একই দিনে দুটি পৃথক বিমান দুর্ঘটনায় সৌদি আরব ও ফ্রান্সে অন্তত ২৫ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সৌদিতে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলে একটি বেসামরিক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) ঘটে যাওয়া এই দুটি দুর্ঘটনার খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি প্রকাশ করেছে। পরপর দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে শোকের আবহ তৈরি করেছে।
সৌদি আরবে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর কর্মীদের বহনকারী একটি হেলিকপ্টার উড্ডয়নের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে হেলিকপ্টারে থাকা ১৪ জনই নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।
তবে হেলিকপ্টারটি ঠিক কোন এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে কিংবা দুর্ঘটনার পেছনে কী কারণ ছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
একই দিনে ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলের তোমব্লেইন শহরের কাছে একটি বেসামরিক উড়োজাহাজও বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজটির ১০ জন যাত্রী এবং একজন পাইলট নিহত হয়েছেন। ফলে সেখানে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।
উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করলেও দুর্ঘটনায় আরোহীদের কাউকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ফরাসি কর্তৃপক্ষও তদন্ত শুরু করেছে।
দুটি দুর্ঘটনার কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। প্রযুক্তিগত ত্রুটি, আবহাওয়াজনিত সমস্যা অথবা অন্য কোনো কারণ দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে কি না, তা তদন্ত শেষে জানা যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একই দিনে পৃথক দুটি দেশে এমন প্রাণঘাতী বিমান দুর্ঘটনা আবারও বেসামরিক ও কর্মী পরিবহন উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্ত শেষ হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশও সামনে আসতে পারে।

