরও জটিল না করে সংঘাত থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক নৌপথের অবাধ ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ উত্তেজনা এড়ানোর সম্ভাব্য ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
অ্যাক্সিওসের দাবি, এবারের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু থাকবে হরমুজ প্রণালি। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি দলের প্রধান নিক স্টুয়ার্টও অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন কিংবা তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে আলোচনার বিষয়বস্তু বা সম্ভাব্য সমঝোতার চূড়ান্ত রূপরেখা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
গত দুই দিনে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে নতুন করে অস্থির করে তোলে। এতে উভয় দেশের মধ্যে আগে হওয়া সমঝোতাও চাপে পড়ে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি আবারও হামলার পথ বেছে নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে ইরানও স্পষ্ট জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘিত হলে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া স্থগিত করা হতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে। তাই এই জলপথে যে কোনো সামরিক উত্তেজনা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষকদের মতে, দোহায় অনুষ্ঠিতব্য বৈঠক সফল হলে সাম্প্রতিক সংকট কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে হরমুজকে ঘিরে উত্তেজনা আবারও দ্রুত বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়েই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

