হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই এর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে ইরান। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় প্রণালিটির পরিচালনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষ যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে।
সোমবার (২৯ জুন) তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ লক্ষ্যে গঠিত ‘যৌথ হরমুজ কমিটি’ প্রথম বৈঠক সম্পন্ন করেছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, মাসকাট সফরের সময় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে উভয় পক্ষ খোলামেলা আলোচনা করেছে।
এই বৈঠক এমন সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওয়াশিংটন ও তেহরান আপাতত সামরিক সংঘাত বন্ধ রেখে আবারও আলোচনায় ফিরতে সম্মত হয়েছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, উভয় দেশ আপাতত হামলা থেকে বিরত থাকবে এবং হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে।
তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। রোববার তেহরান সতর্ক করে জানিয়েছিল, কোনো জাহাজ যদি নির্ধারিত নৌপথ এড়িয়ে চলাচলের চেষ্টা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
ভৌগোলিকভাবে হরমুজ প্রণালি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে অবস্থিত। তবে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল বন্ধ করা বা এর জন্য একতরফাভাবে টোল আরোপ করার অধিকার কোনো দেশের নেই।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

