১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানকে সামরিক সহায়তা দেওয়া এবং অস্ত্র সরবরাহ ঘিরে দেশটির অভ্যন্তরে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে ওঠার বিভিন্ন ঘটনা ইতিহাসে আলোচিত। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরুদ্ধে মানবাধিকারকর্মী ও যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ পাওয়া যায়। সূত্র: ডয়চে ভেলে বাংলা
ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনের বরাতে বলা হচ্ছে, সেই সময় বাল্টিমোর ও ফিলাডেলফিয়ার মতো বন্দরে পাকিস্তানের জন্য অস্ত্রবোঝাই জাহাজ রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। তবে যুদ্ধবিরোধী মার্কিন অ্যাক্টিভিস্টরা সেই অস্ত্র পরিবহনের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিবাদ ও অবরোধ কর্মসূচি চালান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আন্দোলনকারীরা ছোট নৌকা ব্যবহার করে বন্দরে প্রতীকী অবরোধ তৈরি করেন এবং জাহাজ চলাচল ও মালামাল লোডিং প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এসব কর্মসূচি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিক অংশ হিসেবেই তখনকার রাজনৈতিক পরিবেশে গড়ে ওঠে।
একই প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি গবেষক সুলতানা আলম একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অ্যাক্টিভিস্টদের সহায়তায় জাহাজের শ্রমিকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান। সেখানে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি, যুদ্ধের মানবিক সংকট ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ তুলে ধরেন বলে দাবি করা হয়।
তবে ঐতিহাসিকভাবে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত মূলধারার দলিল ও গবেষণায় এই নির্দিষ্ট বক্তৃতা ও তার সরাসরি প্রভাব—যেমন জাহাজের শ্রমিকদের অস্ত্র লোড করতে অস্বীকৃতি জানানো—এই অংশটি ব্যাপকভাবে নথিভুক্ত নয়। ফলে বিষয়টি অনেকাংশে স্মৃতিনির্ভর বর্ণনা বা সীমিত সূত্রভিত্তিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
তৎকালীন বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে ইতিহাসবিদরা উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে সমর্থন দিলেও দেশটির অভ্যন্তরে যুদ্ধবিরোধী জনমত এবং মানবাধিকার আন্দোলন ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এর ফলে বিভিন্ন স্থানে প্রতীকী প্রতিবাদ, বিক্ষোভ এবং অস্ত্র পরিবহনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব আন্দোলন সরাসরি যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন না করলেও আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে এবং বাংলাদেশ ইস্যুকে বিশ্বমঞ্চে আলোচনায় আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

