আফগানিস্তানের ভেতরে বারবার বিমান হামলা চালিয়েও পাকিস্তান কেন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে থামাতে পারছে না—এই প্রশ্ন এখন শুধু সামরিক বিশ্লেষণের বিষয় নয়। এটি পাকিস্তানের রাষ্ট্রনীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা, আফগান তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং সন্ত্রাস দমন কৌশলের গভীর সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান আবার আফগানিস্তানের কয়েকটি প্রদেশে হামলা চালিয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটি। পাকিস্তান বলছে, আফগানিস্তানের ভেতর থেকে এসব গোষ্ঠী পরিকল্পনা করে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু আফগান তালেবান সরকারের দাবি ভিন্ন। তাদের বক্তব্য, পাকিস্তানের হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলার পরও দুই পক্ষের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সীমান্তের দুই পাশে উত্তেজনা যে বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে, তা স্পষ্ট।
এই উত্তেজনার পেছনে বড় কারণ হলো করাচিতে নিরাপত্তা বাহিনীর স্থাপনায় হামলা। পাকিস্তানের আধা সামরিক বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলায় কয়েকজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন। হামলার দায় স্বীকার করে জামাত-উল-আহরার, যাকে পাকিস্তান তালেবান নেটওয়ার্কের একটি শাখা হিসেবে দেখা হয়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের মতে, হামলাকারীদের সঙ্গে আফগানিস্তানের যোগসূত্র ছিল। এ কারণেই ইসলামাবাদ আবার আফগান ভূখণ্ডে হামলার পথ বেছে নেয়।
কিন্তু এখানেই মূল প্রশ্নটি আসে। যদি বিমান হামলাই কার্যকর সমাধান হতো, তাহলে এত হামলার পরও পাকিস্তানের ভেতরে সশস্ত্র হামলা কেন কমছে না? কেন খাইবার পাখতুনখাওয়া, বেলুচিস্তান, করাচি ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো বারবার হামলার মুখে পড়ছে? কেন প্রতিটি বড় হামলার পর পাকিস্তান একই প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, অথচ একই চক্র আবার ফিরে আসছে?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে শুধু সামরিক অভিযানের দিকে তাকালে চলবে না। দেখতে হবে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের আফগান নীতি, সীমান্ত বাস্তবতা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সামাজিক ও রাজনৈতিক শিকড়কে। পাকিস্তান বহু বছর ধরে আফগানিস্তানকে নিজের নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে দেখেছে। কিন্তু সেই কৌশলের ফল এখন উল্টোভাবে ইসলামাবাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। যে অঞ্চলে একসময় কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের চিন্তা ছিল, সেখান থেকেই এখন নিরাপত্তা হুমকি ফিরে আসছে।
তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা পাকিস্তান তালেবান বহু বছর ধরে পাকিস্তানি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তারা আফগান তালেবানের মতো নয়, কিন্তু মতাদর্শ, ইতিহাস ও সীমান্তভিত্তিক সম্পর্কের কারণে দুই পক্ষের মধ্যে নানা ধরনের যোগাযোগ ও সহানুভূতির জায়গা রয়েছে। আফগান তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তান আশা করেছিল, কাবুল তাদের কথা শুনে পাকিস্তানবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বরং পাকিস্তানের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী আফগানিস্তানে নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছে।
তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে। তাদের বক্তব্য, তারা আফগান মাটি অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অনুমতি দেয় না। কিন্তু পাকিস্তান তা বিশ্বাস করছে না। এখানেই দুই দেশের সম্পর্কের মূল সংকট। পাকিস্তান মনে করছে, কাবুল চাইলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আর তালেবান মনে করছে, পাকিস্তান নিজের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় আফগানিস্তানের ওপর চাপাচ্ছে।
এই পারস্পরিক অবিশ্বাসের পরিবেশে বিমান হামলা একটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে কাজ করলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান তৈরি করতে পারছে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে তা বিপরীত ফল দিচ্ছে। কারণ আফগানিস্তানের ভেতরে হামলায় যদি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়, তাহলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ে। এই ক্ষোভ আফগান জনমতকে তালেবান সরকারের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তালেবান তখন নিজেকে আফগান সার্বভৌমত্বের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পায়।
সামরিকভাবে দুর্বল হলেও তালেবান বয়ানের লড়াইয়ে দক্ষ। তারা পাকিস্তানের হামলাকে বিদেশি আগ্রাসন হিসেবে দেখাতে পারে। এতে দেশটির ভেতরে তালেবানবিরোধী অনেক মানুষও সাময়িকভাবে পাকিস্তানবিরোধী অবস্থানে চলে যেতে পারেন। যে আফগানরা নারী শিক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা রাজনৈতিক দমন-পীড়ন নিয়ে তালেবানের সমালোচনা করতেন, তাঁরাও বিদেশি হামলার প্রশ্নে তালেবানের ভাষার কাছাকাছি চলে যেতে পারেন। পাকিস্তানের জন্য এটি বড় কৌশলগত পরাজয়।
আরেকটি সমস্যা হলো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কেবল স্থায়ী ঘাঁটির ওপর নির্ভর করে না। তারা সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল, স্থানীয় সহায়তা, আদর্শিক নেটওয়ার্ক, ছোট ছোট চলমান দল এবং দ্রুত স্থান বদলের কৌশল ব্যবহার করে। কোনো একটি ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালালে কিছু সদস্য নিহত হতে পারে, অস্ত্র বা আশ্রয়স্থল ধ্বংস হতে পারে। কিন্তু সংগঠনের কাঠামো, নিয়োগের পথ, অর্থায়ন, প্রচার এবং স্থানীয় ভয়ের রাজনীতি যদি অক্ষত থাকে, তাহলে তারা আবার সংগঠিত হতে পারে।
এই কারণেই শুধু আকাশ থেকে বোমা ফেলে সশস্ত্র নেটওয়ার্ক নির্মূল করা কঠিন। সামরিক আঘাত একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু সেটি একমাত্র কৌশল হলে ফল দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বিশেষ করে যখন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ দুর্বল, গোয়েন্দা তথ্য অসম্পূর্ণ, স্থানীয় প্রশাসন ভঙ্গুর এবং জনগণের আস্থা কম, তখন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বারবার ফিরে আসার সুযোগ পায়।
পাকিস্তানের ভেতরেও সমস্যা কম নয়। খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানের অনেক এলাকায় রাষ্ট্রের উপস্থিতি নিরাপত্তা বাহিনীকে কেন্দ্র করে। উন্নয়ন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্থানীয় রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং বিচারপ্রাপ্তির ঘাটতি থাকলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিজেদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পায়। তারা ভয়, ধর্মীয় বয়ান, রাষ্ট্রবিরোধী ক্ষোভ এবং স্থানীয় অসন্তোষকে ব্যবহার করে নতুন সদস্য সংগ্রহ করতে পারে।
করাচির মতো বড় শহরে হামলা দেখায়, সমস্যা শুধু সীমান্ত অঞ্চলে আটকে নেই। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখন বার্তা দিতে চায় যে তারা শুধু পাহাড় বা উপজাতীয় এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং বড় শহরেও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আঘাত হানতে সক্ষম। জামাত-উল-আহরারের করাচি হামলা তাই শুধু একটি নিরাপত্তা ঘটনা নয়, এটি নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার প্রচেষ্টা। তারা দেখাতে চেয়েছে, তারা এখনো সক্রিয়, সংগঠিত এবং উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম।
জামাত-উল-আহরারের অবস্থানও জটিল। এটি কখনো পাকিস্তান তালেবান থেকে আলাদা হয়েছে, কখনো আবার কাছাকাছি এসেছে। এমন গোষ্ঠীগুলো অনেক সময় বড় নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে আবার নিজেদের আলাদা পরিচয়ও বজায় রাখে। এতে রাষ্ট্রের জন্য তাদের মোকাবিলা আরও কঠিন হয়। কারণ একটি গোষ্ঠীর ওপর আঘাত করলেই পুরো নেটওয়ার্ক দুর্বল হয় না। বরং নতুন নামে, নতুন জোটে বা ভিন্ন নেতৃত্বে তারা আবার ফিরে আসতে পারে।
পাকিস্তানের বড় ভুল হলো প্রতিটি হামলার পর প্রায় একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেওয়া। বড় হামলা হয়, সীমান্তের ওপারে বিমান হামলা হয়, কাবুল প্রতিবাদ জানায়, ইসলামাবাদ হুঁশিয়ারি দেয়, কিছুদিন উত্তেজনা বাড়ে, এরপর আবার নতুন হামলা হয়। এই পুনরাবৃত্তি দেখায়, কৌশলটি সমস্যার মূল ধরতে পারছে না। এটি আগুনের শিখায় পানি ঢালছে, কিন্তু আগুনের উৎস বন্ধ করছে না।
সন্ত্রাস দমন কৌশলে ধারাবাহিকতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সামরিক অভিযান, গোয়েন্দা সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় উন্নয়ন, রাজনৈতিক সংলাপ, বিচারব্যবস্থা, অনলাইন প্রচার মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি—সবকিছু একসঙ্গে কাজ করতে হয়। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সামরিক প্রতিক্রিয়া দ্রুত আসে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও সামাজিক কৌশল দুর্বল থাকে।
আফগান তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কও এক ধরনের দ্বৈত সংকটে আটকে গেছে। একদিকে ইসলামাবাদ কাবুলের ওপর চাপ তৈরি করতে চায়। অন্যদিকে পুরো সম্পর্ক ভেঙে ফেলতেও চায় না। কারণ আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য, সীমান্ত, শরণার্থী, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক কূটনীতি—সবকিছুই পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই পাকিস্তান একদিকে হামলা চালায়, অন্যদিকে আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়। কিন্তু এই দুই পথ একসঙ্গে চললে বিশ্বাস তৈরি হয় না।
তালেবান সরকারেরও সীমাবদ্ধতা আছে। তারা হয়তো কিছু গোষ্ঠীকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, আবার করতে চাইলেও রাজনৈতিক ঝুঁকি থাকে। পাকিস্তান তালেবান ও আফগান তালেবানের অনেক যোদ্ধার মধ্যে পুরোনো যুদ্ধস্মৃতি, আদর্শিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত সংযোগ আছে। কাবুল যদি পাকিস্তানের চাপে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হয়, তাহলে তালেবানের ভেতরেও অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। ফলে আফগান তালেবান পাকিস্তানের প্রত্যাশা অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী নয়।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আফগান শরণার্থী প্রশ্ন। পাকিস্তান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিপুলসংখ্যক আফগান নাগরিককে বহিষ্কার করেছে। ইসলামাবাদের ভাষায় এটি নিরাপত্তা ও নথিপত্রের বিষয়। কিন্তু আফগানদের চোখে এটি মানবিক সংকট এবং রাজনৈতিক চাপ। ফলে দুই দেশের মানুষের স্তরেও অবিশ্বাস বেড়েছে। এমন পরিবেশে সন্ত্রাস দমন সহযোগিতা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, অতিরিক্ত সামরিক নির্ভরতা শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রচারকে শক্তিশালী করতে পারে। তারা বলতে পারে, পাকিস্তান মুসলিম প্রতিবেশী দেশের সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করছে। তারা বেসামরিক মৃত্যুকে নিজেদের নিয়োগ প্রচারের অস্ত্র বানাতে পারে। এতে যে হামলা সশস্ত্র গোষ্ঠী দুর্বল করার জন্য করা হয়েছিল, সেটিই নতুন ক্ষোভ ও নতুন সদস্য তৈরির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো রাষ্ট্র যদি নিয়মিত অন্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, তাহলে তা সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন তোলে। পাকিস্তান বলছে, আত্মরক্ষার জন্য এসব হামলা জরুরি। কিন্তু আফগানিস্তান বলছে, এটি আগ্রাসন। এই বিতর্ক দীর্ঘ হলে সীমান্ত সংঘর্ষ আরও বড় আকার নিতে পারে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সামরিক উত্তেজনা বাড়লে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা নড়বড়ে হয়ে যাবে।
এই সংকটের সমাধান সহজ নয়। পাকিস্তান সত্যিই যদি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দুর্বল করতে চায়, তাহলে তাকে শুধু প্রতিশোধমূলক হামলার বাইরে যেতে হবে। সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, গোয়েন্দা সক্ষমতা উন্নত করা, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আস্থা তৈরি করা, সশস্ত্র গোষ্ঠীর অর্থ ও প্রচার নেটওয়ার্ক ভাঙা, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে কঠিন হলেও বাস্তবসম্মত আলোচনায় বসা দরকার।
কাবুলের ওপর চাপ দরকার হতে পারে, কিন্তু সেই চাপ যদি কেবল বোমা ও গোলাবর্ষণের ভাষায় হয়, তাহলে ফল উল্টো হতে পারে। তালেবান সরকারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক কূটনীতির মাধ্যমে দায়বদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানকেও নিজের ভেতরের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা দুর্বলতা স্বীকার করতে হবে। সব সমস্যার উৎস আফগানিস্তান—এই ধারণা নিরাপত্তা নীতিকে সহজ করে দেখায়, কিন্তু বাস্তবতা আড়াল করে।
পাকিস্তানের সামনে এখন কঠিন সিদ্ধান্ত। তারা কি একই চক্র চালিয়ে যাবে—হামলা, পাল্টা হামলা, অভিযোগ, প্রতিবাদ, আবার হামলা? নাকি তারা বুঝবে যে সশস্ত্র গোষ্ঠী দমন শুধু সামরিক শক্তির বিষয় নয়, রাষ্ট্রীয় নীতি, স্থানীয় আস্থা এবং আঞ্চলিক কূটনীতির সমন্বিত পরীক্ষা?
আফগানিস্তানে বিমান হামলা পাকিস্তানের ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারে, সাময়িক প্রতিশোধের অনুভূতি দিতে পারে, কিছু লক্ষ্য ধ্বংসও করতে পারে। কিন্তু যদি সেই হামলা সশস্ত্র গোষ্ঠীর রাজনৈতিক বয়ানকে শক্তিশালী করে, আফগান জনমতকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঠেলে দেয় এবং পাকিস্তানের ভেতরের নিরাপত্তা দুর্বলতা অক্ষত রাখে, তাহলে এটি স্থায়ী সমাধান নয়।
শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের সংকটের মূল কথা হলো, তারা সীমান্তের ওপারে শত্রু খুঁজছে, কিন্তু সমস্যার বড় অংশ সীমান্তের দুই পাশেই ছড়িয়ে আছে। এই সমস্যা বোমা দিয়ে শুরু করা যায়, কিন্তু বোমা দিয়ে শেষ করা যায় না। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সত্যিই দুর্বল করতে হলে পাকিস্তানকে শক্তির পাশাপাশি রাজনীতি, কূটনীতি, উন্নয়ন এবং জনআস্থার পথেও হাঁটতে হবে। অন্যথায় আফগান আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ থেমে গেলেও পাকিস্তানের ভেতরের অস্থিরতা থামবে না।

