ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জন্য শোকের অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি দলের সামনে পবিত্র কুরআন থেকে নির্বাচিত বিভিন্ন আয়াত তিলাওয়াত করা হয়েছে।
সুচিন্তিতভাবে বাছাই করা হয়েছে আয়াতগুলো। যাতে দেশগুলোর প্রতি ইরানের দৃষ্টিভঙ্গিও ফুটে উঠেছে। ভাতৃপ্রতিম বন্ধু দেশের জন্য শাহাদাতের মর্যাদা, বিশ্বাসীদের ঐক্যের আয়াত। বিপরীতে শত্রুপক্ষের জন্য কাফিরদের পরিণতি ও ভুলত্রুটি ক্ষমার আয়াত।
খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসল্লায় পৌঁছায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। ১১ দলীয় জোটের নেতারা যখন তাঁর কফিনে শ্রদ্ধা জানান, তখন তিলাওয়াত করা হয়, সুরা আল ইমরানের ১৬৯-১৭০ আয়াত। যেখানে আল্লাহর পথে জীবন উৎসর্গকারীর মর্যাদার কথা উল্লেখ করা আছে। আয়াতটিতে বলা হয়, ‘আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছেন, তাদেরকে তুমি কখনো মৃত মনে করো না; বরং তারা নিজেদের রবের নিকট জীবিত, তারা (তাঁর পক্ষ থেকে) রিযিকপ্রাপ্ত। আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা দিয়েছেন, তাতে তারা আনন্দিত এবং তাদের পেছনে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি (অর্থাৎ জীবিত আছে), তাদের জন্য তারা এ সুসংবাদ গ্রহণ করে যে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।’
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ যখন শ্রদ্ধা জানাচ্ছিলেন, তখন পাঠ করা হয় সুরা আল আহযাবের ২৩ নম্বর আয়াত। সেখানেও শহীদদের জন্য আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু পুরুষ রয়েছে, যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে। তাদের কেউ কেউ নিজের মানত পূর্ণ করেছে (শহীদ হয়েছে), আর কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের অঙ্গীকারে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন করেনি।’
বিভিন্ন দেশের ডেলিগেটদের শ্রদ্ধার আনুষ্ঠানিকতাকে দুই ভাগে সাজিয়েছে ইরান। উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মর্যাদা অনুযায়ী সামরিক বাহিনীর মার্চ পাস্টের মাধ্যমে সম্মান জানানো হয়।
প্রতিনিধিরা নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালে থেমে যায় রণসংগীত। কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে নিরবতা ভাঙেন একজন ক্বারী।
মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্র সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলের সময় তিলাওয়াত করা হয়, সূরা আলে-ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত। যাতে ইসলামের জন্য গৌরবোজ্জ্বল বদর যুদ্ধের বর্ণনা রয়েছে। আয়াতে বলা হয়, বদরে দুটি দল ছিল, যাদের একদল আল্লাহর পথে লড়াই করেছে। অপরদল ছিল কাফির।
আয়াতটির অর্থ— ‘তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন আছে, সেই দু-দল সৈন্যের মধ্যে, যারা পরস্পর প্রতিদ্বন্দীরূপে দাঁড়িয়েছিল (বদর প্রান্তরে)। একদল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছিল এবং অপরদল ছিল কাফির, কাফিররা মুসলিমদেরকে প্রকাশ্য চোখে দ্বিগুণ দেখছিল। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে স্বীয় সাহায্যের দ্বারা শক্তিশালী করে থাকেন, নিশ্চয়ই এতে দৃষ্টিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।’
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীকে প্রত্যক্ষ কোনো সহায়তা করেনি কাতার। তাদের প্রতিনিধি দলের জন্য তিলাওয়াত করা হয় ভুলক্রটি মার্জনার আয়াত। পাঠ করা হয়, সূরা আল-ফাতহর ১ আয়াত থেকে ৩ নম্বর পর্যন্ত। যেখানে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় আমি আপনাকে সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি, যেন আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যতের ত্রুটিসমূহ মার্জনা করে দেন এবং আপনার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করেন আর আপনাকে সরল পথে পরিচালিত করেন। এবং আল্লাহ আপনাকে বলিষ্ঠ সাহায্য দান করেন।
ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি দলের সময় তুলে ধরা হয় পবিত্র আল আকসার কথা। আর হামাসের শ্রদ্ধার সময় তিলাওয়াত করা হয় সুরা আহযাবের ২৩ নম্বর আয়াত। যেখানে শহীদদের প্রতি আল্লাহার অঙ্গীকার পূর্ণ করার কথা বলা হয়েছে।

