রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা আরও একবার ভয়াবহ রূপ নিল। ইউক্রেনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে রাশিয়ার একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং গ্লাইড বোমা হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৯ জুন) দিনভর ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে এই হামলা চালানো হয়। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল এবং অবকাঠামো।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে দিনিপ্রো শহর থেকে। সেখানে হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে একটি বিদ্যালয়, কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বহু আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ এখনো শেষ হয়নি। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
জাপোরিঝঝিয়া শহরেও ভয়াবহ হামলা হয়েছে। একটি যাত্রীবাহী মিনিবাসকে লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় ৩ জন নিহত হন। আহতদের মধ্যে ৭ বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। মোট অন্তত ৮ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে খারকিভে গ্লাইড বোমা হামলায় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শহরের বিভিন্ন স্থাপনায়ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় অভিযোগ করেন, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে দিনিপ্রোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
তিনি বলেন, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি। এজন্য ইউরোপের দেশগুলোকে নিজেদের অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
জেলেনস্কির মতে, কেবল ইউক্রেন নয়, সমগ্র ইউরোপের নিরাপত্তার স্বার্থেই আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
হামলার বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
যুদ্ধের শুরু থেকেই মস্কো এবং কিয়েভ—উভয় পক্ষই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে প্রতিটি বড় হামলার পরই উভয় দেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধ এখনো কোনো সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছায়নি। বরং সামরিক চাপ বাড়িয়ে কৌশলগত সুবিধা অর্জনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে উভয় পক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শিল্পাঞ্চল, জ্বালানি অবকাঠামো এবং পরিবহন নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার মাধ্যমে প্রতিপক্ষের অর্থনীতি ও যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করার কৌশলই এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, সাধারণ মানুষের জীবন ও অবকাঠামোর ওপর এর প্রভাবও তত গভীর হচ্ছে।

