ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলে তাদের আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিচালিত সামরিক হামলা ও বেসামরিক স্থাপনায় আঘাতের ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির মুখোমুখি করা প্রয়োজন।
রোববার (২৮ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোজতবা খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এই মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ২০২৫ সাল থেকে শুরু করে ইরানের বিরুদ্ধে সংঘটিত সব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে তার প্রশাসন কাজ চালিয়ে যাবে।
তার বক্তব্যে গত বছরের ১২ দিনের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং চলতি বছরে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, এসব অভিযানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হয়েছে এবং বহু বেসামরিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
মোজতবা খামেনির অভিযোগ, বিদেশি শক্তিগুলো ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষ প্রাণহানি, অবকাঠামো ধ্বংস ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি বিশেষভাবে মিনাব শহরের একটি স্কুল এবং লামের্দ শহরের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার কথা উল্লেখ করে এগুলোকে যুদ্ধাপরাধের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যাসহ অসংখ্য বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মামলা হওয়া উচিত। তার ভাষায়, এসব ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করাই ন্যায়বিচারের একমাত্র পথ।
মোজতবা খামেনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতারা প্রকাশ্যে বিভিন্ন সামরিক অভিযানের দায় স্বীকার করেছেন। তার মতে, এসব বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ স্বীকারের সমতুল্য এবং ভবিষ্যতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের সংঘাত এবং চলতি বছরের সামরিক অভিযানের সময় সংঘটিত সব অভিযোগ তদন্তের আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন বক্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের সম্পর্ক আবারও চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত, পাল্টাপাল্টি হুমকি এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই মন্তব্য দুই পক্ষের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে।
তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ প্রমাণ এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। ফলে ইরানের এই দাবির কূটনৈতিক ও আইনি পরিণতি কী হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

