মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘লুজার’ (হারু মানসিকতার মানুষ) বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত, অযোগ্য এবং আত্মমুগ্ধ প্রশাসন বলে অভিযোগ করেছেন।
শনিবার (২৮ জুন) মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের হ্যানোভারে ডেমোক্রেটিক পার্টির এক গালা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাইডেন এসব মন্তব্য করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রায় ১০ মিনিটের ভাষণে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন।
বাইডেন অভিযোগ করেন, হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙে সেখানে একটি বলরুম নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়া জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস-এর ভবনের সামনে নিজের নাম যুক্ত করা হলেও পরে আদালতের নির্দেশে তা সরিয়ে নিতে হয়েছে।
২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে হামলার ঘটনায় দণ্ডিত হয়ে পরে প্রেসিডেন্টের ক্ষমা পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করেন বাইডেন। তিনি বলেন, “উফ! কী ভয়ংকর! কী হারু মানসিকতার মানুষ।”
বাইডেন লিংকন মেমোরিয়ালের প্রতিফলন পুকুর সংস্কার প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই ট্রাম্পের এক দাতাকে ১৭ লাখ ডলারের পানি পরিশোধন ব্যবস্থার চুক্তি দেওয়া হয়েছে, যা তার ভাষায় ‘প্রকাশ্য ও নির্লজ্জ দুর্নীতির’ উদাহরণ।
পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও ট্রাম্পকে আক্রমণ করেন বাইডেন। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন এবং ন্যাটোকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছেন। তার দাবি, ট্রাম্প বিশ্বের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাকে যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।
উল্লেখ্য, ঠিক দুই বছর আগে ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিভিশন বিতর্কে দুর্বল পারফরম্যান্সের পর ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান বাইডেন। পরে নির্বাচনে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে পরাজিত করে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন।
এদিকে ক্ষমতা ছাড়ার পর আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বাইডেন পরিবার। সাবেক ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন সম্প্রতি তার স্মৃতিকথা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ছেলে হান্টার বাইডেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনীতি, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আসক্তি থেকে পুনরুদ্ধার নিয়ে নিয়মিত লিখছেন।
অনুষ্ঠানের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে জো বাইডেন বলেন, “গণতন্ত্র কেবল দর্শক হয়ে দেখার বিষয় নয়; মানুষের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজ করার মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখা যায়।”

